৮ কোটি টাকা নাকি বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট—কী বললেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক
অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য একই সময়ে দুটি বড় সূচি—ইংল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড, আর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। দ্য হানড্রেডে খেললে এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ, বিপরীতে দেশের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ।
টাকা বনাম টেস্ট, আর ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম দেশের প্রতিনিধিত্ব—এই দ্বিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটারদের। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, তাঁর দলের ক্রিকেটাররা টাকার লোভ ছেড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজই বেছে নিয়েছেন। তবে ক্লাব বনাম দেশ বিতর্কে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রাধান্য পেতে পারে বলে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি।
পিঠের চোট সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা কামিন্স এখন আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। মে মাসে আইপিএল শেষ করে জুন–জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়েও খেলার কথা।
অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে কামিন্সের পরের ব্যস্ততা আগস্টের বাংলাদেশ সিরিজ ঘিরে। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই ব্যস্ততার ভারসাম্যের বিষয়ে তাঁকে বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।
জবাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আর্থিক আকর্ষণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেট খুব ভালো সমর্থন পায়, টেস্টে গ্রীষ্মে প্রচুর দর্শক হয় এবং অনেক মনোযোগ থাকে। কিন্তু অন্য সব আন্তর্জাতিক দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক নয়। প্রতিটি দেশের চ্যালেঞ্জ কিছুটা ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যখন টেস্ট বা ওয়ানডে দল নির্বাচন করি, তখন দেখি যে কীভাবে সেরা খেলোয়াড়দের দলে পাওয়া যায়, কারণ অন্য জায়গায়ও তাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’
উদাহরণ হিসেবে কামিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও দ্য হানড্রেডের সূচির সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন।
অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের ব্যস্ততা শুরু হবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। তার আগে ২১ জুলাই ইংল্যান্ডে শুরু হবে এক শ বল ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা হানড্রেডের নিলামে নাম দেননি বলে জানান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক, ‘উদাহরণস্বরূপ, এই মৌসুমের দ্য হানড্রেডের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের যারা ওই টেস্ট সিরিজে খেলবে, তারা সবাই দ্য হানড্রেডের নিলাম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এটি চিরকাল এমন থাকবে না।’
দ্য হানড্রেডে না খেলায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আট কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে কামিন্স বলেন, ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন ‘টেনশনের’ পর্যায়ে আছে, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাঁচ লাখ পাউন্ড আয়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে স্রেফ বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। তাই আমি মনে করি এটি (ক্লাব বনাম দেশ দ্বন্দ্ব) একটি দুশ্চিন্তার জায়গা।’
তবে এই মুহূর্তে দেশের খেলাকে প্রাধান্য দিলেও আর্থিক কারণে বিষয়টি ভবিষ্যতে অন্য রকমও হতে পারে বলে মনে করেন কামিন্স, ‘আমাদের ছেলেরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই উদ্গ্রীব যে তারা সানন্দে সেটি ছেড়ে দিচ্ছে, তবে এমনটা সব সময় চলবে, এটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।’