সেই লর্ডসেই আবার ২৭ বছরের অপেক্ষা ঘুচল দক্ষিণ আফ্রিকার
শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের রান লাগত ১৬ রান। শেষ উইকেটে জফরা আর্চারের সঙ্গে ছিলেন আরেক পেসার সাকিব মেহমুদ। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সেনুরান মুতুসামির ওভারে আর্চার দুই চারে নিতে পারেন ১০ রান। ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করা আর্চার শেষ বলে ছক্কা মারতে পারলে হতো সুপার ওভার। সেটা তিনি পারেননি। শেষ পর্যন্ত গতকাল রাতে লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড হেরে গেছে ৫ রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার করা ৩৩০ রানের জবাবে ইংল্যান্ড তুলতে পারে ৩২৫ রান। এ জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯৮ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়।
সম্প্রতি লর্ডসের মাটিতেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল জেতার মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার আইসিসি ট্রফি জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের খারাপ সময় চলছেই। সর্বশেষ ৩১টি ওয়ানডেতে এটি তাদের ২১তম হার। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের পাঁচটিতেই হারল ইংল্যান্ড।
জয়ের জন্য ৩৩১ রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুতেই ধাক্কা খায়। প্রথম বলেই আউট হন ওপেনার জেমি স্মিথ। আরেক ওপেনার বেন ডাকেটও ফেরেন ৩৩ বলে ১৪ রান করে। যদিও জো রুটের সঙ্গে তাঁর জুটি থেকে আসে ৬৬ রান। রুট বেথেলের সঙ্গেও ৬৪ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। রুট ৬১ আর বেথেল খেলেন ৪০ বলে ৫৮ রানের ইনিংস।
চার রানের ব্যবধানে দুজন ফিরলে আবার চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে পঞ্চম উইকেটে ইংল্যান্ড আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি (৬৯) পায় অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলারের ব্যাটে। ৪০ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন ব্রুক। বাটলার করেন ৫১ বলে ৬১।
ইংল্যান্ডের শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে উইল জ্যাকস যখন ৩৯ রান করে ফেরেন, তখন ইংল্যান্ডের রান ৮ উইকেট ২৯০। ১৯ বলে ব্রুকের দলের রান দরকার ৪১। আর্চারের ২৭ রানে বেশ সম্ভাবনা জাগলেও শেষ রক্ষা হয়নি ইংল্যান্ডের।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার রায়ান রিকেলটন ও এইডেন মার্করাম গড়েন ৭৩ রানের জুটি। দুজনের কেউই যদিও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মার্করাম আউট হন ৪৯ রানে, রিকেলটন ৩৫ রানে।
ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি ওয়ানডেতেই ৫০ ছাড়ানো ইনিংস খেলা ম্যাথু ব্রিটজকে করেন ৮৫ রান। ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৪৭ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যান ব্রিটজকে। আর শেষদিকে ডেভাল্ড ব্রেভিসের ২০ বলে ৪২ রানের ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৩০ রানে। ৬২ রানে ৪ উইকেট নেন আর্চার।
হারের পর ইংল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক কিছু রান বেশি দেওয়াকে দায়ী করেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সম্ভবত ১০-১৫ রান বেশি করে ফেলেছিল। আমাদের আরও কিছু জায়গায় উন্নতি দরকার, বিশেষ করে শুরুতে উইকেট নিতে পারলে ভালো হয়।’
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা তাঁর দল নিয়ে গর্বিত। তিনি বলেছেন, ‘আমি খুবই গর্বিত, এটা একটা দারুণ ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। যাঁরা খেলা দেখতে এসেছিলেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই আনন্দ পেয়েছেন।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৩০/৮ (ব্রিটজকে ৮৫, স্টাবস ৫৮; আর্চার ৪/৬২, আদিল রশিদ ২/৩৩)
ইংল্যান্ড: ৩২৫/৯ (জস বাটলার ৬১, জো রুট ৬১; বার্গার ৩/৬৩, মহারাজ ২/৫৯)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: ম্যাথু ব্রিটজকে।