শূন্য রানে আউটের দৌড়: বাংলাদেশের পারভেজ ও ভারতের অভিষেক যেখানে সমান

ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মাঅভিষেকের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। কারও কারও কাছে অবিশ্বাস্যও লাগতে পারে।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই সংস্করণে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ছিলেন অভিষেক শর্মা। গতকাল ভারতের হয়ে গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হওয়ার আগে হালনাগাদকৃত র‌্যাঙ্কিংয়েও তিনি শীর্ষ ব্যাটসম্যান। এর পাশাপাশি তাঁর স্ট্রাইক রেটও চোখ রগড়ে দেখার মতো—১৯২.৪৩!

টি-টুয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে অন্তত ৩০ ইনিংসে ব্যাট করাদের মধ্যে এত স্ট্রাইক রেট আর কারও নেই। অথচ সেই অভিষেকই চলমান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ খেলেও রান করতে পারেননি!

অসুস্থতার কারণে নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি অভিষেক খেলতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান এবং সর্বশেষ গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাঁর স্কোর যথাক্রমে—০ (১), ০ (৪) ও ০ (৩)। অথচ এবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বেশির ভাগ বোলারের জন্য দুশ্চিন্তার সবচেয়ে বড় নামটি ছিলেন অভিষেক। কেউ কেউ তো এমনও ভেবেছিলেন, ২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজ সিংয়ের ওভারে ছয় ছক্কা এবং ১২ বলে ফিফটিকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন এই বাঁহাতি।

অভিষেককে আউট করে নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন। গতকাল আহমেদাবাদে
এএফপি

কিন্তু বিশ্বকাপের বাস্তবতা বলছে, অভিষেক এ পর্যন্ত শূন্য রানে আউট হওয়ার হ্যাটট্রিক করেছেন। ভারত সুপার এইটে ওঠায় হয়তো সেখান থেকেই রান করতে শুরু করবেন অভিষেক। তবে এরই মধ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায় উঠেছে তাঁর নাম। সেটা আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ওপেনারদের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চবার শূন্য রানে আউট হওয়ার তালিকা।

রেকর্ডটি আপাতত পাকিস্তানি ওপেনার সাইম আইয়ুবের দখলে। গত বছর ২৫ ইনিংসে ওপেন করে ৬ বার শূন্য রানে আউট হন সাইম। এই সংস্করণে ওপেনারদের মধ্যে এক বছরে এটাই সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে এ তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় ভারতের অভিষেক ও বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন।

আরও পড়ুন

গত বছর ২১ ইনিংসে ওপেন ৫ বার শূন্য রানে আউট হন পারভেজ। আর অভিষেক? এ বছর মাত্র ৮ ইনিংসে ৫ বারই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। অভিষেক যে পারভেজকে পেরিয়ে সাইমের রেকর্ডটি ভেঙে দিতে পারেন সেটা বলাই যায়। কারণ, চলতি বছরে এখনো ১০ মাসের বেশি সময় পড়ে আছে।

সহযোগী দেশগুলোর ওপেনারদের বিবেচনায় নিলে এক বছরে ৫ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন আরও তিনজন—নেপালের কুশল ভুরতেল, থাইল্যান্ডের চালোমেং চ্যাটফিয়াসন ও ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম কেশুমা।

প্রথম আলো গ্রাফিকস

সব পজিশনের ব্যাটসম্যান মিলিয়ে এক বছরে সর্বোচ্চবার শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড যৌথভাবে তিনজনের—রুয়ান্ডার জ্যাপি বিমিয়েনইয়ামিনা, অর্চাইড তুয়েসিঙ্গে ও পাকিস্তানের সাইমের। তিনজনই এক বছরে সর্বোচ্চ ৭ বার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। অর্থাৎ টেস্ট খেলুড়ে দেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক বছরে (২০২৫) সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড সাইমের। অভিষেক জানেন, রেকর্ডটি তাঁকে চোখ রাঙিয়ে ডাকছে।

টি-টুয়েন্টিতে টানা চার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির আছে চারজনের। সুপার এইটে ভারতের প্রথম ম্যাচেও অভিষেক যদি শূন্য রানে আউট হন, তাহলে এই তালিকাতেও উঠবে তাঁর নাম। তবে এই ধারা কীভাবে থামানো যায়, গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভারতের জয়ের পর স্টার স্পোর্টসে সেই পরামর্শ দেন সুনীল গাভাস্কার।

আরও পড়ুন

ভারতীয় কিংবদন্তির পরামর্শ, ‘সত্যি বলতে, তার শট খেলার যে বৈচিত্র্য আছে, তাতে তার একটু সময় নেওয়া উচিত। শুরুতেই চার বা ছক্কা মেরে রান করতে যাওয়া ঠিক নয়। হ্যাঁ, যদি সে এটা পেয়ে যায়, তবে ভালো কথা। কিন্তু ওই শটের জন্য আড়াআড়ি খেলার চেষ্টা করা উচিত নয়। এক রান নিতে পারে। চারটা বল ডট হলেও সে পুষিয়ে নিতে পারবে। আমার মনে হয়, শুরুতে তাকে একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলতে হবে। এক-দুই ওভার সময় নিয়ে...তারপর নিজের শটগুলো খেলুক।’

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন
এএফপি

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন মনে করেন, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেকের রান না পাওয়ার সমস্যা যতটা না কৌশলগত, তার চেয়ে বেশি মানসিক। আইসিসির ওয়েবসাইটে নাসের বলেন, ‘আমার মনে হয়, টানা তিনবার শূন্য রানে আউট হওয়া বিষয়টি মানসিক...তিনবার শূন্য রানে আউট হওয়াটা হঠাৎ করেই—মানে, সে যে অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে এটা বিশাল পতন। সে তো বল মারার ক্ষেত্রে ভীষণ ধারাবাহিকও।’

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আশীষ নেহরার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে তিনবার শূন্য রানে আউট হলেন অভিষেক। তবে টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যানও তিনি।