সাংবাদিকের ওপর হামলায় জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ, ছাত্রদলের নিন্দা
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সমালোচনার মুখে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুঃখ প্রকাশ করেছে। দলটি বলেছে, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা ভিডিও দেখে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জামায়াতের একটি মিছিল শেষে সমাবেশের সময় মারধরের শিকার হন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা এই হামলা চালান।
বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ ২৩ জুন (মঙ্গলবার) ২০২৬ রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।’
আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে আজ জামায়াত কর্মসূচি রেখেছিল। দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ধানমণ্ডি জোনের উদ্যোগে মিছিল শেষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে সমাবেশের সময় মাহফুজুরের ওপর হামলা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি বলেন, ‘ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগত ব্যক্তিদের উসকানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।
‘এ ঘটনার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল–বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া যদি আমাদের কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াত কখনোই প্রশ্রয় দেয় না বলে দাবি করেন এহসানুল মাহবুব। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
এ ঘটনা তদন্তে দলের ধানমন্ডি জোন পরিচালক ও মহানগর কর্মপরিষদের সদস্য নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আগামীকালের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলায় দলের কোনো কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রদলের নিন্দা–প্রতিবাদ
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আজ সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ‘দৈনিক সকাল’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির, যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাব্বী সিদ্দিকী এবং কালবেলার সংবাদকর্মী আবদুর রহমান ঈশানসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরোচিত হামলা ও লাঞ্ছনা চালিয়েছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ২০ থেকে ২৫ সংবাদকর্মী হামলার মুখে পড়েন।
ছাত্রদলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো যেকোনো স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের পরিপন্থী। বিরোধী দলে থাকতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কর্তব্যরত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির, রাব্বী সিদ্দিকী ও আবদুর রহমান ঈশানসহ প্রায় ২৫ সংবাদকর্মীর ওপর যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ ও লাঞ্ছনা চালিয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে তারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না এবং দেশকে একটি উগ্র, অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়।’
ছাত্রদলের এই দুই নেতা আরও বলেন, পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে এই স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তি এখনো বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় ন্যূনতম বিশ্বাস রাখে না। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ছাত্রদলের নেতারা হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং তাঁদের চিকিৎসা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।