কেন সূর্যকুমারের ইনিংস নিজেদের জন্য বিব্রতকর, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন ম্যাক্সওয়েল, ‘পরে পুরো ইনিংসের রিপ্লে দেখেছি। অসাধারণ। লজ্জার ব্যাপারটা হচ্ছে, সে অন্য সবার চেয়ে এত বেশি ভালো। এমন ইনিংস দেখা আসলে কঠিন। কারণ, দেখে মনে হয়, “আহ! ঈশ্বর!” তার কাছাকাছিও আসলে কেউ নেই আমাদের! কেউই নেই। আইপিএলে (জস) বাটলার খুব কাছাকাছি ছিল।’

ভারত ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং ম্যাক্সওয়েলকে শুধু অবাকই করছে, ‘সূর্যকুমার এমন অদ্ভুতভাবে ব্যাটিং করছে, সবকিছুই ব্যাটের মাঝামাঝি লাগছে। ক্রিজ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ১৪৫ কিলোমিটার গতির বলকে উড়িয়ে মারছে। চুইংগাম চিবোচ্ছে, ক্রিজে হেঁটে বেড়াচ্ছে। একটু ভাব নিচ্ছে। এরপর আবার ক্রিজে ফিরে করছে একই কাজ এবং এমনটা ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছে! এসব দেখা একটু কঠিন। কারণ, এগুলো দেখলে অন্যদের এত বাজে মনে হয়!’

এ বছর এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩১ ইনিংসে ১১৬৪ রান করেছেন সূর্যকুমার। ব্যাটিং গড় ৪৬.৫৬, স্ট্রাইক রেট ১৮৭.৪৩! সূর্যকুমার এমন অনায়াস ব্যাটিং কীভাবে করছেন, জানতে চাওয়া হলে ম্যাক্সওয়েল বলেছেন, ‘সে আসলে ফিল্ডারদের পজিশন নিয়ে খুব ভালোভাবে খেলে। তার কবজি আর হাতের গতি অনেক, শেষ মুহূর্তে গিয়ে সমন্বয় করতে পারে, ফলে গ্যাপ বের করতে পারে। শুরুতে বোলারদের চাপে ফেলতে অনেক জোরের ওপর খেলত। তবে এখন প্রথম ৪-৫ বলের মধ্যে তাকে আউট করতে না পারলে আমার মনে হয় না তাকে আউট করা যাবে। সে যেভাবে স্পিন খেলে, কাভারের ওপর দিয়ে খেলে, সুইপ ও রিভার্স সুইপ করে এবং সোজা খেলতে পারে—মাঠের এই চারদিকে খেলার যে সামর্থ্য!’

আপাতত ম্যাক্সওয়েলকে সময় কাটাতে হচ্ছে সূর্যকুমারদের ব্যাটিং দেখেই। বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলে শেফিল্ড শিল্ডের দুটি ম্যাচ খেলতে মুখিয়ে ছিলেন, মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলেন বিগ ব্যাশের জন্য। তবে এক বন্ধুর বাসায় অনুষ্ঠানে গিয়ে অদ্ভুতভাবে নিজের বাঁ পা ভেঙে ফেলেছেন। বলেছেন, এক জায়গায় পা আটকে গিয়েছিল তাঁর, এরপর এক বন্ধু পড়ে যান তাঁর পায়ের ওপর। সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে যান, কী ঘটেছে।

ব্যাপারটি বেশ হতাশার মনে করলেও ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে এসে এমন বিরতি তাঁর কাজে দেবে বলেই আশা করছেন এই অলরাউন্ডার। দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-হতাশা নিয়েও কথা বলেছেন। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবার ব্যর্থ হয়েছে সেমিফাইনালে উঠতেই।

বিশ্বকাপ নিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেছেন, ‘আপনার পক্ষে যদি কিছু ব্যাপার না থাকে, ভাগ্য পাশে না থাকে… প্রথম ম্যাচ আসলে প্রথম ৪ ওভারের মধ্যেই হেরে গিয়েছিলাম। ফিন অ্যালেন যখন মারছিল সব বলেই। আমরা আসলে সবকিছুই চেষ্টা করেছিলাম। সে তো এরপর রানই করেনি। আমাদের বিপক্ষে ভালো একটা দিন গেছে তার।’

সিডনিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। নেট রানরেটে পিছিয়ে পড়ে আর সুপার টুয়েলভ বাধা পেরোতে পারেনি তারা। তার ওপর ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। ম্যাক্সওয়েলের হতাশা আছে সেটি নিয়েও, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হতাশার ছিল। এমসিজিতে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, যারাই জিতত সেমিফাইনালে যেত। আমাদের সুযোগ ছিল নিজেদের অবস্থানটা দেখানোর।’