শেষ মুহূর্তের ভোটচিত্র দেখতে চট্টগ্রাম থেকে এবার কুমিল্লায়। সারা দিন চৌদ্দগ্রাম ঘুরে রাতে উঠলাম কুমিল্লা ক্লাবে। সকালে নাশতার সময় ক্লাবের এক কর্মচারীর মন্তব্যই যেন পুরো জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতা খুলে দিল—‘স্যার, সবাই বিএনপি, কিন্তু তলেতলে জামায়াত।’
ওই কর্মচারীর বাড়ি বুড়িচংয়ে। পরে সেখানে আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন (ধানের শীষ) ও জামায়াতের মোবারক হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লায় যেসব আসনে ভালো ফলের আশা করছে, বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া তার অন্যতম।
কুমিল্লায় মোট সংসদীয় আসন ১১টি। ১০টি আসনে বিএনপির প্রার্থী আছেন। জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে নয়টিতে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত চারটি আসনে জামায়াত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে ছয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
১১ আসনের কুমিল্লা: কোথায় কার অবস্থান
কুমিল্লায় মোট সংসদীয় আসন ১১টি। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার প্রায় ৪৯ লাখ ৯২ হাজার। ১০টি আসনে বিএনপির প্রার্থী আছেন। জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে নয়টিতে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত চারটি আসনে জামায়াত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। আসনগুলো হলো কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)।
অন্যদিকে ছয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আসনগুলো হলো—কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা), কুমিল্লা–২ (হোমনা-তিতাস), কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর), কুমিল্লা-৬ (সিটি করপোরেশন-আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া)। তবে কুমিল্লা-২ ও ৭ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ভিন্ন সমীকরণ। এখানে জামায়াত সমর্থন দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে। ঋণখেলাপি ইস্যুতে বিএনপির প্রার্থী বাদ পড়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
তাহের নাকি কামরুল: চৌদ্দগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি
এই জেলায় রাজনৈতিকভাবে কুমিল্লা–১১ (চৌদ্দগ্রাম) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের প্রার্থী, যিনি কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং দলের নীতিনির্ধারকদের অন্যতম। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন বিএনপির মো. কামরুল হুদা। অতীতে এই আসনে বিএনপি জয় পায়নি। জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমদ, আওয়ামী লীগের মুজিবুল হক এবং জামায়াতের আবদুল্লাহ তাহের এই আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এবার এখানে বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে।
গত শনিবার চৌদ্দগ্রামের ৭টি ইউনিয়নের ১৪টি জায়গায় অন্তত ২৩ জনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের মধ্যে ১০ জন দাঁড়িপাল্লা নিয়ে এবং ৭ জন ধানের শীষ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজনসহ চারজন হাড্ডাহাডি লড়াইয়ে আভাস দিয়েছেন। দুজন এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এবার ভোটের যে সাধারণ হিসাব, আঞ্চলিকতা, সংখ্যালঘু ভোট ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবদুল্লাহ তাহের এ আসনের দক্ষিণের বাসিন্দা আর কামরুল হুদা উত্তর এলাকার। দুজনই আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট টানার চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে জামায়াত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতেও পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে। আর বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে আদর্শিক জায়গা থেকে ভোট চাইছে।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে চিওড়ার চরপাড়ায় বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহীন রেজা ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তি বিভক্ত হয়ে গেছে। ভোট যদি সুন্দর হয়, ধানের শীষ জয়ী হবে।’
বাতিসা বাজারে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জেনেও জামায়াত তাঁদের ঘরে ঘরে যাচ্ছে। এখানে আওয়ামী লীগের ভোট স্বাভাবিকভাবে বিএনপির পক্ষে যাবে—এমন ধারণা ভুল।
তবে তাড়াশাইল বাজারের বিজয় শীলের মতে, সংখ্যালঘুদের ভোট বিএনপির দিকে বেশি যাবে। তবে দুই পক্ষই শক্তিশালী।
মুন্সীরহাট পূর্ব বাজারে কথা হচ্ছিল স্থানীয় জোবায়ের আহমেদ ও বসন্তপুরের ইমাম হোসেনের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, তাঁদের বন্ধুমহলে যাঁরা আওয়ামী লীগের সমর্থক, তাঁদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সম্ভাবনা কম দেখছেন।
চিওড়া বাজারে কথা হয় গুণবতী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল লতিফের (৭০) সঙ্গে। তাঁর মতে, তাঁদের এলাকায় আবদুল্লাহ তাহের এগিয়ে। একই রকম ভাষ্য বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের।
আবার ধোড়করার বাসিন্দা ইয়াকুব বলেন, বিএনপি শুধু হাটবাজারে প্রচার করছে। জামায়াত সংগঠিতভাবে কাজ করছে।
তবে সেলিম ফার্মেসির মালিক ফরিদউদ্দিন সেলিম বলেন, প্রচারে জামায়াত এগিয়ে। নীরব ভোটাররা বিএনপিকে দেবেন। সবজি বিক্রেতা মফিজুর রহমানের মতে, জগন্নাথ ইউনিয়নে দুই দলের ভোট হবে ১৮-২০।
হিঙ্গুলার চানখাঁর দীঘিরপাড়ে কথা হয় মনির, শহীদসহ চারজন ভোটারের সঙ্গে। তাঁরা হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বললেন।
সব মিলিয়ে স্থানীয় লোকজনের মূল্যায়ন—আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা ভোট দিলে ধানের শীষ এগোতে পারে, না হলে পাল্লা দাঁড়িপাল্লার দিকে ঝুঁকবে।
কুমিল্লা–১: অসম লড়াইয়ের আভাস
এ আসনে (দাউদকান্দি–মেঘনা) বিএনপির প্রার্থী চারবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য। সাতজন প্রার্থী থাকলেও তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন জামায়াতের মো. মনিরুজ্জামান (বাহলুল)। তিনি জামায়াতের দাউদকান্দি উপজেলা শাখার আমির।
এক সপ্তাহ আগে-পরে দাউদকান্দিতে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
সরেজমিনে স্থানীয় লোকজনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা জানা গেল, প্রবীণ রাজনীতিক খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে মনিরুজ্জমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা শেষ পর্যন্ত ‘অসম’ হতে পারে।
কুমিল্লা-২: হোমনা-তিতাসে বিভক্ত বিএনপি
হোমনা ও তিতাস উপজেলার (কুমিল্লা-২) বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বোঝা গেল, এখানকার বিএনপির ভোট কিছুটা বিভক্ত।
বিএনপির প্রার্থী মো. সেলিম ভূঁইয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস মো. আবদুল মতিন। তিনি বিএনপি–সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন ‘এ্যাব’-এর উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবু মতিন (তালা প্রতীক) মাঠে বেশ সক্রিয় আছেন।
সেলিম ভূঁইয়ার বাড়ি পাশের মেঘনা উপজেলায়, যেটি কুমিল্লা-১ আসনে পড়েছে। অন্যদিকে মতিনের বাড়ি তিতাসে। সেখানে বিএনপির ভোটারদের মধ্যে ‘কাছের–দূরের’ কথাটি উঠেছে। এখানে ধানের শীষ ও তালার মধ্যে মূল লড়াই হওয়ার আভাস মিলছে।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা।
মুরাদনগরে নির্ভার কায়কোবাদ
কুমিল্লা–৩ আসনে (মুরাদনগর) বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য।
তাঁর বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী দলটির কুমিল্লা উত্তর জেলার কর্মপরিষদ সদস্য মো. ইউসুফ সোহেল। স্থানীয় ব্যক্তিদের মতে, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তিতে কায়কোবাদ অনেক এগিয়ে।
এগিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনটি দুটি কারণে আলোচিত। এখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত নেতা ও দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এখানে প্রার্থী হয়েছেন। অন্যটি হলো বিএনপির প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়া।
ধানের শীষ প্রতীক না থাকায় এখানে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ মাঠে এগিয়ে আছেন। তিনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী।
যদিও শেষ মুহূর্তে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী (ট্রাক) মো. জসিম উদ্দিনকে বিএনপি সমর্থন দেওয়ায় নতুন সমীকরণ হয়েছে।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কাছে প্রত্যেক প্রার্থীই চ্যালেঞ্জিং। ভোট হচ্ছে জনগণের কাছে, তাই আমরা প্রতিটি ভোটারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
কুমিল্লা-৫: সুপ্ত ভোটের লড়াই
এলাকা ঘুরে এ আসনে (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) বিএনপির জসীম উদ্দীন ও জামায়াতের মোবারক হোসেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
জসীম উদ্দীন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি। আর মোবারক হোসেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। দুজনই প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন।
এখানকার ভোটাররা যতটা প্রকাশ্য, তার চেয়ে বেশি সুপ্ত বলে অনেকে মনে করছেন। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এখানে প্রকাশ্য সমর্থনের চেয়ে সুপ্ত ভোটই ফল নির্ধারণ করবে।
আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী
কুমিল্লার সদর আসনটি হচ্ছে ৬ নম্বর আসন। এখানে মোট প্রার্থী নয়জন হলেও আলোচনায় বেশি আছেন বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতের কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
আসনটিতে এমনিতে বিএনপির প্রভাব বেশি। মনিরুল হক চৌধুরী অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি কুমিল্লায় বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি আমিন-উর-রশিদের (ইয়াছিন) ও মনিরুল হক (সাক্কু)—দুজনকেই পাশে রাখতে পেরেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী দলটির কুমিল্লা মহানগরের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
চান্দিনায় চাপে রেদোয়ান
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ একসময় বিএনপিরই সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি অলি আহমদের সঙ্গে এলডিপিতে যান। ১৯ বছর পর প্রার্থী মনোনয়নের শেষ মুহূর্তে বিএনপিতে ফিরে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হন।
স্থানীয় ব্যক্তিদের মতে, রেদোয়ানকে ভোটের মাঠে অনেকটা চাপে ফেলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রতীক–কলস) আতিকুল আলম শাওন। তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বাবা প্রয়াত খোরশেদ আলম এখানকার বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
কুমিল্লা-৮: জাকারিয়া তাহের স্বস্তিতে
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের শুরু থেকেই ভোটের মাঠে ভালো অবস্থানে আছেন বলে এলাকা ঘুরে জানা গেছে। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সভাপতি।
২০০৪ সালে তাঁর বাবা বিএনপির সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহেরের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয়ী হন জাকারিয়া তাহের। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার চেষ্টা করছেন।
কুমিল্লা–৯ ও ১০: জামায়াতের চ্যালেঞ্জ
লাকসাম–মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা–৯) ও নাঙ্গলকোট–লালমাই (কুমিল্লা–১০)—এই দুই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জামায়াতের সংগঠিত প্রচার বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।
লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেল, বিএনপির প্রার্থী তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. আবুল কালামের সঙ্গে (চৈতি কালাম হিসেবে পরিচিত) ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছেন বিএনপির সৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী।
এ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে এর মিটমাট হলেও বিরোধ কতটুকু কমেছে, তা নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখনো সংশয় আছে।
কুমিল্লা-১০ আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূলত বিএনপির মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে জামায়াতের ইয়াসিন আরাফাতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জামায়াত কুমিল্লার যে চার আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা জয়ের সম্ভাবনা দেখে, তার অন্যতম এটি। সংগঠিতভাবে প্রচার ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াত এখানে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নাঙ্গলকোট উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াসিন আরাফাত জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
শেষ হিসাব
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খানের মতে, সামগ্রিকভাবে কুমিল্লায় বিএনপি এগিয়ে। তবে কুমিল্লা–১১ আসনে জামায়াত কিছুটা এগিয়ে। এ ছাড়া কুমিল্লা-৯ ও ১০ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সব মিলিয়ে কুমিল্লার ভোটে বিএনপির আধিপত্য স্পষ্ট হলেও নীরব ও সুপ্ত ভোটে জামায়াত কোথাও কোথাও হিসাব বদলে দিতে পারে—এটাই শেষ মুহূর্তের মাঠচিত্র।