ভারতের এমন হারের পর পিসিবির চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজার মন্তব্য, ‘শতকোটি ডলারের টি–টোয়েন্টি লিগের ক্রিকেটারদের চেয়ে তাহলে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা ভালো।’

বিশ্বকাপ ফাইনালে রোববার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ইংল্যান্ড খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সে ম্যাচ উপভোগ করতে এ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন রমিজ রাজা।

কাল ভারত হারার পর সংবাদকর্মীদের তিনি বলেছেন, ‘শতকোটি ডলারের লিগ খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দল আমাদের দলের পেছনে। তার মানে, আমরা সঠিক পথেই আছি। ক্রিকেট উন্নয়নে আমরা যা করছি, তা ঠিকই করছি।’

আইপিএলকে রমিজের খোঁচা এই প্রথম নয়। বিশ্বকাপের আগেও তিনি এই ‘শতকোটি ডলারে’র খোঁচা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সবারই উচিত, বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দেওয়া। তারা তো গত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতকোটি ডলারের লিগ খেলা ভারতীয় দলকে হারিয়েছিল।’

ভারত–পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন রমিজ। তবে নিকট ভবিষ্যতে এই সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা যে নেই বললেই চলে, সেটিও জানিয়েছেন।

কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার সাইমন ও’ডুনেল জানিয়েছিলেন, ভারত–পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ আয়োজনের নিরপেক্ষ ভেন্যু হওয়ার একটা প্রস্তাব ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দিয়ে রেখেছে। রমিজ বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো প্রস্তাবের ব্যাপারে জানি না।’

১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন রমিজ রাজা। সেবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে তাঁর শতরানেই সেমিফাইনাল খেলার রাস্তা পরিষ্কার হয়েছিল পাকিস্তানের। ফাইনালে ইংল্যান্ডের শেষ উইকেটটির পতন ঘটেছিল তাঁর ক্যাচেই।

এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের যাত্রাপথের সঙ্গে ৩০ বছর আগের সেই বিশ্বকাপের মিল দারুণ অবাক করছে রমিজ রাজাকে। ১৯৯২ সালের মতো এবারও পাকিস্তান সেমিফাইনাল খেলেছে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে। ’৯২ বিশ্বকাপেও মেলবোর্নের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পেয়েছিল ইমরান খানের পাকিস্তান।

রমিজ পুরো ব্যাপারটিতে বেশ চমৎকৃত, ‘১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের অদ্ভুত মিল। ৩০ বছর আগের সেই আসরের মতো এবারও পাকিস্তান দলে একধরনের অদম্য মনোভাব, উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাচ্ছি। ’৯২–এ আমাদের আত্মবিশ্বাস এতটাই ছিল যে আমরা জানতাম, প্রতিপক্ষ যদি ১৫ জনের দল নিয়েও খেলে, তারপরও আমরা হারব না।’