২৪০ স্ট্রাইক রেটে ৮৪ করে তিনি বললেন, ‘আমার হাতে অনেক শট নেই’
২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভিষেকের পর দেশের হয়ে খেলেছেন ৩৪ টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। এ পর্যন্ত ৬২৮টি ডেলিভারি খেলে স্ট্রাইক রেট ১৯০.৯২। সেঞ্চুরি ২টি, ফিফটি ৭টি। সাম্প্রতিকতম উদাহরণও দেওয়া যায়। নাগপুরে গতকাল সিরিজে প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ৮ ছক্কা ও ৫ চারে ২৪০ স্ট্রাইক রেটে ৩৫ বলে করেন ৮৪। নতুন বল মেরে কীভাবে পুরোনো বানাতে হয়, দেখালেন আবারও। কিন্তু এরপর তাঁর কথা শুনে বিস্ময়ে চোখ কপালে উঠতে পারে, ‘আমার হাতে অনেক শট নেই।’
এতক্ষণে বুঝে ফেলার কথা এই ভদ্রলোকের নাম অভিষেক শর্মা। ব্যাট হাতে নামলে অবশ্য বোলারদের জন্য আর ভদ্রলোকটি তিনি থাকেন না। মেরে বলের ছাল-চামড়া তুলে নেন! এই দর্শন গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁকে এনে দিয়েছে দারুণ এক অর্জনও। স্বীকৃত টি-টুয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বল খেলে দ্রুততম ৫ হাজার রানের রেকর্ড এখন অভিষেকের। ২৮৯৮ বলে রেকর্ডটি গড়ার পথে অভিষেক পেছনে ফেলেছেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলকে (২৯৪২)। স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতে ১৬৫ তাঁর রানসংখ্যা ৫০০২।
আমি রেঞ্জ হিটিং করি না, কারণ আমি অতটা শক্তিশালী নই। আমি টাইমিং নির্ভর ব্যাটার। তাই আমার কাজ হলো বলটা দেখে কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। এ কারণে আমি ম্যাচের এক দিন আগে কিংবা নেট সেশনের সময়ই পরিকল্পনা করি।ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা
আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৩৮ রান তুলেছিল ভারত। অভিষেকের ঝোড়ো ইনিংসের পাশাপাশি ২০ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন রিংকু সিং। তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৯০ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। অভিষেকের ইনিংসটির যা একটু জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ৪০ বলে ৭৮ রান করা গ্লেন ফিলিপস। ৪৮ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।
জয়ের পর অভিষেকের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে ফিলিপস বলেন, ‘সে আইপিএলে বিশ্বের দ্রুততম কিছু বোলারের বিপক্ষে এটা করছে। কেউ যখন এমন ফর্মে থাকে তখন ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টাটা থাকে এবং আশা করতে হয় সে যেন ভুল করে...তবে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিতে ভাগ্যের সহায়তা লাগে।’
পাওয়ার প্লেতে চারটি ছক্বা মারেন অভিষেক। প্রথম চারটি মারেন তারপর। অভিষেক যেমন মারমুখী মানসিকতায় ব্যাট করেন তাতে ওপেনিংয়ে নেমে কন্ডিশন বুঝে নেওয়ার মতো সময় তিনি নিজেই নিজেকে দেন না। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এভাবে কীভাবে ব্যাট করা সম্ভব—এমন প্রশ্নের উত্তরে পুরস্কার বিতরণীতে অভিষেক বলেন, ‘বোলারদের কিংবা নিজের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখলে একটা ধারণা পাওয়া যায়—বোলার আমাকে কোথায় বল করতে চাইছে কিংবা আমি কোথায় শট খেলতে চাইছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হলো নিজের শটের ওপর ভরসা রাখা। কারণ, আমার হাতে অনেক বেশি শট নেই, অল্প কিছু শট। সেগুলো অনেক অনুশীলন করে (ম্যাচে) ঠিকভাবে খেলার চেষ্টা করি।’
আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে এ সংস্করণে ছক্কা মারায় সবার ওপরে ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি—৩৩ ইনিংসে ৮১ ছক্কা। অথচ অভিষেকের দাবি, তাঁর ব্যাটিং পুরোপুরি পাওয়ার-হিটিং নির্ভর নয়। যুক্তিগুলো শুনুন তাঁর মুখেই, ‘খেয়াল করে দেখবেন, আমি রেঞ্জ হিটিং করি না, কারণ আমি অতটা শক্তিশালী নই। আমি টাইমিং নির্ভর ব্যাটার। তাই আমার কাজ হলো বলটা দেখে কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। এ কারণে আমি ম্যাচের এক দিন আগে কিংবা নেট সেশনের সময়ই পরিকল্পনা করি।’
অভিষেক তাঁর খেলা ৩৫ বলে ২৮ রান নিয়েছেন দৌড়ে এবং বাউন্ডারি মেরেছেন ১৩টি। এভাবে ব্যাট করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বলেন, ‘আমি মনে করি উচ্চমাত্রার ঝুঁকি নেই। বলছি না এটা আমার স্বস্তির জায়গা, কিন্তু আমার কাছে দলটাই আগে, কারণ তারা (দ্রুত রাত তুলতে) প্রথম ছয় ওভার ব্যবহার করতে চায়। সব দলেরই প্রধান বোলাররা প্রথম তিন-চার ওভারে বোলিং করেন। তাদের কাছ থেকে প্রথম তিন-চার ওভারে রান নিতে পারলে আমরা সুবিধাটা পেয়ে যাই।’