নবীজি (সা.)-এর ৭ জন কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি

ছবি: পেক্সেলস

ইসলামে কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবিদের কথা উঠলে সবার আগে হযরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)-এর নাম মনে আসে। কিন্তু ইসলামের সোনালী ইতিহাসে আরও অনেক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন যাঁদের গায়ের রঙ ছিল কালো বা তামাটে। বর্তমান সময়ের সুদানি বা ইথিওপিয়ানদের মতো তাঁদের গায়ের রঙও ছিল কৃষ্ণাঙ্গ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এমন ৭ জন সাহসী ও অনুগত সাহাবীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. উম্মে আইমান (রা.)

তাঁর আসল নাম ছিল বারাকাহ। তিনি ছিলেন নবীজির পিতা আবদুল্লাহর দাসী। আমিনা (রা.)-এর ইন্তেকালের পর উম্মে আইমানই নবীজিকে মায়ের মমতায় বড় করে তোলেন।

রাসুল (সা.) তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকতেন। তিনি মক্কার শুরুর দিকের মুসলিমদের একজন এবং মদিনায় হিজরতকারী সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত।

২. ওসামা বিন জায়েদ (রা.)

ওসামা (রা.) ছিলেন নবীজির অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। তাঁর পিতা জায়েদ বিন হারিসা (আরব) এবং মা উম্মে আইমান (ইথিওপিয়ান) দুজনেই ক্রীতদাস ছিলেন এবং রাসুল (সা.) তাঁদের মুক্ত করে দেন।

ওসামা (রা.) কুচকুচে কালো বর্ণের ছিলেন। নবীজি তাঁর ইন্তেকালের ঠিক আগে এই কিশোর ওসামাকে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেন, যা ছিল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এক বিশাল চপেটাঘাত।

আরও পড়ুন

৩. সা’দ আল-আসওয়াদ (রা.)

সা’দ আল-আসওয়াদ আস-সুলামি (রা.) ছিলেন মদিনার আনসার সাহাবি। গায়ের রঙের কারণে তিনি মদিনায় কিছুটা বৈষম্যের শিকার হতেন।

তিনি একবার নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গায়ের রঙের কারণে জান্নাতে তাঁর মর্যাদা কম হবে কি না। নবীজি তাঁকে আশ্বস্ত করেন। পরে তিনি এক যুদ্ধে শহীদ হন এবং স্বয়ং নবীজি (সা.) তাঁর মাথা নিজের কোলে তুলে নিয়ে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছিলেন।

৪. আম্মার বিন ইয়াসার (রা.)

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ধৈর্যশীল সাহাবি। তিনি এবং তাঁর পরিবার ইসলামের জন্য অকথ্য নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাঁর মা সুমাইয়া (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ।

আম্মার (রা.) আবিসিনিয়া ও মদিনা—দুই বার হিজরত করার গৌরব অর্জন করেন। তিনি বদর ও উহুদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব যুদ্ধে অংশ নেন এবং সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ হন।

৫. মিহজা (রা.)

মিহজা বিন সালেহ (রা.) মক্কার শুরুর দিকের মুসলিমদের একজন। তিনি মদিনায় হিজরত করেছিলেন।

ঐতিহাসিক তাবারির মতে, বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষ থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি শাহাদাত বরণ করেন। জান্নাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেহমান হিসেবে তাঁকে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন

৬. আবু যার আল-গিফারি (রা.)

আবু যার (রা.) তাঁর খোদাভীতি এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি গিফারি গোত্রের লোক ছিলেন, যারা জাহেলি যুগে ডাকাতির জন্য পরিচিত ছিল।

কিন্তু আবু যার ইসলাম গ্রহণের পর এতটাই সত্যবাদী ছিলেন যে, কা’বার সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে তাওহিদের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং কুরাইশদের হাতে নির্মমভাবে প্রহৃত হয়েছিলেন।

৭. আইমান (রা.)

আইমান বিন ওবাইদ (রা.) ছিলেন উম্মে আইমান (রা.)-এর পুত্র। তিনি ছিলেন একজন মেষপালক। হুনাইনের যুদ্ধে যখন অনেক সাহাবি বিশৃঙ্খলার কারণে কিছুটা পিছু হটেছিলেন, তখন যে ৮ জন অকুতোভয় সাহাবী নবীজিকে ঘিরে থেকে রক্ষা করেছিলেন, আইমান (রা.) ছিলেন তাঁদের একজন।

এই যুদ্ধেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

এই মহান সাহাবিদের জীবনী আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদা গায়ের রঙ বা বংশে নয়, বরং অন্তরের ইমান এবং আমলের ওপর নির্ভরশীল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন, ‘কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং কোনো কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব নেই—শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার ভিত্তিতে।’

আরও পড়ুন