জিলহজের প্রথম দশকে বিশেষ ৫ আমল

ছবি: পেক্সেলস

আরবি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ। সময়ের আবর্তে পুণ্যময় এই মাসটি আবারও আমাদের দুয়ারে। জিলহজ মাস বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ‘হজ’ এই জিলহজ মাসেই সম্পাদন করতে হয়। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ত্যাগের অনন্য নিদর্শন কোরবানিও এই মাসের প্রথমার্ধে পালন করা হয়।

হজ ও কোরবানি ছাড়াও জিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে জিলহজের প্রথম ১০ রাতের কসম করে এই দশকের গুরুত্ব মহিমান্বিত করেছেন, ‘কসম প্রভাতের এবং ১০ রাতের’ (সুরা ফজর, আয়াত: ১-২)।

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ একাধিক তাফসিরকারকের মতে, এখানে জিলহজের প্রথম ১০ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (ইমাম ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ৮/৩৯০, দারুত তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)

রাসুল (সা.) জিলহজের প্রথম দশকের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয় বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যে দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর কাছে এই ১০ দিনের (জিলহজের প্রথম দশক) আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।’

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়েছে এবং এর কোনোটিই নিয়ে আর ফিরে আসেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)

আরও পড়ুন

জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি আমল নিচে দেওয়া হলো:

১. অধিক পরিমাণে জিকির করা

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করো এবং সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪১-৪২)

নবীজি (সা.) বলেছেনন, ‘এই ১০ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও মহান আর কোনো আমল নেই। তোমরা এই সময়ে বেশি বেশি তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) আদায় করো।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৫৪৪৪)

২. নেক আমলে মনোযোগী হওয়া

নবীজির নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট যে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমল আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তাই এই সময়ে কোরআন পাঠ, নফল নামাজ, দান-সদকাসহ সব ধরনের ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করা উচিত। (ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি, ফাতহুল বারি, ২/৪৫৭, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি)

৩. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকা অন্যতম বড় ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকো, তবেই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী হতে পারবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৫)

আরও পড়ুন

৪. নখ ও চুল না কাটা

জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি করার আগপর্যন্ত নখ, চুল বা পশম না কাটা মোস্তাহাব। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত তার চুল ও নখের কোনো অংশ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৭৭)

তবে এই আমলটি মোস্তাহাব, ওয়াজিব নয়।

৫. রোজা রাখা

জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, বিশেষ করে ৯ জিলহজ বা আরাফার দিনের রোজা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা তার আগের ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

তবে আরাফার ময়দানে অবস্থানকারী হাজিদের জন্য রোজা না রাখাই সুন্নত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮৮)

এ ছাড়া এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবিরে তাশরিক (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ) পড়া উচিত। সাহাবিরা এই দিনগুলোতে বাজারে ও পথে-ঘাটে উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করতেন (সহিহ বুখারি, অধ্যায়: দুই ঈদের পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ: ১১)

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আমাদের এই আমলগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

  • আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী: মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম, গাজীপুর

আরও পড়ুন