আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গতকাল কী এক অবিশ্বাস্য ম্যাচই না হলো! আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ টাই হওয়ার পর দ্বিতীয় সুপার ওভারে গিয়ে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই প্রথম দুটি সুপার ওভারের ম্যাচ।
প্রথম সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে ডেভাল্ড ব্রেভিস আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন ট্রিস্টান স্টাবস। দ্বিতীয় সুপার ওভারেও ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে শুধু প্রথম সুপার ওভারেই বোলিং করেছেন পেসার লুঙ্গি এনগিডি। দ্বিতীয় সুপার ওভারে বোলিং করেন স্পিনার কেশব মহারাজ।
আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন নিয়মে স্টাবস দুটি সুপার ওভারেই ব্যাট করতে পারলেন, কিন্তু এনগিডি দুবার বোলিং করতে পারলেন না।
স্টাবস কেন দুবার ব্যাট করতে পারলেন
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনে বলা হয়েছে, ‘যদি ম্যাচ টাই হয়, তাহলে একটি সুপার ওভারের খেলা হবে। যদি সেই সুপার ওভারও টাই হয়, তাহলে পরপর আরও সুপার ওভার খেলা হবে যতক্ষণ না কোনো পর্যন্ত কেউ বিজয়ী হয়। বিশেষ কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না হলে ফল নির্ধারণের জন্য সুপার ওভারের সংখ্যার কোনো সীমা থাকবে না।’
অর্থাৎ গতকাল দ্বিতীয় সুপার ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের জন্য শেষ বলে ৫ রান দরকার, তখন রহমানউল্লাহ গুরবাজ চার মারলে আবারও টাই হতো এবং তৃতীয় সুপার ওভারের খেলা খেলতে হতো।
প্লেয়িং কন্ডিশনের ‘অ্যাপেন্ডিক্স এফ’-এ সুপার ওভারের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় সুপার ওভারের প্রয়োজন হলে, ‘আগের সুপার ওভারে যে দল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেছিল, পরবর্তী সুপার ওভারে সেই দলই প্রথমে ব্যাট করবে।’ এ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সুপার ওভারে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে।
এই প্লেয়িং কন্ডিশনে আরও বলা হয়েছে, ‘আগের যেকোনো সুপার ওভারে যে ব্যাটার আউট হয়েছেন, তিনি পরবর্তী কোনো সুপার ওভারে ব্যাট করার যোগ্য থাকবে না।’ ফলে প্রথম সুপার ওভারে ফজলহক ফারুকির বলে আউট হওয়া ডেভাল্ড ব্রেভিস দ্বিতীয় সুপার ওভারে ব্যাট করার যোগ্য ছিলেন না।
তবে পরবর্তী সুপার ওভারে কারা ব্যাট করতে পারবে, এ বিষয়ে আর কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় সুপার ওভারেও মিলার ও স্টাবসকে আবারও ব্যাট করতে পাঠাতে পারত এবং সেটাই করেছে তারা।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে এনগিডি কেন বোলিং করতে পারলেন না
দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় সুপার ওভারে বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজকে দিয়ে বোলিং করায়। জয়ের জন্য ২৪ রান করতে হতো আফগানিস্তানকে। মহারাজের প্রথম দুই বলে একটি ডট এবং উইকেট পেয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা দল।
কিন্তু গুরবাজ টানা তিন ছক্কায় ম্যাচের মোড় আবারও ঘুরিয়ে দেন। শেষ বলে ৫ রানে সমীকরণে আউট হন গুরবাজ। ৪ রানের অবিশ্বাস্য জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তার আগে মূল ম্যাচে ২৬ রানে ৩ উইকেট নেওয়া এনগিডি প্রথম সুপার ওভারে বোলিং করেন। এই সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে ১৭ রান তোলে আফগানিস্তান।
প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক এইডেন মার্করাম চাইলেও এনগিডিকে দিয়ে দ্বিতীয় সুপার ওভারে বোলিং করাতে পারতেন না। প্লেয়িং কন্ডিশনে বলা আছে, ‘আগের সুপার ওভারে বোলিং করা বোলার পরবর্তী সুপার ওভারে বল করার যোগ্য হবেন না।’