টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় ডান হাঁটুতে চোট পান আফ্রিদি। ইনিংসের ১৩তম ওভারে লং অফ থেকে ছুটে এসে হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ নেওয়ার সময় ওই হাঁটুতে ভর দিয়ে পড়তে হয় তাঁকে। ব্যথার ভাবটা চোখেমুখে এরপরই ফুটে ওঠে তাঁর। ফিজিওর সঙ্গে উঠে যান। মাঠে ফিরে ১৬তম ওভারে নিজের তৃতীয়টি করতে আসেন, তবে ভুগছিলেন।

১ বল করলেও ওভার শেষ করতে পারেননি। আবারও উঠে যেতে হয় তাঁকে। সে সময় ইংল্যান্ডকে বেশ চাপে রাখলেও বোলিংয়ে তেমন অপশন ছিল না বাবর আজমের হাতে। আফ্রিদির ওভার শেষ করতে আসা ইফতিখার আহমেদের পর মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওপর চড়াও হন বেন স্টোকস ও মঈন আলী। পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। আফ্রিদির অনুপস্থিতি পাকিস্তানকে ভুগিয়েছে, ম্যাচ শেষে সেটি স্বীকার করে নেন অধিনায়ক বাবর।

হাঁটুর এ চোটের কারণেই প্রায় সাড়ে তিন মাস মাঠের বাইরে ছিলেন আফ্রিদি। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়েছিলেন। অবশ্য তাঁকে ফেরানোর ব্যাপারে তড়িঘড়ি করেছে পিসিবি, এমন সমালোচনা আছে। প্রথমে নেদারল্যান্ডস সফর দিয়ে তাঁকে মাঠের ফেরানোর কথা জানানো হয়েছিল। সেটি হয়নি। পিসিবি জানায়, লিগামেন্টের চোটে প্রায় ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। এরপর এশিয়া কাপেও দলের সঙ্গে থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যান তিনি।

আফ্রিদিকে এরপর পাঠানো হয় ইংল্যান্ডে। যদিও সেখানে তাঁকে দেখভালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পিসিবি নেয়নি, এমন অভিযোগ আনেন তাঁর হবু শ্বশুর সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। সে অভিযোগের পাল্টা জবাবও দেয় পিসিবি। ইংল্যান্ডে পিসিবির প্যানেল চিকিৎসকদের অধীনে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া চলে তাঁর। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কাজ করেন তিনি। এ সময়ে এশিয়া কাপ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাত ম্যাচের সিরিজে খেলা হয়নি তাঁর।

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরা আফ্রিদির ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছিল। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে ভারত ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন। এরপরই নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেন। নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২ ম্যাচ মিলিয়ে ৪ উইকেট নেওয়ার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১ ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪ রানে নেন ২ উইকেট। ফাইনালে চোট পেয়ে উঠে যাওয়ার আগে ২.১ ওভারে ১৩ রানে নেন ১ উইকেট, প্রথম ওভারে অ্যালেক্স হেলসকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত করেন তিনিই।

আফ্রিদির অবশ্য এমনিতেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলার কথা ছিল না। দীর্ঘ সংস্করণে আরও সময় নিয়ে তাঁকে ফেরাতে চেয়েছিল পিসিবি। তবে নতুন করে চোটে পড়ায় সে পরিকল্পনা আপাতত আরেকটু দীর্ঘায়িতই হচ্ছে। আফ্রিদির অনুপস্থিতিতে টেস্ট দলে ডাক পেতে পারেন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ফাস্ট বোলার হারিস রউফ।

আগামী ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হবে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।