রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের ইতিহাস
শীতকালে রাওয়ালপিন্ডিতে সন্ধ্যাটা ঝুপ করেই চলে আসে। যে কারণে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রতিদিনই আলোক-স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা শেষ হয়েছে। আজও পাকিস্তান সমর্থকেরা ছিলেন দ্রুত সন্ধ্যা নামার অপেক্ষায়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট বাঁচাতে হলে আলোক-স্বল্পতায় আগেভাগে খেলা শেষ করতে হতো। দশম উইকেট জুটিতে নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ আলী সে আশা নিয়েই উইকেটে পড়ে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না।
বেন স্টোকসের ইংল্যান্ড দল আজ সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জিতে গেল। যে আলোয় খেলা হচ্ছিল, তাতে সর্বোচ্চ ৮০ ওভারের বেশি খেলা হওয়ার কথা ছিল না। নাসিম-আলী জুটি আর ১০ থেকে ১৫ মিনিট টিকে থাকলেই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত পাকিস্তান। কিন্তু ইংল্যান্ডের জ্যাক লিচ সেটা হতে দেননি।
এই বাঁহাতি স্পিনারের ৯৬ ওভারের তৃতীয় বলটি স্ট্রাইকে থাকা নাসিমের প্যাডে আঘাত করতেই ইংলিশ ক্রিকেটাররা জোরালো আবেদন করেন। আম্পায়ার জোয়েল উইলসনও আঙুল তুলে সাড়া দেন। নাসিম রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। ৭৪ রানের এই জয়কে ধারাভাষ্যকার নাসির হুসেইন উঁচু গলায় ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ঘোষণা দিচ্ছিলেন।
চতুর্থ দিন বিকেলে ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্টোকসের ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্তটিকে টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত বললেন সাবেক এই অধিনায়ক।
পাকিস্তানের মাটিতে টেস্টে ইংল্যান্ডের তৃতীয় জয়। ১৯৬১ সালে লাহোর ও ২০০০ সালে করাচি টেস্ট জিতেছিল ইংল্যান্ড। তবে রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইংল্যান্ডের জয়ের ধরনের কারণে।
আগের দিন বিকেলে ইংল্যান্ডের স্কোর যখন ৭ উইকেটে ২৬৪ রান, তখন ইনিংস ঘোষণা করেন স্টোকস। চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ৩৪৩ রান, ম্যাচে তখনো চার সেশন বাকি। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে যে গতিতে রান হয়েছে, তাতে এই রান নিরাপদ মনে হচ্ছিল না। পাকিস্তান যখন চতুর্থ দিনেই ২ উইকেটে ৮০ রান করে ফেলে, তখন শঙ্কাটা আরও জোরালো হয়।
কিন্তু স্টোকস জয়ের জন্য হারের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিলেন। আর সেই সাহসী সিদ্ধান্তটাই পাকিস্তানকে পঞ্চম দিন রান তাড়ার চাপে ফেলেছে। আর সে সুযোগটা নিয়েছেন ইংলিশ বোলাররা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থেমেছে ২৬৮ রানে। সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেছেন সৌদ শাকিল।
৪টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই ইংলিশ পেসার জিমি অ্যান্ডারসন ও ওলি রবিনসন। দুজনই কিছুটা রিভার্স সুইং পেয়েছেন, যা কাজে লাগিয়ে লেগ সাইডে ফিল্ডিং সাজিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছে ইংল্যান্ড।
ব্যাটসম্যানদের দাপটের এই টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা উঠেছে অবশ্য ইংলিশ পেসার রবিনসনের হাতে। ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে তিনি টিভি সম্প্রচারকদের বলছিলেন, ‘পিচে পেসারদের জন্য কিছুই ছিল না। তবু আমরা চেষ্টা করেছি। আমাদের কিছুই করার ছিল না। ধৈর্য ধরে বোলিং করে যেতেই হতো। আমরা জানতাম যদি নতুন ব্যাটসম্যানদের ক্রিজে নামাতে পারি, তাহলে রিভার্স সুইং দিয়ে জোড়ায় জোড়ায় উইকেট নিতে পারব।’
ঐতিহাসিক জয়ের জন্য ইংলিশ ব্যাটসম্যানদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন রবিনসন, ‘ব্যাটসম্যানরা দ্রুত রান করায় আমরা যথেষ্ট সময় পেয়েছি ওদের দুইবার আউট করার।’ নাসির হুসাইনের মতোই রবিনসনও বলেছেন, ‘পাকিস্তান সফরে এসে এমন উইকেটে জেতা, আমি বলব, এটাই আমার খেলা সেরা টেস্ট ম্যাচ।’