ক্রাইস্টচার্চে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে খেলেছিলেন ২৯ বলে ৩৩ রানের ইনিংস। ওই এক ইনিংসেই কপাল খুলে যায় নাজমুলের। ক্রাইস্টচার্চের সেই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ ইনিংসের উদ্বোধন করে আসছেন। প্রতি ম্যাচে ভালো শুরুও পাচ্ছিলেন। কিন্তু ইনিংস লম্বা হচ্ছিল না।

তারপরও দলে আর কোনো বিকল্প ওপেনার না থাকায় নাজমুল দলে সুযোগ পেয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তা কাজেও লাগালেন। ব্রিসবেনে আজ বাংলাদেশের ইনিংসের মধ্যমণি হয়ে থাকলেন নাজমুল। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারেই বাউন্ডারি মেরেছেন। পাওয়ারপ্লেতে ১৯ বলে করছেন ১৮ রান। ফিফটি পর্যন্ত নাজমুলের ব্যাটিংয়ে ছিল এক ধরনের আড়ষ্টতা। তা করতে ৪৫ বল লাগিয়ে ফেলেছেন।

এরপর দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন নাজমুল। ব্র্যাড ইভান্সের করা ১৬তম ওভারে ১টি ছক্কা ও ২টি চার মেরে স্ট্রাইক রেট ভদ্রস্থ করেন। আউট হওয়ার আগে দলকেও লড়ার মঞ্চ গড়ে দেন। ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলে আউট হওয়ার পর নাজমুলের শরীরী ভাষায় ছিল এক রাশ হতাশা।

ম্যাচ শেষে অবশ্য সে হতাশা খুশিতে রূপ নেয়। এমন নাটকীয় একটা জয়ের পর অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক। সংবাদ সম্মেলনে আসার পর শেষ ওভার ও শেষ বলের রোমাঞ্চ নিয়েই প্রথম প্রশ্ন করা হলো তাঁকে। এমন অভিজ্ঞতা আর কখনো হয়নি বলে জানালেন নাজমুল, ‘আমি কখনো দেখিনি। আমার জন্য একদম প্রথম। আমাদের দলে সবার জন্যই নতুন এক অভিজ্ঞতা। দিন শেষে ফলটা আমাদের পক্ষে এসেছে, এটাই বড় কথা।’

এমন দিনে দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেও গর্বিত নাজমুল। সে কারণেই নিজের ইনিংসটি তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, ‘আমার জন্য বিশেষ ইনিংস বলতেই হয়। আমার প্রথম ফিফটি ছিল এটি। আমার বেশ কয়েকটি ইনিংসের শুরুটা ভালো ছিল। কিন্তু বড় করতে পারছিলাম না। আজ নিজের মধ্যে সেই নিবেদন ছিল, যেন আমি থিতু হলে বড় ইনিংস খেলতে পারি।’

বড় ইনিংস খেলার এই রেসিপিটা সবার জানা। কিন্তু বার বার ব্যর্থ হওয়ায় নাজমুলকে নিয়ে হয়েছে অনেক সমালোচনা। এ সময় অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়কের সমর্থন পেয়েছেন বলেই জানালেন তিনি, ‘আমি অনেক চাপে ছিলাম, সেটা বললে ভুল হবে। অনেক চাপে ছিলাম না। ম্যানেজমেন্ট, অধিনায়ক, সবাই খুব সমর্থন করেছে। আর আজ আমি ব্যতিক্রম কিছু করিনি। ভালো শুরু পাচ্ছিলাম, কিন্তু লম্বা হচ্ছিল না। আজ সেটা করতে পেরেছি।’