ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কা আর বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা: অটল-উৎকণ্ঠার ২২ দিন

আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফিআইসিসি
তিন সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা—২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। একনজরে দেখে নিন কবে কী ঘটেছিল।

৩ জানুয়ারি ২০২৬

বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেয়। ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি শিকার করে’ মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেব না। গোলামির দিন শেষ।’ সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

৪ জানুয়ারি ২০২৬

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দল ঘোষণা। আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না; বিসিবি ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর অনুরোধ জানায় আইসিসিকে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চুপ করে বসে থাকার উপায় নেই, প্রতিক্রিয়া দেখাতে হচ্ছে।

৫ জানুয়ারি

মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়।

৬ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসির সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক বিসিবির। ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়, বৈঠকে আইসিসি বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানো সম্ভব নয়

৭ জানুয়ারি ২০২৬

বিসিবি জানায়, আইসিসি আলটিমেটাম দেয়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, দেশের মর্যাদার প্রশ্নে আপস করে ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।

বিসিবির ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধে প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি

৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে দ্বিতীয় দফা ইমেইল করে বিসিবি।

১২ জানুয়ারি ২০২৬

ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, আইসিসির নিরাপত্তা দল ভারতে মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশ দলের জন্য তিনটি বড় ঝুঁকির কথা বলেছে। উপদেষ্টা আবারও ভারতে না যাওয়ার অনড় অবস্থানের কথা বলেন।

আরও পড়ুন

১৩ জানুয়ারি ২০২৬

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে আবার অনুরোধ করা হয়েছে।

১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি আবারও বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। গণমাধ্যমগুলো জানায়, ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের অনুরোধও করেছে বাংলাদেশ।

১৮ জানুয়ারি ২০২৬

পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে পিসিবি।

আরও পড়ুন

১৯ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ না খেললে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার খবর আসে এবং এটাও শোনা যায়, আইসিসি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

২০ জানুয়ারি ২০২৬

ক্রীড়া উপদেষ্টা আবারও সাফ জানিয়ে দেন, কোনো ‘অযৌক্তিক চাপে’ পড়ে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে না। বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির

২১ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসি বোর্ড সভায় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত। বিসিবিকে ভারতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে এক দিন সময় দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

২২ জানুয়ারি ২০২৬

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আইসিসি নিরাপত্তাশঙ্কার বিষয়টি আমলে না নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি সুবিচার করেনি, ভারত সরকারও বাংলাদেশকে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো রকম আশ্বস্ত করেনি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা বিশ্বকাপে খেলতে চাই। তবে সেটা ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায়।

একই দিন বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলের অনুরোধ জানিয়ে আবারও আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির হস্তক্ষেপ চাওয়া হয় তাতে।

২৪ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই দাবি করে আইসিসি আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানায়, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্তে খেলবে স্কটল্যান্ড।

এর কিছুক্ষণ আগে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বাংলাদেশের ভেন্যু বদলের অনুরোধের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন