বিনয়ী মুমিন হওয়ার কার্যকর ৬ উপায়

ছবি: পেক্সেল

মানুষের আসল সৌন্দর্য শুধু তার চেহারা, সম্পদ বা জ্ঞান নয়; বরং তার চরিত্রে। আর উত্তম চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো বিনয়। বিনয় মানুষকে ছোট করে না; বরং আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান ও মানুষের কাছেও প্রিয় করে তোলে।

বিনয়ী চরিত্র গঠনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

১. নেয়ামতকে আল্লাহর অনুগ্রহ ভাবা

অহংকারের অন্যতম কারণ হলো নিজের অর্জনকে কেবল নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের ফল মনে করা। অথচ মানুষের জ্ঞান, সম্পদ, সৌন্দর্য, ক্ষমতা, সম্মান—সবই মহান আল্লাহর দান। তিনি চাইলে মুহূর্তেই এসব ফিরিয়ে নিতে পারেন।

আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে যে নেয়ামত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৫৩)

এই বিশ্বাস যত গভীর হবে, মানুষ তত বেশি কৃতজ্ঞ হবে। আর কৃতজ্ঞ হৃদয় অহংকার নয়, বিনয়ই স্থান পায়।

২. অপরের সেবা করা

বিনয় শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। রাসুল (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। তবু তিনি নিজ হাতে ঘরের কাজ করতেন, অসুস্থদের খোঁজ নিতেন, দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে আহার করতেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদায় উন্নীত করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)

মানুষের উপকার করা, কারও কষ্ট লাঘব করা কিংবা প্রতিদানের আশা ছাড়াই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এসব অভ্যাস মানুষের হৃদয়কে কোমল করে এবং আত্মাকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়।

৩. বিনয়ী মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করা

মানুষ তার বন্ধু ও সঙ্গীদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। তাই এমন মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা উচিত, যারা সৎ চরিত্র, বিনয় ও তাকওয়ার অধিকারী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাই তোমাদের প্রত্যেকের উচিত, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে তা লক্ষ্য করা।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩)

সৎ ও বিনয়ী মানুষের সান্নিধ্য মানুষকে সুন্দর চরিত্র গঠনে সহায়তা করে এবং অহংকার ও আত্মগর্ব থেকে দূরে রাখে।

৪. ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া

ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ভুল বুঝেও তা স্বীকার না করা কিংবা ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানানো বিনয়ের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন

একজন বিনয়ী মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। বরং আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান এবং ভুল সংশোধনের চেষ্টা করেন। এতে তার মর্যাদা কমে যায় না; বরং তিনি মানুষের কাছে আরও সম্মানিত হন এবং আল্লাহর কাছেও প্রিয় হয়ে ওঠেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর রহমানের বান্দারা তো তারা, যারা পৃথিবীতে বিনয়ের সঙ্গে চলাফেরা করে...।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৬৩)

৫. মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা

মানুষ যখন দুনিয়ার চাকচিক্য, সম্পদ ও ক্ষমতার মোহে ডুবে যায়, তখন অহংকার সহজেই তার হৃদয়ে স্থান করে নেয়। এই অহংকার দূর করার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো মৃত্যু ও আখিরাতকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দুনিয়ার স্বাদ বিনষ্টকারী তথা মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৮২৩)

মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, আজ যে সম্পদ, সম্মান ও ক্ষমতা নিয়ে সে গর্ব করছে, একদিন সেগুলোর কোনোটিই তার সঙ্গে যাবে না। সঙ্গে যাবে শুধু তার ইমান, নেক আমল এবং উত্তম চরিত্র।

৬. দোয়া করা

বিনয় অর্জন শুধু ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এর জন্য আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকও প্রয়োজন। কারণ, মানুষের অন্তরের পরিবর্তনের মালিক একমাত্র আল্লাহ।

তাই একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত আল্লাহর কাছে উত্তম চরিত্র, বিনয় ও আত্মশুদ্ধির জন্য দোয়া করা।

নবীজি (সা.) উত্তম চরিত্রের জন্য আল্লাহর কাছে এই দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ, তুমি আমার চরিত্রকে সুন্দর করে দাও, যেমন তুমি আমার অবয়ব সুন্দর করেছ।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৩৮২৩)

  • রায়হান আল ইমরান: লেখক ও গবেষক

আরও পড়ুন