হকার্স ইউনিয়নের অভিযোগ, এ সময় সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম এবং অন্যান্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ মনজুরুল আহসান খানসহ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের ওপর হামলা চালায়। তাঁদের মারধর ও লাঠিপেটা করা হয়।
হামলার নিন্দা জানিয়ে হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও সিপিবি ঢাকা দক্ষিণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, পুলিশের স্বৈরাচারী মনোভাব আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে হরহামেশাই তারা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করতে দ্বিধা করছে না।

জলি তালুকদার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা, ট্রেড ইউনিয়ন বা সংগঠন করার অধিকারের বিরুদ্ধে যারা গুন্ডামি-মাস্তানি করছে, তাদের পরিণতি ভালো হবে না। মনজুরুল আহসান খানের মতো একজন বর্ষীয়ান নেতার গায়ে পুলিশের ওসি হাত তুলতে পারেন, শেখ হাসিনার শাসনে দেশ এই জায়গায় পৌঁছেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা কাউকে মারধর করিনি। আমরা বরং মনজুরুল আহসান খানকে বলেছিলাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করার জন্য।’

হামলার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় মনজুরুল আহসান খান বলেন, খাদ্যসংকট হলো দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ। নিম্ন আয়ের মানুষ দিনভর খেটেও স্বাভাবিক চাহিদামতো খাবার জোগাড় করতে পারছেন না। সরকারের তথাকথিত সব অগ্রাধিকার বাদ দিয়ে এখনই যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে অচিরেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

মনজুরুল আহসান খান আরও বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থান না করে কোনো প্রচলিত পেশা থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যায় না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন না করে গণহারে হকার উচ্ছেদ গুরুতর অন্যায়।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন হকার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল হাশিম কবির। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি আবু তাহের বকুল, হকার্স ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হজরত আলী, সহসাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, হকারনেতা মোহাম্মদ ফিরোজ প্রমুখ।