সুফিসাধক নাসের খসরুর হজ সফর

পারস্যের কবি ও সুফি সাধক নাসের খসরু ছিলেন একজন ইসমাইলীয় শিয়া যিনি দার্শনিক ও পর্যটক হিসেবেও সুখ্যাতি কুড়িয়েছিলেন। তাঁর সফরনামা–কে পারস্যের ভ্রমণকাহিনি রচনার অন্যতম পথিকৃত বিবেচনা করা হয়। ধ্রুপদী ফারসি ভাষায় লেখা এই সফরনামা আজো পাঠককে চমৎকৃত করে।

নাসের খসরুছবি: মেহের নিউজ

খসরু ৪২ বছর বয়সে ১০৪৫ সালে মক্কায় হজব্রত পালনের জন্য স্বদেশ থেকে রওনা হন। তাঁর আগে তিনি বেশ কিছুদিন মার্ভ ও বলখে সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন যে কেউ তাঁকে জ্ঞানান্বেষণের জন্য নিজেকে নিয়োগ করতে নির্দেশনা দিচ্ছে। নির্দেশদাতার কাছে তিনি জানতে চান যে কোথায় গেলে তিনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। তখন তাঁকে মক্কার দিকে ইশারা করে দেখিয়ে নির্দেশদাতা অদৃশ্য হয়ে যান।

ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তিনি স্বপ্নে দেখা সবকিছুই মনে করতে পারলেন। তখন নিজেকে তিনি নিজেই প্রশ্ন করেন যে এই ৪২ বছরের জীবনে কী করেছেন। তাঁর উপলব্ধি হয়, নিজের জীবনযাপন ও কাজে পরিবর্তন না আনলে তিনি কখনোই সুখী হতে পারবেন না।

পরের কাহিনি তাঁর ভাষাতেই শোনা যাক:

“বৃহস্পতিবার..(ডিসেম্বর ১৯, ১০৪৫)...আমি মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর ভালভাবে ধৌত করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হলাম। তারপর মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম যে আমার যা করা উচিত তা যেন করতে পারি আর যা নিষেধ করা হয়েছে, তা থেকে যখন বিরত থাকতে পারি। এরপর আমি বেড়িয়ে  পড়লাম।

ফারইয়াবের এক গ্রামে রাত কাটিয়ে পরের দিন রওনা হলাম মার্ভের উদ্দেশে। মার্ভে এসে আমার চাকুরি থেকে ছুটি নিলাম এবং সবাইকে জানালাম, আমি মক্কায় যাচ্ছি হজ করতে। আমার যাবতীয় ঋণ পরিশোধ করলাম, প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র ছাড়া আর সবকিছু ত্যাগ করলাম।

স্বপ্নে দেখেন যে কেউ তাঁকে জ্ঞানান্বেষণের জন্য নিজেকে নিয়োগ করতে নির্দেশনা দিচ্ছে। জানতে চান যে কোথায় গেলে তিনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। তখন তাঁকে মক্কার দিকে ইশারা করে দেখিয়ে নির্দেশদাতা অদৃশ্য হয়ে যান।

[১০৪৬ সালের ৫ মার্চ] আমি মার্ভ থেকে সারাখ হয়ে নিশাপুরের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। জিলকদ মাসের দ্বিতীয় দিন নিশাপুর ত্যাগ করলাম সুলতানের এক অনুচর খাজা মওয়াফ্ফাকের সঙ্গে। আমরা গাভানা হয়ে কুমিসে [আজকের ইরানের সেমনান প্রদেশ] এলাম। এখানে শেখ বায়েজিদ বোস্তামির মাজার জেয়ারত করলাম। এরপর শুক্রবার ৮ জিলকাদ রওনা হলাম দামঘানের দিকে।”

খসরু কিন্তু তখনকার নিয়মিত পথে হজ কাফেলার সঙ্গে বাগদাদ হয়ে দক্ষিণদিকে অগ্রসর হয়ে মক্কার যাননি। বরং তিনি ঘুরপথে পারস্যেরে উত্তরাঞ্চল হয়ে সিরিয়া, জর্ডান ও ফিলিস্তিন অতিক্রম করে মিসরের কায়রোতে পৌঁছান। ফাতেমীয় বাদশা আল-মুনতাসির (১০৩৬-১০৯৪) তখন সিংহাসনে আসীন। 

এহেন ঘুরপথে যাওয়ার একটা কারণ ছিল। খসরু নিজের পরিচয় যথাসম্ভব গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন। হজের নিয়মিত পথের তুলনায় বিপদসংকুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তাঁর কাছে প্রাধান্য পেয়েছিল নিজের তথা ইসমাইলীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন বা অন্তত বিদ্বেষী নয়, এমন সব নগর ও জনপদ দিয়ে অগ্রসর হওয়া। 

সফরের এই পর্বে তাঁর বইয়ে এসব এলাকাকার খাদ্য, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আচার-আচরণের বিবরণ উঠে এসেছে। পাশাপাশি ঠাঁই পেয়েছে এসব দেশের জ্ঞানী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হওয়া এবং এখানকার বিভিন্ন মাজারের বর্ণনা।

খসরুর সফরনামা থেকে জানা যায় যে তিনি ৪৩৮ হিজরির ১১ রজব [ জানুয়ারি ১১, ১০৪৭] সিরিয়ার আলেপ্পো নগরী ত্যাগ করেন। এরপর সিরিয়ার আরো কয়েকটি স্থান ঘুরে তিনি যান জেরুজালেমে। তাঁর ভাষায়, “জেরুজালেমের পর আমি সমুদ্রপথে মিশরে যাওয়ার মনস্থির করি। আর সেখান থেকে আবার মক্কার পথে।”

আরও পড়ুন

মক্কার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাসের খসরু লিখেছেন, “মক্কা নগরী বিভিন্ন পাহাড়েরর মাঝখানে নিচু ভূমিতে এমনভাবে অবস্থিত যে আপনি যে দিক থেকেই আসুন না কেন, খুব কাছে না পৌঁছা পরযন্ত নগরীর কিছু দেখতে পারবেন না।

মক্কার কাছে সবচেয়ে উঁচু পাহাড় হলো আবু কুবাইস যা অনেকটা গম্বুজের মতো গোলাকৃতির। তাই আপনি যদি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তীর ছোঁড়েন, তাহলে তা একেবারে মাথায় গিয়ে পরবে।

আবু কুবাইস শহরের পূবদিকে অবস্থিত। আর তাই আপনি যদি মসজিদুল হারামে শীতকালে যান, তাহলে দেখতে পাবেন যে সূর্য এই পাহাড়রে চূড়ার পেছন দিক থেকে উদিত হচ্ছে। এই পাহাড়ের চূড়ায় একটি পাথরে স্তম্ভ আছে যা হজরত ইব্রাহিম প্রোথিত করেছিলেন।

মসজিদুল হারাম নগরীর সমতলভূমির মাঝখানে অবস্থিত আর নগরীর সব রাস্তা ও বাজার এর চারপাশে গড়ে উঠেছে। আর পাহাড়ের খোলা অংশে একটি দুর্গপ্রাচীর আছে। প্রাচীরে ফটকও আছে। মক্কার একমাত্র গাছগুলো আছে মসজিদুল হারামের পশ্চিমদিকের ফটকে যা ইব্রাহিম ফটক নামে পরিচিত।

মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে আছে এক বিরাট বাজার যা দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণ প্রান্তে আবু কুবাইস। আবু কুবাইসের পাদদেশে সাফা পাহাড়। এখানে সিঁড়ির মতো করে পাথর বসানো আছে যেন মানুষজন ওপরে উঠে প্রার্থনা করতে পারে। যার মানে হলো সাফা  ও মারওয়ায় সাঈ করা।

আবু কুবাইস শহরের পূবদিকে অবস্থিত। আর তাই আপনি যদি মসজিদুল হারামে শীতকালে যান, তাহলে দেখতে পাবেন যে সূর্য এই পাহাড়রে চূড়ার পেছন দিক থেকে উদিত হচ্ছে।

বাজারের উত্তরপ্রান্তে আছে মারওয়া পাহাড়, যা তুলনামূলক নিচু। এখানে কিছু ঘরবাড়ি ও কাঠামো গড়ে উঠেছে। কারণ পাহাড়টি শহরের মাঝখানে পড়েছে। সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করার সময় হাজিরা বাজারের মধ্য দিয়ে ছোটাছুটি করেন।

দূরদূরান্ত থেকে যাঁরা ছোট হজ করতে আসেন, তাঁদের জন্য মক্কা থেকে কয়েক মাইল দূরে কয়েকটি  চিহ্ন [মিকাত] ও মসজিদ আছে যেখানে তাঁরা তাঁদের ইহরাম বাঁধেন। ইহরাম বাঁধা মানে হলো সেলাইকৃত সব পোশাক খুলে ফেলে সেলাইবিহীন একখণ্ড কোমরে জড়ানো, আরেকখণ্ড শরীরের ওপরের অংশ চাপানো [শুধু পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য]।

এভাবে ইহরামের লেবাস পরিধান করে উচ্চস্বরে “লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক” [হে প্রভু আমি উপস্থিত] বলতে বলতে মক্কার দিকে অগ্রসর হতে হয়। তবে যারা ইতিমধ্যে মক্কার ভেতরেই আছেন, তাঁদেরকে ছোট হজ করার জন্য কোনো একটা বাজারে গিয়ে ইহরাম বেঁধে “লাব্বাইক” [তালবিয়া] পাঠ করে ছোট হজ করার নিয়তে মক্কায় ফিরে আসতে হয়।

এভাবে ইহরাম বেঁধে নিয়ত করে মক্কায় প্রবেশ করার পর প্রথমে আপনাকে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে হবে এবং কাবার দিকে যেতে হবে। কাবাকে হাতের বামে রেখে আপনাকে কালো পাথর [হাজরে আসওয়াদ] রক্ষিত কোনায় গিয়ে এটাকে চুমু খেয়ে কাবা প্রদক্ষিণ মানে তাওয়াফ শুরু করতে হবে।

এভাবে একপাক ঘুরে আসলে একবার তাওয়াফ সম্পন্ন হবে। মোট সাতবার তাওয়াফ করতে হবে।

প্রথম তিনবার দ্রুত, পরের চারবার ধীরে। সাত তাওয়াফ শেষ হলে আপনি কাবার বিপরীতে থাকা মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন, যাকে ‘তাওয়াফের সালাত’ বলা হয়।

এরপর আপনি জমজম কূপের কাছে গিয়ে ওখান থেকে পানি নিয়ে পান করবেন ও তা দিয়ে মুখমণ্ডল মুছবেন। এ কাজ শেষে সাফা ফটক দিয়ে মসজিদুল হারাম থেকে বেড়িয়ে আসবেন।”

আরও পড়ুন

খসরু সাফা-মারওয়ায় সাঈ করার একটু দীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছেন:

“ফটকের বাইরেই সাফা পাহাড়। এখানে দাঁড়িয়ে কাবার দিকে মুখ করবেন এবং নির্ধারিত দোয়া পড়বেন যা সবারই জানা। এরপর পাহাড় থেকে নেমে বাজারের মধ্য দিয়ে উত্তরপ্রান্তে মারওয়া পাহাড়ের দিকে যাবেন। যাওয়ার পথে আপনি মাসজিদুল হারামে প্রবেশের একাধিক ফটক পাবেন যেখানে মহানবী (সা.) নিজে দৌঁড়েছেন ও সাহাবিদেরকেও দৌঁড়াতে বলেছেন।

এ জায়গাটুকু প্রায় ৫০ কদম আর ‍দুই ধারে দুইটা করে মিনার আছে। হাজিরা সাফা থেকে মারওয়ার দিকে আসার পথে প্রথম দুই মিনার অতিক্রমের সময় দৌঁড়ান, যতক্ষণ না তাঁরা পরের দুই মিনারে কাছে পৌঁছান। এরপর তাঁরা ধীর পায়ে মারওয়ার দিকে হাঁটতে থাকেন।

মারওয়ায় উঠে নির্ধারিত দোয়া পড়েন। তারপর আবার বাজারের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে আসেন। এভাবে চারবার সাফা থেকে মারওয়া ও তিনবার মারওয়া থেকে সাফা ছোটাছুটি করে সাত দৌঁড়ে সাঈ শেষ করেন।

শেষবার মারওয়া থেকে নেমে এলে আপনি গোটা বিশেক মাথা কামানোর দোকান পাবেন যেগুলো পরস্পর মুখোমুখি দাঁড়ানো। ওর একটিতে মাথা কামিয়ে নিলে পরে ছোট হজ শেষ হবে আর আপনি হারাম চত্বর থেকে বেড়িয়ে আসবেন।

পূবদিকে বড় একটা বাজার আছে যাকে বলা হয় সুক আল-আত্তারিন। এখানে সুন্দর কয়েকটি ভবন আছে। মক্কায় দুটো হাম্মাম [গণ গোসলখানা] আছে যেগুলোয় সবুজ পাথর বিছানো।”

নাসের খসরু মোট চারবার মক্কা সফর করেন। প্রতিবারই তিনি হজ করেছেন। প্রথমবার সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তিনি কায়রোয় ফিরে যান। এরপর আরো তিনবার মক্কায় এলেও তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে শেষ সফরের সময়কালের হজের বর্ণনা উঠে এসেছে।

নাসের খসরু মোট চারবার মক্কা সফর করেন। প্রতিবারই তিনি হজ করেছেন। প্রথমবার সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তিনি কায়রোয় ফিরে যান। এরপর আরো তিনবার মক্কায় এলেও তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে শেষ সফরের সময়কালের হজের বর্ণনা উঠে এসেছে।

তবে এই বর্ণনা সংক্ষিপ্ত যা তার আগের হজ সফরকারীরদের মতোই। এর একটা কারণ হলো, তাঁরা মূলত অন্য মুসলমানদের জন্যই লিখেছেন যাদের কাছে মক্কা খুব পরিচিত এবং দুনিয়ার সবচেয়ে গোপন বা রহস্যময় নগরী নয়। সাদামাটা বিবরণ হলেও খসরু মক্কার যে চিত্র তুলে ধরেছেন তা যথেষ্ট নিখুঁত।

খসরু এই চতুর্থ ও শেষবার মক্কায় ছিলেন [আনুমানিক] ১০৫০ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ১০৫১ সালের ৫  মে পর্যন্ত।

তিনি লিখেছেন, “আমি জানতে পারলাম যে মক্কায় দুই হাজারের বেশি স্থানীয় মানুষ নেই। বাকি ৫০০জন বিদেশি ও মুসাফির বা অস্থায়ী বাসিন্দা। এই সময়টায় দুর্ভিক্ষ চলছিল যখন ১৬মণ গমের দাম দাঁড়ায় এক দিনার। এ কারণে বহু লোক মক্কা ত্যাগ করে।

৪৪২ হিজরি সালের ৯ জিলহজ তারিখে [২৪ এপ্রিল, ১০৫১] আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি চতুর্থবারের মতো হজ পালন করি। সূর্যাস্তের পর হাজিরা সবাই আরাফাতে ময়দান ত্যাগ করেন এবং প্রত্যেক কয়েক মাইল দূরে মাশরুর আল হারামের দিকে যাত্রা করেন যাকে মুজদালিফা বলা হয়। 

এখানে মুকসারার [সংরক্ষিত এলাকা] মতো একটি কাঠামো নির্মাণ করা আছে যেখানে মানুষজন প্রার্থনা করতে পারেন। মিনায় [মিনার সীমানায় অবস্থিত জামারায়] নিক্ষেপের জন্য পাথর এখানেই সংগ্রহ করতে হয়। নিয়ম হলো, এখানেই অবস্থান [রাত যাপন] করে পরদিন ফজরের নামাজের পর সকাল সকাল মিনার দিকে যাত্রা করতে হয় কোরবানি করার উদ্দেশে।

মিনায় খায়েফ নামে একটি বড় মসজিদ আছে। তবে মিনায় ছুটির দিনের [জুমাবার বা শুক্রবার] খুতবা দেয়ার ও নামাজ আদায়ের কোনো প্রথা নেই, কেননা মহানবী (সা.) এরকম কিছু করেননি।

জিলহজের ১০ তারিখ মিনায় অবস্থান করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এ কাজটি শুধু হাজিদের জন্য প্রযোজ্য। জিলহজের ১২ তারিখে হাজিদের মধ্যে যাঁরা নিজ বাড়ি বা দেশে ফিরে যাবেন, তাঁরা সরাসরি মিনা থেকে সেদিকেই রওনা হন। আর যাঁরা মক্কায় আরো কয়েকদিন থাকতে চান, তাঁরা মক্কায় ফিরে আসেন।

মক্কা থেকে আল আহসা যেতে ১৩ দিনের পথ পারি দেয়ার জন্য আমি এক আরবের কাছ থেকে একটি উট ভাড়া করলাম। তারপর আল্লাহর ঘরকে বিদায় জানালাম।”

সূত্র: মিশেল উলফ সম্পাদিত ওয়ান থাউজেন্ড রোডস টু মক্কা অবলম্বনে

আরও পড়ুন