‘টেস্ট ক্রিকেটার’ মাহমুদুল এখন টি-টোয়েন্টিরও
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয় বছর কাটিয়ে দিয়েছেন মাহমুদুল হাসান। তাঁর এই পুরোটা সময়ই কেটেছে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে। উত্থান–পতনের সবকিছুই টেস্টে ২০টি ম্যাচ ঘিরে। মাহমুদুলের গায়ে তাই ‘টেস্ট ক্রিকেটার’ তকমাও সেঁটে গেছে।
কিন্তু গত কয়েক মাসে যেন টি–টোয়েন্টিতে নতুন চেহারায় আবির্ভূত হয়েছেন মাহমুদুল। মাঝে ‘দ্বিতীয় সারি’র জাতীয় দলের হয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ৩ টি–টোয়েন্টি খেলেছিলেন, তাতে রান মাত্র ৫। সব মিলিয়ে ৭৩ টি–টোয়েন্টিতে তাঁর স্ট্রাইক রেটও আহামরি নয়—১২০.৪৯।
অথচ সর্বশেষ এনসিএল টি–টোয়েন্টিতেই কিনা ১৫৫.২৮ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন মাহমুদুল। শুধু যে ভালো স্ট্রাইক রেট ছিল তা–ই নয়, ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও। চট্টগ্রামের জার্সিতে ৮ ম্যাচে ১টি সেঞ্চুরিসহ করেছিলেন ৩২৩ রান। সেই ছন্দটা কাল মাহমুদুল দেখিয়েছেন বিপিএলেও। চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে আগের তিন ম্যাচে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তবে কাল সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ২০৯.৫২ স্ট্রাইক রেটে ২১ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় করেছেন ৪৪ রান।
টেস্টের মাহমুদুল যে এখন টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে বেশ উন্নতি করেছেন, সেটি স্পষ্ট তাঁর ব্যাটিংয়েই। মাহমুদুল কাল সিলেটের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘(টি টোয়েন্টির জন্য) স্পেসিফিক তো কাজ করা হয় মাঝেমধ্যে। এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে খুব ভালো গিয়েছিল। ওই ফ্লোটা আমি চেষ্টা করেছি ধরে রাখার।’
টেস্ট ক্রিকেটে জাতীয় দলে আছেন, এমন অনেক ক্রিকেটারই বিপিএলে সুযোগ পান না। ওপেনার সাদমান ইসলাম যেমন বিপিএলে শুরুতে দল পাননি। মুমিনুল হক বা শাহাদাত হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না।
তবু বিপিএলে একাদশে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে মাহমুদুল আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এনসিএল টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের জন্যই, ‘আমি সর্বশেষ এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ভালো খেলেছি। আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে যেখানেই খেলি, যেই ম্যানেজমেন্টই থাকুক, আমি ম্যাচ খেলব, সেখানে ভালো করার চেষ্টা করব।’
সুযোগটা কাল মাহমুদুল ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারায় সহজে জয় পেয়েছে তাঁর দল চট্টগ্রামও। ৬ ম্যাচের চারটিতে জিতে এখন তারা আছে টেবিলের শীর্ষেও। এমন দিনে মাহমুদুলের আছে ফিফটি করতে না পারার আফসোস, ‘খুব ভালো উইকেট ছিল। যদি ইনিংসটা আরও ভালো হতো আমার কাছেও ভালো লাগত, দলের জন্যও আরও ভালো হতো। দুইশর বেশি রান হতো যদি ক্যারি করতে পারতাম।’