কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে

  • তাত্ত্বিকভাবে সেতুর মেয়াদ ৬০-৭০ বছর হয়। তবে পদ্মা সেতু এক শ বছরও পার হয়ে যেতে পারে।

  • প্রতি পিলারের নিচে পাইল ছয়টি থেকে বাড়িয়ে সাতটি করা হয়েছে। স্কিন গ্রাউটও করা হয়েছে।

  • পাইলের আড়াই ইঞ্চি পুরু লোহার ওয়েল্ডিং কাজের টেকনিশিয়ানদের ৬০ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি।

  • করোনা না এলে আরও কম সময় লাগত। ২০১৪ থেকে ২০২০-এর মধ্যে হলে ভেরি গুড হতো।

অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়া

প্রয়াত অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর সঙ্গে পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর কারিগরি নানা দিক নিয়ে কাজ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়া। জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান। তাঁর মৃত্যুর পর এই দায়িত্ব পান শামীম জেড বসুনিয়া। তিনি সেতু নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্ভূত কারিগরি সমস্যা, এর সমাধান, সেতুর কাজের মান, কাজের অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: আপনি পদ্মা সেতুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রথমে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য। এরপর এই প্যানেলের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন। উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে এসে কেমন লাগছে আপনার?

শামীম জেড বসুনিয়া: আমি ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (আইইবি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হই। পরের বছরের মার্চে চট্টগ্রামে প্রকৌশলীদের সম্মেলন হয়। সেখানে আমি এবং জামিলুর রেজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলাম। সেখানে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আমাকে ডাকেন। যেহেতু আমি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের মনোনয়নে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। তা ছাড়া আগে থেকেও পরিচয় ছিল। চা খাওয়ার সময় তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, আচ্ছা পদ্মা সেতুর কাজ ছয় মাসের মধ্যে শুরু করতে পারবেন না? আমি তো বেকায়দায় পড়েছি। তার আগে আমি তো প্রস্তুত ছিলাম না। আমি তখন বললাম, আমার স্যার (জামিলুর রেজা চৌধুরী) তো আছেন। জামিলুর রেজা চৌধুরী তখন বাইরে বসা। তিনিও ভেতরে এলেন। তিনি বললেন, শুরু করেন। এরপরই আমাকে একজন সদস্য হিসেবে রাখা হয়। বিশেষজ্ঞ দলে আমি আর জামিলুর রেজ চৌধুরী দুজনই ছিলাম অবকাঠামো বিষয়ের সঙ্গে। এর পর থেকে দরপত্র মূল্যায়ন শুরু হয়, কাজ শুরু করলাম। সেতু উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে এসে আমার আবেগ ও আনন্দের কোনো শেষ নেই। আল্লাহ যে এত দিন বাঁচিয়ে রেখেছেন আমাদের, এটার যে শেষ দেখে যেতে পারব, হয়তো এটা আমাদের জন্য দিগ্বিজয়।

প্রশ্ন :

বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রকাশ ও অর্জনকে কীভাবে দেখেন?

শামীম জেড বসুনিয়া: এই সেতু শুধু একটি নদীর দুই প্রান্তকেই যুক্ত করছে না, বরং দুই প্রান্তের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা ও আবেগকেও একই সূত্রে গেঁথেছে। এটি শুধু কংক্রিট আর ইস্পাতের কাঠামোই নয়, এটি দেশের দুই প্রান্তের সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের মেলবন্ধন। আবার গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলমান বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এক অনন্য নিদর্শন। এ শুধু সেতু নয়, এ হলো সেতুবন্ধ। পদ্মা সেতু মানুষের সংকল্প, চেতনা ও পরিশ্রমের ফসল। এই সেতু বাঙালি জাতির আনুগত্য, অহংকার ও ঔদ্ধত্যের প্রতীক।

প্রশ্ন :

পদ্মা সেতুর পুরো কর্মযজ্ঞ শেষ করতে পাঁচটি প্যাকেজে ঠিকাদার, অনেক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিসহ নানা কমিটি-উপকমিটি কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান হিসেবে সবার সঙ্গে আপনার যুক্ততা ছিল। কাজ করতে গিয়ে বিশেষ কোনো ঘটনা আছে, যা পাঠককে জানাতে চান?

শামীম জেড বসুনিয়া: একবার এক চাইনিজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলল, আমরা দরপত্র জমা দেব। আমাদের পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা বললাম, না। কারিগরি কমিটির কাছে পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়া যাবে না। এটা মন্ত্রণালয়ের কাছে চাইতে হবে। তারা এটা গ্রহণ করে নেয়।

এরপর মূল্যায়ন করে আমরা তিনটি কোম্পানির নাম সুপারিশ করলাম। ঠিকাদারদের সঙ্গে একটা বৈঠকে দেখলাম, পাইলিং কাজে সবারই সহযোগী একটি কোম্পানি। তখন হাসতে হাসতে বলেছিলাম, তোমাদের তিন পক্ষের একপক্ষ তো কাজটি পাবেই। তাহলে তোমরা এখনই শুরু করে দাও। তখন তারা এ কথা শুনে হেসে বলল, এটা তো সম্ভব নয়।

পরে নদীশাসনের দরপত্র খোলার পর দেখি সিনোহাইড্রো করপোরেশন ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছে। পরের কোম্পানি প্রস্তাব করেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা, তৃতীয় কোম্পানির প্রস্তাব ১৬ হাজার কোটি। আমরা দেরি না করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করলাম। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে ফাইল নিয়ে গেলে তিনিও তিন ঠিকাদারের পার্থক্য দেখে অনুমোদন দিতে কালবিলম্ব করেননি।

প্রশ্ন :

ঋণদাতা সংস্থাগুলোর অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের কিছু নীতিমালা মানতে হয়। পদ্মা সেতু প্রথমে আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণে করার কথা ছিল। পরে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করেছি। কেনাকাটা, ঠিকাদার নিয়োগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কি মানা গেছে?

শামীম জেড বসুনিয়া: এটা খুবই ভালো প্রশ্ন। এটা অনেকে জানতে চায় না। বিশ্বব্যাংকের যে নীতিমালা ছিল, সেটাই অনুসরণ করা হয়েছে। একবিন্দুও এদিক-ওদিক করা হয়নি। আমরা নিজেরা কিছু বানাইনি। শুধু অর্থায়নের উৎস পরিবর্তন হয়েছে। কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক যেভাবে কাজ করতে চেয়েছিল, যেভাবে রাখতে চেয়েছিল, ঠিক সেভাবেই হয়েছে।

তাত্ত্বিকভাবে সেতুর মেয়াদ ৬০-৭০ বছর হয়। তবে পদ্মা সেতু এক শ বছরও পার হয়ে যেতে পারে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ১০৭ বছর হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ একটা বড় বিষয়।

প্রশ্ন :

পদ্মা সেতু দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার বদল আনবে—এটা সমীক্ষায় এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই সেতু নির্মাণের ফলে কারিগরিভাবে বাংলাদেশ কী কিছু অর্জন করতে পেরেছে? অর্থাৎ টেকনোলজি ট্রান্সফারের দিক থেকে আপনি কি কোনো অর্জন দেখছেন?

শামীম জেড বসুনিয়া: পদ্মা সেতুর মতো বড় নির্মাণকাজের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি দরকার। এগুলো বিদেশি ঠিকাদার ছাড়া কঠিন। তবে কাজ বিদেশিরা পেলেও আমাদের অর্জনও কম নয়। সেতুর পাইলের আড়াই ইঞ্চি পুরু লোহার ওয়েল্ডিং কাজের টেকনিশিয়ানদের ৬০ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি। নদীশাসনে বাংলাদেশিরা কাজ করেছে। সেতু নির্মাণে ৫০০-র বেশি দেশীয় প্রকৌশলী কাজ করেছেন।

প্রশ্ন :

সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এই বিষয়ে যদি কিছু বলেন।

শামীম জেড বসুনিয়া: এটা সরকারের একটি তাত্ত্বিক হিসাব। এটা-ওটা যোগ-বিয়োগ করে তৈরি করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের আগে বিশ্বব্যাংক চাইছিল সেতু করারই দরকার নেই। আরও ফেরি দিয়ে দাও, তোমাদের গাড়ি আর কয়টা? কিন্তু তৎকালীন সরকার এটা করেছে। এটা যে কী পরিবর্তন এনেছে, তা আপনারা দেখছেন। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে যে অনুমান করা হয়েছে এর চেয়ে বেশি ছাড়া কম হওয়ার সুযোগ নেই। ফেরি দিয়ে বাস-ট্রাকগুলো যেতে কত ঘণ্টা লাগত? গড়ে তিন ঘণ্টা। কখনো আড়াই ঘণ্টা, কোনো কোনো সময় পাঁচ ঘণ্টা। গড়ে তিন ঘণ্টা ধরলে, তিন ঘণ্টা সময় বাঁচবে। শ্রম ঘণ্টা বাঁচবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ যখন হয়, তখন সবকিছুর হিসাব হয়। অনেকে জিজ্ঞাসা করেছেন, টোল বেশি কি না। খুব বেশি তো না। ফেরির ভাড়ার চেয়ে দেড় গুণ। আপনার যে সময় বাঁচছে, আপনি সেটা দেখবেন না?

প্রশ্ন :

পদ্মা সেতু নির্মাণের আরেকটি দিক হলো সেতু অবকাঠামো তৈরিতে দেশের রড, সিমেন্ট ও স্টিলের মতো উপকরণের ব্যবহার। গত ১০০ বছরের সেতু নির্মাণের ইতিহাস দেখলে এটা আমাদের বড় সক্ষমতা। সামনের ১০০ বছরকে কীভাবে দেখছেন? আরও নতুন কোনো শিল্প কি
যুক্ত হবে?

শামীম জেড বসুনিয়া: বালু, সিমেন্ট ও রড পুরোপুরি স্থানীয়ভাবে নেওয়া হয়েছে, শতভাগ। বর্তমানে বাংলাদেশে সিমেন্টের অনেক ভালো ভালো কোম্পানি আছে। বর্তমান কোম্পানিগুলো প্রায় ৮০ হাজার মিলিয়ন টন সিমেন্ট তৈরি করে বছরে। রডেও কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা আছে। এখন পিউরিফায়েড রড তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা অতীতে কোনো সময়ই ছিলাম না। উত্তরোত্তর আরও উন্নতি হওয়া ছাড়া পথ নেই। কারণ, উৎপাদন খাতে উচ্চ প্রতিযোগিতা আছে। গ্রামেগঞ্জে দেখবেন এখন কিন্তু বাঁশের খুঁটি নাই। কংক্রিটের খুঁটি বানাচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় অবকাঠামোতে এই শিল্পের অবদান বাড়বে।

প্রশ্ন :

খরস্রোতা পদ্মায় সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি ছিল পাইলিং জটিলতা। ১৪টি স্থানে মাটির নিচে যে গভীরতায় শক্ত মাটি পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। নরম মাটির স্তর পাওয়া গেছে। বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে কি আপনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট? ভবিষ্যতে সেতুর কোনো ঝুঁকি আছে কি না?

শামীম জেড বসুনিয়া: এটাও খুব ভালো প্রশ্ন। মূল নকশায় পাইলগুলো বাঁকা আছে। প্রতি পিলারের নিচে ছয়টি পাইল ছিল। আমরা বললাম সাতটা পাইল দিয়ে করো। মাঝখানে জায়গা আছে একটা পাইল দেওয়া যায়। সবাই মিলে ঠিকঠাক করলো—একটা পাইল বাড়ালে চলবে, তবে স্কিন গ্রাউট (অতি মিহি সিমেন্ট মাটির নিচে পাঠিয়ে মজবুত করা) করতে হবে। পাইল বাড়ানো হয়েছে, স্কিন গ্রাউটও করা হয়েছে। ফলে এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নেই। আগের চেয়ে আরও নিরাপদ হয়েছে।

প্রশ্ন :

পদ্মা ভাঙনপ্রবণ নদী। এর স্রোতোধারাও বারবার পরিবর্তন হয়। আপনার কি মনে হয় যে নদীশাসন এলাকা আরও বাড়ানো দরকার ছিল?

শামীম জেড বসুনিয়া: দরকার নেই। মাওয়ার দিকে নদী স্থিতিশীল। এ জন্য এদিকে কম নদীশাসন হয়েছে। জাজিরা প্রান্ত ভাঙনপ্রবণ। ফলে ওই পাশে যাতে আর না ভাঙে, সেই বন্দোবস্ত করতে হয়েছে। নদীশাসন ভালোভাবে হয়েছে।

প্রশ্ন :

প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে চালু—২৪ বছরের যাত্রা। প্রকল্প নেওয়ার পর ধরলে সময়টা ১৫ বছর। একটা প্রকল্পের জন্য সময়টা কি বেশি মনে হয়নি? আরও আগে সেতু হলে কী সুবিধা হতো?

শামীম জেড বসুনিয়া: কতগুলো প্রক্রিয়া আছে। অনেক টাকাপয়সার ব্যাপার। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঋণ পাওয়া নিয়ে সময় নষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেশীয় অর্থে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। দরপত্র আহ্বান, নকশা প্রণয়ন—এসব পর্বে কাগজে-কলমেই অনেক দিন চলে যায়।

করোনা মহামারি না এলে আরও কম সময় লাগত। পাইলের জায়গায় ২৫-৩০ ফুট পলি পড়ল। ওখানে বড় বোটগুলো যেতে পারে না। নাব্যতা নেই। আবার ড্রেজিং করতে হলো। অনেক রকম বিষয় আছে। ছয় বছর হলে ভেরি গুড। ২০১৪ থেকে ২০২০-এর মধ্যে হলে ভেরি গুড হতো।

প্রশ্ন :

পদ্মা সেতুর নকশায় আর্কিটেকচারাল লাইটিংয়ের ব্যবস্থার কথা বলা আছে। তবে বিস্তারিত নমুনা নেই। এটা কি প্রকল্প থেকে বাদ পড়ছে?

শামীম জেড বসুনিয়া: এখন যে লাইট লাগানো হয়েছে, তা ভালোই। পুরো জিনিসটা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন করা। ইতিমধ্যে যেটা করেছে, ভালোই করেছে। আপনারা সেতুটিও যদি দেখেন, অনেক সুন্দর লাগে।

প্রশ্ন :

জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুর পর আপনি তাঁর দায়িত্ব নিলেন। বাড়তি কি কোনো চাপ অনুভব করেছেন?

শামীম জেড বসুনিয়া: জামিলুর রেজা চৌধুরী আমার দুই বছরের সিনিয়র। আমার সরাসরি শিক্ষক। ওনার মতো ব্রিলিয়ান্ট লোক আমি দুটো দেখিনি। উনি সুপার। ওনার সঙ্গে আমাদের তুলনা হয় না। দেশের জন্য উনি অনেক সময় দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে শুরু করে অনেক কিছুর দায়িত্বে ছিলেন। ফলে ওনার জায়গায় আমার যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, দরকারও নেই। তবে আমরা চেষ্টা করি হাতে-কলমে কাজ করার। সেটাই করার চেষ্টা করেছি।