২৪ ঘণ্টায় অনেক কিছুই ঘটতে পারে, মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক
পাকিস্তান সরকার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি কূটনৈতিক উদ্যোগে পাল্টাতেও পারে বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সমাধান না এলে তা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হবে।
রোববার রাতে পাকিস্তান সরকার ভারত-ম্যাচ বয়কটের কথা জানানোর পর টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লতিফ এ সব কথা বলেন। পাকিস্তানের ‘অনেক ভেবেচিন্তে’ নেওয়া সিদ্ধান্তটি ভারত নয়, সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওপর আঘাত করবে বলে মনে করছেন তিনি।
বাংলাদেশ দিয়ে শুরু
নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ করেছিল। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তা আমলে না নিয়ে ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেয়। অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা শঙ্কা বিবেচনায় নেওয়া হলেও এবার কেন দ্বিচারিতা—এমন প্রশ্ন তুলে আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তখনই পিসিবিপ্রধান মহসিন নাকভি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পাকিস্তান বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
রশিদ লতিফ মনে করেন বাংলাদেশের বিষয়টিই এখানে বড় প্রভাব রেখেছে, ‘সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই সম্মত হয়েছিল যে আগামী তিন বছর আমরা হাইব্রিড মডেলে খেলব। এভাবেই দুবাইয়ে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমনকি শ্রীলঙ্কায় নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের নারী দল খেলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ঘটনার পর থেকে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।’
তাঁর মতে, পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা অতীতে সচরাচর দেখা যেত না। এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণই ক্রিকেটে প্রভাব ফেলছে।
ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত
লতিফ মনে করেন, পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান ভারতের ওপর নয়, সরাসরি আইসিসিকে আঘাত করবে। তিনি বলেন, ‘ভারত বা পাকিস্তান যেখানেই খেলা হোক, ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ বিশ্বকাপ দেখেন শুধু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কারণে।’
সিদ্ধান্তটা পাকিস্তান ভেবেচিন্তে নিয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বলেন, ‘পাকিস্তান সাধারণত এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় না। কিন্তু এবার পিসিবি কোনো নিষেধাজ্ঞার পরোয়াও করছে না। এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এ বছরই মেয়েদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, যেখানে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের ম্যাচ থাকতে পারে। এরপর ২০২৮ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আছে, যেটার আয়োজক ভারত, পাকিস্তান সেখানেও খেলতে পারে। সুতরাং বিষয়টা এখানেই শেষ হচ্ছে না। মনে হচ্ছে পাকিস্তান অনেক ভেবেচিন্তেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আর্থিক ক্ষতি ও ব্যবসায়িক প্রভাব
লতিফের বিশ্লেষণে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে শুধু এশিয়ার ক্রিকেট নয়, বরং অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো বোর্ডগুলোও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ব্যবসায়ীরা আমাদের সরকারের ঊর্ধ্বে। কিন্তু এখন খেলাটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী, তারা নিশ্চয়ই কোনো একটি সমাধান খুঁজে বের করবে।’
শেষ ভরসা কূটনীতি
সংকট যত গভীরই হোক না কেন, সমাধানের পথ খোলা আছে বলে মনে করেন রশিদ লতিফ। আশাবাদী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সবসময়ই একটি পর্দার আড়ালের কূটনীতি কাজ করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনেক কিছুই ঘটা সম্ভব।’ তবে শেষমেশ যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ও জনপ্রিয়তার কাঠামো ধসে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে লতিফ বলেন, ‘যদি সমাধান না আসে, তবে এটি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি বিপর্যয়।’