১৬ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ৪৬ রান। তখন মাত্র ১টি করে ওভার বাকি ছিল মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, সাকিব ও মোসাদ্দেকের। ব্রিসবেনের এ মাঠে তখন পর্যন্ত দিনটা সুবিধার যায়নি বাংলাদেশ স্পিনারদের।

সাকিব ও মোসাদ্দেকের প্রথম ৬ ওভারেই এসেছিল ৫১ রান। তবে সে সময় বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিল শন উইলিয়ামস ও রায়ান বার্লের জুটি। ১৭তম ওভারেই সাকিব ঝুঁকলেন মোস্তাফিজের দিকে, পরের ওভারে আনলেন হাসানকে।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ দিকে সৌম্য সরকারকে এনেছিলেন সাকিব, আজ অবশ্য নিজেই এলেন ১৯তম ওভার করতে। শেষ ওভারে বাজিটা খেললেন মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে।

শেষ ওভারে মোসাদ্দেক সফল হয়েছেন সাকিবের পরিকল্পনাতেই, ‘১৬তম ওভার থেকেই আমি জানতাম। ইয়র্কার করব নাকি লেংথ, বল করার আগে দুরকম কথা হয়েছিল। মাঠটা সামনের দিক থেকে ছোট। ইয়র্কার করতে গেলে লেংথ মিস করে গেলে ছয় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এ জন্যই পরিকল্পনা করছিলাম ব্যাক অব আ লেংথে একটু জোরের ওপর করব। আমার চিন্তাভাবনা ছিল, সাকিব ভাই যে প্ল্যান দিয়েছেন, তার বাইরে যাব না।’

এমনিতেও মোসাদ্দেক অনিয়মিত বোলার। স্নায়ুর চাপটা তাই বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এখানেও মোসাদ্দেকের মুক্তি মিলেছে সাকিবের সঙ্গে কথা বলে, ‘ক্রিকেট খেলায় যেকোনো কিছুই হতে পারে। স্নায়ুর চাপের ব্যাপারে আমি সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওনার সঙ্গে আমার কথা হওয়ার পর চাপ নিয়ন্ত্রণে ছিল।’

ইনিংসের শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৫ রান। মোসাদ্দেক স্নায়ু ধরে রাখলেও ভুল করে ফেললেন উইকেটকিপার নুরুল হাসান। ব্লেসিং মুজারাবানিকে স্টাম্পিং করতে স্টাম্পের আগেই বল ধরে ফেলেন তিনি। স্টাম্পিংয়ের বদলে টেলিভিশন আম্পায়ার দিয়েছেন নো বল। করমর্দন করে ড্রেসিংরুমে দিকে যাওয়ার পরও আবার মাঠে নামতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে।

নুরুলের এমন কাণ্ডে পুরো দলের সঙ্গে চাপ ছিল সাকিবের ওপরও। ৫ রানের প্রয়োজনীয়তা তখন নেমে এসেছে ৪ রানে, মানে একটি বাউন্ডারি হলেই জিতে যাবে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক সাকিবের সে চাপ সামলাতে তাঁকে সহায়তা করেছেন মোসাদ্দেক।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মোসাদ্দেকের সঙ্গে কথা বলেছি। সে আমাকে বলেছে, “উদ্বেগের কিছু নেই। আমি ঠিক আছি এবং সবকিছু সামলে নেব।” তার কথায় আমি শান্ত হয়েছি, স্বস্তি পেয়েছি।’