ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি: গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর
ছবি: দলটির সৌজন্যে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। সংগঠনটি বলেছে, এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় নেতারা এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।

সভায় নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী’ শক্তি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। তাঁরা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, স্থাপনা ও ভাস্কর্য ধ্বংস করা হয়েছে। জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের দাবিও উঠেছে। বেগম রোকেয়ার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার চেষ্টা এবং তাঁর গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ ডাকসুর সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাঙালির ওপর উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার ঘোষণাকারী ও বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী হিসেবে জিন্নাহর এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী আলবদর বাহিনী গঠনের সঙ্গে যুক্ত ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানো ঘটনার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের নেতারা বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের প্রতিশোধস্পৃহার একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক বার্তা। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় গত দুই বছরে ধ্বংস হওয়া মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যগুলো সরকারি উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ এবং এসব ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে কর্মসূচি

সভায় হাম ও ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেন নেতারা। ডেঙ্গুর উৎপত্তিস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষার সরঞ্জাম নিয়ে গিয়ে বিনা মূল্যে তাৎক্ষণিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।

সভায় তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর হাম-ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও তা প্রশমনে সরকারি ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ এবং গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। আর ১৪ অক্টোবর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নীতিমালার ‘গণবিরোধী’ ধারাগুলো বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

সভায় সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুসহ যুক্ত ফ্রন্টের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন