যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পথে পাহাড়সমান বাধা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি নিয়ে গত ১৫ জুন আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ক্রাইসিস গ্রুপ এই বিশ্লেষণটি প্রকাশ করেছে। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় সেটি প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (মাঝে) ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ (বামে)। ছবিটি ১৮ জুন ২০২৬ মাখোঁর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া।ছবি: এএফপি
আরও পড়ুন

প্রথমত, এটি গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও স্থিতিশীল করবে। সেই যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘর্ষ থামালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ইরানের হামলা, লেবানন ঘিরে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং আরও বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়ে গিয়েছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরানের জাহাজে হামলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যায়।

এই সমঝোতার প্রথম কাজ হবে এই পারস্পরিক অবরোধ কমিয়ে আনা এবং ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আবার বাণিজ্য চালু করা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর দিকেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, এই সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের সামনে আগামী ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে তারা আরও বিস্তারিত একটি চুক্তির দিকে এগোতে পারবেন।

আরও পড়ুন

২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের আগে একাধিক দফা আলোচনায় এই ধরনের একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এবার সেই সুযোগ তৈরি হলো। মূল বিষয়গুলো আগেই স্পষ্ট হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় আন্তর্জাতিক পরিদর্শন কীভাবে আবার শুরু হবে; জুন ২০২৫-এর আগে উৎপাদিত বিভাজ্য উপাদানের কী হবে; প্রায় এক বছর অস্বচ্ছ থাকা পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে; এবং এর বিনিময়ে ইরান কতটা অর্থনৈতিক ছাড় পাবে—এ সবই এই সমঝোতার মূল বিষয়।

ওয়াশিংটন ও তেহরান ধাপে ধাপে এগোনোর একটি পরিকল্পনায় রাজি হতে পেরেছে। তাদের মধ্যে প্রথমে ছোট একটি সমঝোতা হয়েছে, যেখানে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর কিছুটা আস্থা তৈরি করবে, তারপর ধীরে ধীরে বড় ও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে। এটা ছোট কোনো সাফল্য নয়।

এতে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ আর আগের ব্যর্থ আলোচনার অভিজ্ঞতা থেকে তারা কিছুটা হলেও শিখেছে।

আরও পড়ুন

হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় এলাকায় যে অবরোধ আর পাল্টা অবরোধ চলছিল, তা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যেখানে দুই পক্ষই একে অপরকে ক্ষতি করতে পারছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষেরই ক্ষতি হচ্ছিল।

এই নতুন সমঝোতা সেই ধরনের সংঘাত কমাতে সাহায্য করবে এবং ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করবে, যেখানে লড়াই করলে সবাই হারায়।
একই সঙ্গে, এই চুক্তি উভয় পক্ষকেই নিজেদের কিছুটা জয় দাবি করার সুযোগ দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত বলবে, এই সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি আবার বাধাহীনভাবে বাণিজ্যের জন্য খুলে যাচ্ছে, অর্থাৎ যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করবে, তারা এখনো সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা চাইলে তারা বন্ধ করে দিতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, এই চুক্তি মানে হলো—কোনো পক্ষই পুরোপুরি জিততে পারেনি, আর কেউই অন্য পক্ষকে একেবারে হারিয়ে দিতে পারেনি। তবে দুই পক্ষেরই একে অপরের বড় ক্ষতি করার ক্ষমতা আছে।

এই সমঝোতা টেকসই হবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা এখনই সম্ভব নয়। কারণ, এর বিস্তারিত শর্তগুলো এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তাই অনেক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ইরান পারমাণবিক আলোচনাকে কিছুটা পিছিয়ে দিতে চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় অন্তত মৌলিক বিষয়গুলো লিখিতভাবে ঠিক থাকুক। এই দুই অবস্থান কীভাবে মিলেছে, সেটাই স্পষ্ট নয়।

ইরান কতটা দ্রুত অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালিত হবে, এবং দুই পক্ষ একইভাবে চুক্তিটা বুঝছে কি না—এগুলো নিয়েও এখনো অনিশ্চয়তা আছে।

বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের উপস্থিতি এবং সেখানে ইসরায়েলি সেনা ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি খুব দ্রুতই এই সমঝোতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। সমঝোতার আগে এবং ঘোষণার দিনেও সতর্কবার্তার অভাব ছিল না।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই চুক্তির শর্ত হলো লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকার সেখানে নিজেদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রাখতে চায়।

এত গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশে এই সমঝোতায় পৌঁছানোই ছিল কঠিন। বিশেষ করে ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি খুব কঠিন, কারণ, আলোচনার মাঝেই তারা দুবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে দুই দেশের ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিলতা। একদিকে ইরানের ঐতিহাসিকভাবে অস্বচ্ছ ব্যবস্থা; যে ব্যবস্থা যুদ্ধের শুরুতেই বহু শীর্ষ নেতার মৃত্যুর ফলে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে সব সময়ই ছিল নতুন হামলার আশঙ্কা।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনো পেছনে থেকেছে, আবার কখনো সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করে সংঘর্ষকে আরও বাড়তে দেয়নি। এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতার প্রবল বিরোধী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ন্ত্রণে আনতেও ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লেবাননে উত্তেজনা বাড়লে এই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে, আর এই পরিস্থিতি ঠেকাতে ওয়াশিংটনকে তার প্রভাব খাটাতেই হবে।

এত গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশে এই সমঝোতায় পৌঁছানোই ছিল কঠিন। বিশেষ করে ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি খুব কঠিন, কারণ, আলোচনার মাঝেই তারা দুবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে দুই দেশের ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিলতা।

একদিকে ইরানের ঐতিহাসিকভাবে অস্বচ্ছ ব্যবস্থা; যে ব্যবস্থা যুদ্ধের শুরুতেই বহু শীর্ষ নেতার মৃত্যুর ফলে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে সব সময়ই ছিল নতুন হামলার আশঙ্কা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এখন আছেন এমন একজন অভূতপূর্ব অনিশ্চিত ও অস্থির স্বভাবের প্রেসিডেন্ট, যাঁর ওপর ভরসা করা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে একটি বিস্তারিত ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো আরও কঠিন হবে।

প্রাথমিক এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে; কারণ, দুই পক্ষই নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানে দেখাতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্র তার বিপুল সামরিক ক্ষমতা ও ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা তুলে ধরতে পারছে।

আবার ইরানও দেখাতে পারছে, তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে। কিন্তু এই একই বাস্তবতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আপসের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, কোনো পক্ষই সহজে বড় ছাড় দিতে রাজি হবে না।

আগের পারমাণবিক আলোচনাগুলো (সফল হোক বা ব্যর্থ হোক) দেখিয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করা খুব কঠিন। বিশেষ করে অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো জটিল বিষয়গুলো অল্প সময়ে ঠিক করা প্রায় অসম্ভব। মাত্র দুই মাসে সেটা শেষ করা আরও কঠিন।

তবে আলোচনা চলতে থাকা কাঠামো এবং আবার যুদ্ধ শুরু হলে কী ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে—এই দুই বাস্তবতা আলোচকদের চুক্তির বিষয়ে আরও মনোযোগী করে তুলতে পারে।

যদি কিছু খবর সত্যি হয়, তাহলে ইরান নীতিগতভাবে বহু বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছে। তবে শর্ত হলো, এর মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

এমন হলে পারমাণবিক বিস্তারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যেতে পারে। একইভাবে, ইরান তাদের জমিয়ে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতেও রাজি হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে, আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা বড় আর্থিক সহায়তা তহবিল তৈরি করার কথা বলেছিলেন। এতে ইরান পারমাণবিক বিষয়ে বড় ছাড় দিতে আগ্রহী হতে পারে।

তবু একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিশ্চিত নয়। প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতভেদ রয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কত বছর বন্ধ থাকবে; সেই সময় শেষ হলে ইরান কী করতে পারবে; সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে সরানো ও যাচাই করা হবে; আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার পরিদর্শন কতটা কঠোর হবে এবং গোপন কোনো কর্মসূচি নেই, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে; নিষেধাজ্ঞা কতটা শিথিল করা হবে; এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে—এসব প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত ও জটিল রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোন পদক্ষেপ আগে নেওয়া হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অবিশ্বাসের কারণে আগে থেকেই বাস্তব সুবিধা পেতে চাইবে, আর যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই বড় সুবিধা দিতে অনিচ্ছুক থাকবে। ফলে এই জায়গাটিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনকে ধৈর্য ধরে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার সহায়তায় আলোচনা চালাতে হবে। অন্যদিকে ইরানের নতুন নেতৃত্বও কতটা বড় আপসে রাজি হবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

উভয় পক্ষকেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাপ সামলাতে হবে; আর ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের চাপও থাকবে। কারণ, এই সমঝোতা যদি তাদের সর্বোচ্চ প্রত্যাশা পূরণ না করে, তাহলে বিরোধিতা বাড়বে এবং আলোচনার জায়গা আরও সংকুচিত হবে।

তার ওপর রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক চাপ। তিনি বারবার দেখাতে চান, ২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির (যে চুক্তিকে তিনি নিজেই প্রথম দফায় বাতিল করেছিলেন) চেয়ে তিনি আরও ভালো কিছু করতে পেরেছেন। এই চাপও আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

সহজভাবে বললে, এখানে কয়েকটা সম্ভাব্য পরিস্থিতি একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
প্রথমটা হলো, ৬০ দিনের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না-ও হতে পারে। তখন আলোচনা আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলবে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান না-ও আসতে পারে।

আরেকটা সম্ভাবনা হলো, আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তাহলে এখন পর্যন্ত যত অগ্রগতি হয়েছে, সব নষ্ট হয়ে যাবে। ভেতরের রাজনৈতিক চাপ আর আঞ্চলিক উত্তেজনাও এই দিকেই পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারে।

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো হামলার জন্য প্রস্তুত এবং ‘ট্রিগারে আঙুল’ রাখা আছে। তিনি যেভাবে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর কথা বলেছেন, তাতে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।

আরেকটি দৃশ্যপট হলো—দুই পক্ষই মনে করতে পারে যে তারা কিছুটা সফল হয়েছে। তাই তারা একটি অস্থায়ী, দুর্বল ভারসাম্যের অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকবে। এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে, কিন্তু সব সময় নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। ফলে যুদ্ধের আগের মতো স্বাভাবিক বাণিজ্য আর ফিরে আসবে না।

এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আবার শুরু হলে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে তা থামানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু কোনো স্থায়ী ও সম্মত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো না থাকায় সেই কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

অন্যদিকে তেহরান সমঝোতা স্মারকে যে সীমিত অর্থনৈতিক সুবিধার কথা বলা হয়েছে, তা পেলেও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বড় অংশ পাবে না, যেটা তাদের অর্থনীতি পুনর্গঠন, পুনরুদ্ধার এবং জনগণের চাহিদা পূরণের জন্য খুব জরুরি। তাই এই অবস্থাটা হবে অস্বস্তিকর, অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।

তবু যদি বিকল্প হয় আবার যুদ্ধ, তাহলে এই অসম্পূর্ণ সমঝোতাকেই মেনে নেওয়া তুলনামূলকভাবে বেশি যুক্তিসংগত।

সব মিলিয়ে বোঝা যায়, এই সমঝোতা যা-ই হোক না কেন, যুদ্ধের এই অস্পষ্ট সমাপ্তি একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সেটি হলো, অতিরঞ্জিত হুমকি আর অতিরিক্ত আশাবাদ দিয়ে শুরু করা ‘পছন্দের যুদ্ধ’ সাধারণত যে সমস্যাগুলো সমাধান করতে চায়, বাস্তবে সেগুলোকে আরও বড় ও জটিল করে তোলে।

ইরান প্রসঙ্গে আরেকটা কঠিন বাস্তবতা হলো—বহু বছর ধরে কঠোর চাপ, অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে সামরিক শক্তি প্রয়োগ পর্যন্ত সব চেষ্টা করা হয়েছে।

তবু দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত কূটনীতিই একমাত্র পথ, যেটা কিছুটা ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তাই এই বাস্তবতা থেকে বোঝা যায়, এবার কূটনীতিকে কম নয়; বরং আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।