ওমানকে টি–টুয়েন্টির ‘পাঠদান’ শ্রীলঙ্কার
আইসিসি টি–টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা ৮ম, ওমান ২০তম। ঘরের মাঠ পাল্লেকেলেতে টসে হেরে শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাটিং করে ৫ উইকেটে ২২৫ রান তোলার পর এই ম্যাচের ফল অনেকেই আন্দাজ করে নিয়েছিলেন।
সেই ধারণা আরও শক্ত ভিত পেয়ে যায় ওমান পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারানোয়। তারপর আসলে দেখার ছিল হারের ব্যবধান কত কমাতে পারে ওমান। একটাই সান্ত্বনা যে ২০ ওভার তারা খেলতে পেরেছে। ৯ উইকেটে ১২০ রানে থেমেছে ওমানের ইনিংস। ১০৫ রানের এই হারে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে দৃশ্যত বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল ওমানের। ‘বি’ গ্রুপ থেকে টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে সুপার এইটে ওঠার পথটা আরও পরিষ্কার করল দাসুন শানাকার শ্রীলঙ্কা।
ওমানের ব্যাটিংয়ের সময় পাল্লেকেল্লে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কয়েকজন দর্শককে হাই তুলতে দেখা গেছে। প্রথম ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬১। রান তাড়ার বিষয়টি বিবেচনার বাইরে রাখলে একেবারে খারাপও বলা যায় না এর আগে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে ১০ ওভার শেষে ভারতের ৪ উইকেটে ৬৩ রানের স্কোর দেখে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিচারে ওমান আসলে এই ম্যাচে কখনোই জেতার পথ তৈরি করতে পারেনি।
চারে নামা মোহাম্মদ নাদিম বলতে গেলে প্রায় একাই লড়ে গেছেন এক প্রান্তে। ৫৬ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ ওয়াসিম আলীর এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৫ ‘মি. এক্সট্রা’র। চতুর্থ উইকেটে নাদিম–ওয়াসিমের ৩৬ বলে ৪২ রানের জুটিতেই যা একটু আনন্দ পেয়েছেন ওমানের সমর্থকেরা।
আইসিসি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফিফটির রেকর্ড গড়লেন ৪৩ বছর ১৬১ দিন বয়সী নাদিম। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ফ্লাভিয়ান আপোনসোর (৪৩ বছর ১২১ দিন)। আজ ৫২ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে ছেলেদের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে মন্থরতম ফিফটির রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন নাদিম। সর্বশেষ ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার বিপক্ষে ৫২ বলে ফিফটি করেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান।
শ্রীলঙ্কার সমর্থকদের আনন্দে কোনো কমতি হয়নি। দলের বিস্ফোরক ব্যাটিং দেখার পর অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দলের বিপক্ষে তাঁরা যেমন বোলিং দেখতে চেয়েছেন, মহীশ তিকশানা–দুষ্মন্ত চামিরারা ঠিক সেটাই করেছেন। ২টি করে উইকেট নেন তিকশানা ও চামিরা।
ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল প্রথম থেকে। পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারে তুলেছে ২ উইকেটে ৫৮, পরের ৯ ওভারে আরও ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৮৮। এরপর শেষ ৫ ওভারে ৭৯ তুলতে হারিয়েছে ২ উইকেট।
কুশল মেন্ডিস, পবন রত্নায়েকে ও অধিনায়ক দাসুন শানাকার ফিফটিতে ভর করে এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০০৭ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ রানের পর ছেলেদের এই আসরে এটা শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।
৪৫ বলে ৬১ করেন কুশল মেন্ডিস। ২৮ বলে ৬০ রত্নায়েকের এবং শানাকা করেন ২০ বলে ৫০। এর মধ্যে শানাকা ১৯ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পথে টি–টুয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়েন। রত্নায়েকে তুলে নেন ২৪ বলে ফিফটি।
‘বি’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শ্রীলঙ্কা (৩.১২৫)। দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ার (৩.৩৫০) সংগ্রহ ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট। জিম্বাবুয়েও (২.৭০২) অস্ট্রেলিয়ার সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে। রানরেটে পিছিয়ে তারা। দুটি করে ম্যাচ খেলে পয়েন্ট না পাওয়া আয়ারল্যান্ড ও ওমান যথাক্রমে চারে ও পাঁচে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২২৫/৫ (কুশল মেন্ডিস ৬১, রত্নায়েকে ৬০, শানাকা ৫০; রামানন্দি ২/৪১, সুফিয়ান ১/৬০)।
ওমান: ২০ ওভারে ১২০/৯ (নাদিম ৫৩*, ওয়াসিম ২৭; তিকশানা ২/১১, চামিরা ২/১৯, ভেল্লালাগে ১/১৭)।
ফল: শ্রীলঙ্কা ১০৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: পবন রত্নায়েকে (শ্রীলঙ্কা)।