আধুনিক দেশগুলো প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা, বিশেষ করে গৃহপালিত প্রাণী যেমন, কুকুর, বিড়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির প্রতি বেশ গুরুত্ব দেয়। এ সংক্রান্ত অনেক সংগঠনও আছে।
প্রাণীর প্রতি মমতা দেখানো আমাদের ইসলামি শরিয়তের একটি আবশ্যিক নির্দেশ। কারণ এটি আল্লাহর সৃষ্টিজগত ও মাখলুকাত, মানুষ, উদ্ভিদ, প্রাণী এমনকি জড় পদার্থের সঙ্গেও সদয় আচরণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আধুনিক বিজ্ঞান প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা শুরু করা বা স্বতন্ত্রভাবে অধ্যয়ন করার অনেক আগেই পবিত্র কোরআন এদের নিয়ে গবেষণা করতে এবং এদের জীবন পর্যবেক্ষণ ও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে উৎসাহিত করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো, প্রাণীদের জীবনযাপনের রহস্য এবং মানুষের জন্য তাদের জীবনে যে বিস্ময়কর শিক্ষা রয়েছে তা জানা।
এর পাশাপাশি, রাসুল (সা.) প্রাণীর প্রতি দয়া দেখাতে এবং মানুষের জুলুম থেকে তাদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রাণীদের প্রতি মমতা পোষণ ও তাদের খাবার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি যে ব্যক্তি প্রাণীকে কষ্ট দেয় বা খাবার না দিয়ে আটকে রাখে, তাকে জাহান্নামের আগুনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইসলামি সভ্যতা ও ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে মুসলিম বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদেরা প্রাণীর প্রতিটি প্রজাতি ও প্রকারভেদ নিয়ে কতটা আগ্রহী এবং সচেতন ছিলেন।
ইসলামি সভ্যতা ও ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে মুসলিম বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদেরা প্রাণীর প্রতিটি প্রজাতি ও প্রকারভেদ নিয়ে কতটা আগ্রহী এবং সচেতন ছিলেন।
ইসলামি চিন্তাধারার ইতিহাসে প্রাণীদের নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গবেষণা করা হয়েছে।
কোরআনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, এখানে প্রাণীজগত সম্পর্কে কতটা গভীর আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। এর বড় প্রমাণ হলো, কোরআনের বেশ কিছু সূরার নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর নামে। যেমন: সূরা ফাতিহার পরেই কোরআনের প্রথম বড় সূরাটি হলো সূরা বাকারা (গাভী)। এছাড়া আরও রয়েছে সূরা আনআম (গৃহপালিত পশু), সূরা নাহল (মৌমাছি), সূরা নামল (পিঁপড়া), সূরা আনকাবুত (মাকড়সা), সূরা আদিয়াত (দ্রুতগামী ঘোড়া) এবং সূরা ফিল (হাতি)।
কোরআনে ‘দাব্বাহ’ (জীবজন্তু) শব্দটি বারবার এসেছে। পাখি শব্দটি এসেছে ২০ বার। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু পাখির নামও এসেছে, যেমন, কাক ও হুদহুদ। পতঙ্গ ও সরীসৃপদের মধ্যে পিঁপড়া, মাছি, পঙ্গপাল, অজগর, মাকড়সা, উকুন, ব্যাঙ, সাপ ও মৌমাছির উল্লেখ পাওয়া যায়।
অনেক মুসলিম বিজ্ঞানী রয়েছেন যারা প্রাণীদের নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করেছেন এবং মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন।
কোরআন সমুদ্রের মাছের কথা উল্লেখ করেছে। মাছের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ‘হুত’ বা বিশালাকার মাছের কথা পাঁচবার এসেছে। এসব বিষয় প্রমাণ করে যে কোরআনের দৃষ্টিতে মানুষের জীবনে প্রাণীর গুরুত্ব কতখানি।
একইভাবে আমরা যদি হাদিসের দিকে তাকাই, তবে দেখব সেখানেও প্রাণীদের নিয়ে প্রচুর আলোচনা রয়েছে এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রে ফকিহগণ (আইনবিদগণ) প্রাণীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে পবিত্রতা ও অপবিত্রতা, জাকাত, দণ্ডবিধি, অপরাধ বিজ্ঞান, ইজারা (ভাড়া), খাদ্যদ্রব্য, শিকার, কোরবানি, দৌড় প্রতিযোগিতা এবং ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোতে প্রাণীদের অধিকার ও বিধান আলোচিত হয়েছে।
প্রাকৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও মুসলিম বিজ্ঞানীদের বিশাল অবদান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: জাহিজ প্রাণীবিজ্ঞান নিয়ে লিখেছেন ‘কিতাবুল হাইওয়ান’, ইবনে কুতাইবা ‘উয়ুনুল আখবার’ গ্রন্থে প্রাণীদের জন্য স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ রেখেছেন, আবু হাইয়ান তাওহিদির ‘আল-ইমতা ওয়াল মুআনাসা’ গ্রন্থে প্রাণী সম্পর্কে প্রচুর তথ্য রয়েছে, আদ-দামিরি লিখেছেন ‘হায়াতুল হাইওয়ান’ গ্রন্থটি।
এছাড়াও আরও অনেক মুসলিম বিজ্ঞানী রয়েছেন যারা প্রাণীদের নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করেছেন এবং মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন।
আবদুল্লাহিল বাকি: আলেম, লেখক ও সফটওয়্যার প্রোগ্রামার