ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে পুশ ইন বন্ধ করতে হবে: এবি পার্টি
বাংলাদেশি আখ্যায়িত করে বিভিন্নজনকে সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর ভারতীয় তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, এই তৎপরতা চলতে থাকলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।
আজ বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পুশ ইন নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানায় দলটি। ‘সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলনে পুশ ইন বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকারের সমালোচনাও করা হয়।
এক মাসের বেশি সময় ধরে সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তারা দাবি করেছে, সীমান্ত দিয়ে যাদের ঠেলে পাঠানো হচ্ছে, তারা বাংলাদেশি, অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, মূলত ঠেলে পাঠানো হচ্ছে ভারতীয় মুসলমানদের। ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই পুশ ইনের সমালোচনা করে আসছে।
পুশ ইনের মাধ্যমে ভারত সরকার কূটনৈতিক সৌজন্য, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু)।
তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী তার অভিবাসী নাগরিককে অন্য দেশের মানুষ বলে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখায় দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে রেখে, নির্যাতন করে ঠেলে পার্শ্ববর্তী দেশে ঢোকানোর মতো অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ পৃথিবীর কোথাও আছে বলে জানা নেই।
মজিবুর রহমান বলেন, ভারত সরকার বলেছিল নির্বাচিত সরকার এলে তারা ‘আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে’, কিন্তু তাদের সহযোগিতার এই নৃশংস নমুনা অতীতের মতোই দেখতে হচ্ছে।
ভারতের কাঁটাতারের রাজনীতি, সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইনের মতো কার্যক্রম বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পুশ ইন বন্ধে এরই মধ্যে দিল্লিকে ডজনখানেক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতে অবৈধ কোনো বাংলাদেশি থেকে থাকলে যাচাইয়ের পর যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ফেরত নিতে রাজি ঢাকা, পুশ ইন কোনো সমাধান নয়।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুস্থ ও টেকসই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ভারতকে সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইনের নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
গত পাঁচ দশকে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ বদলে গেছে। আওয়ামী আমলের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আর চলতে পারে না। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন বাস্তবতায় স্বাধীন ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে।’
সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আধুনিকায়ন, সীমান্তবর্তী জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আবদুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুল হালিম ও সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।