আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান কোনটি

ছবি: ফ্রিপিক

পৃথিবীর বুকে সর্বোত্তম এবং পবিত্রতম ভূমি হলো মসজিদ। এটি ইসলামের শাশ্বত সংস্কৃতির এক জীবন্ত দর্পণ। মসজিদ এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলা, যেখানে প্রতিদিন পাঁচবার একই কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায় মুমিনরা।

এখানে রবের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের পাশাপাশি গড়ে ওঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।

মসজিদের পরিচয়

মসজিদ আরবি শব্দ, যার অর্থ অবনত হওয়ার স্থান। পারিভাষিক অর্থে নামাজের জন্য স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট স্থানকে মসজিদ বলা হয়। আর ব্যাপকার্থে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য পৃথিবীর সব পবিত্র স্থানই মসজিদ।

আল্লামা জারকাশি (রহ.) বলেছেন, ‘আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া নামাজ আদায় করতে পারতেন না; কিন্তু আমাদের জন্য পবিত্র সব জায়গায়ই নামাজ আদায় বৈধ করা হয়েছে।’ (জারকাশি, ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ, ২৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত, ১৯৮২)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি... আমার জন্য সমগ্র ভূপৃষ্ঠ পবিত্র ও মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের যেখানে যার নামাজের ওয়াক্ত হবে, সেখানে সে নামাজ আদায় করে নেবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৩)

পরিসংখ্যানমতে, বিশ্বে ৪০ লাখেরও বেশি মসজিদ রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে ৫ লাখেরও বেশি। আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশেই মসজিদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
আরও পড়ুন

পরিসংখ্যানমতে, বিশ্বে ৪০ লাখেরও বেশি মসজিদ রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে ৫ লাখেরও বেশি। আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশেই মসজিদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।

মসজিদ আল্লাহর ঘর

মসজিদকে ‘আল্লাহর ঘর’ বলার অর্থ হলো, এটি দুনিয়ার বুকে সর্বাধিক পবিত্র ও বরকতময় স্থান।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় এই দুনিয়ায় আল্লাহর ঘর হলো মসজিদসমূহ। আর আল্লাহ ওই ব্যক্তির মর্যাদাবৃদ্ধির দায়িত্ব নিয়েছেন, যে তাঁর ঘর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস: ২০৪৪৭)

মসজিদ জান্নাতের বাগান

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন জান্নাতের বাগানে যাবে, তখন সেখান থেকে ফল ভক্ষণ করো।’ সাহাবিরা বললেন, ‘আল্লাহর রাসুল, জান্নাতের বাগান আবার কী?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘জান্নাতের বাগান হলো মসজিদসমূহ।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৯)

অন্য এক হাদিসে মসজিদকে ‘আখেরাতের বাজার’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে (কানজুল উম্মাল, হাদিস: ২০৩৪৮)

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান বাজার।
সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৭১
আরও পড়ুন

দুনিয়ার প্রথম ও শেষ ঘর

মসজিদ দুনিয়ার প্রথম ঘর। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে সেটা হলো এই ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং তা বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়ত ও বরকতময়।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৬)

কোনো কোনো মুফাসসিরের মতে, জমিন সৃষ্টির সূচনাও সেখান থেকেই হয়েছিল। কেয়ামতের দিন সব মসজিদ কাবা শরিফের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হবে এবং জান্নাতে চলে যাবে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামত দিবসে মসজিদ ছাড়া সারা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে এবং মসজিদগুলো পরস্পরে মিলিত হয়ে এক জায়গায় জমা থাকবে।’ (তাবারানি, আল-মুজামুল কাবির, ১/২১, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, কায়রো, ১৯৯৪)

মসজিদের প্রতিবেশি হওয়ার ফজিলত

মসজিদের প্রতিবেশি হওয়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘর মসজিদের নিকটবর্তী তার ফজিলত মসজিদের দূরবর্তী ঘর অপেক্ষা এরূপ, যেমন গাজি মুজাহিদের ফজিলত সাধারণ মুজাহিদের ওপর।’ (ইসমাইল হাক্কি, তাফসিরে রুহুল বায়ান, ৪/৪৫৬, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত, ২০০৩)

তবে এর অর্থ এই নয় যে দূর থেকে আসা নিরর্থক। যত দূর থেকে হেঁটে মসজিদে আসা হবে, সওয়াব তত বেশি হবে।

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান বাজার। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৭১)

সুতরাং মুমিনের কর্তব্য হলো মসজিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং একে হেদায়ত ও সফলতার কেন্দ্র হিসেবে আঁকড়ে ধরা।

ইলিয়াস মশহুদ: গবেষক ও প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন