সে ক্যাম্পে অনুশীলন সেশনের সঙ্গে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচও থাকবে, আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নিজাম উদ্দিন, ‘ মূল যে বিষয় ছিল, আমাদের দলের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল আবহাওয়ার অবস্থার জন্য, সে জন্যই এ পরিকল্পনা করা। সে আলোকে দু–একটা সদস্যদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের একটা ক্যাম্প বা যা-ই বলেন না কেন (করব)। একটা সিরিজে অংশগ্রহণ করব। সম্ভবত বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দলের মধ্যে দুটি ক্রিকেট ম্যাচও আয়োজন করা হচ্ছে।’

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে আরব আমিরাতের কন্ডিশনে অনুশীলন কতটা সহায়তা করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কন্ডিশনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ… এখানেও (প্রস্তুতির) সুযোগ পাইনি। এ অনুযায়ী টিম ম্যানেজমেন্টের এমন পরিকল্পনা, সে অনুযায়ী আমাদের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। কন্ডিশনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ম্যাচ আবহ এবং অন্যান্য যে অনুশীলন–সুবিধা (দুবাইয়ে স্পোর্টস সিটি আছে, অন্যান্য সুবিধা আছে) সেগুলো নিতে পারব।’

এ ক্যাম্পের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর রওনা দেওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। ২৮ সেপ্টেম্বরের দিকে আবার দেশে ফিরবে দল। দেশে ফেরার দুই-তিন দিন পর নিউজিল্যান্ড রওনা দেওয়ার কথা দলের, সেখানে পৌঁছানোর কথা আগামী ২ অক্টোবর।

১৪ সেপ্টেম্বর ঘোষিত বিশ্বকাপের মূল দল ও স্ট্যান্ডবাইয়ে থাকা ক্রিকেটাররা থাকবেন এ সফরে। যদিও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে এ মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজে আছেন তিনি। ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য নিউজিল্যান্ডে দলের সঙ্গে সরাসরি যোগ দেওয়ার কথা আছে তাঁর।

সাকিবের থাকা প্রসঙ্গে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সাকিব আল হাসানকে আগেই একটা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য অনাপত্তিপত্র দেওয়া আছে। ওই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। টিম ম্যানেজমেন্টই সিদ্ধান্ত নেবে, ওই সময়ে তাকে ফিরিয়ে আনার কতটুকু দরকার আছে।’

সাকিব না থাকলেও দলের কোচিং স্টাফের বেশির ভাগ সদস্যকেই আরব আমিরাতে পাওয়ার আশা করছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী। এশিয়া কাপের পর শ্রীরাম ছাড়া কোচিং স্টাফের সবাই ছুটিতে গিয়েছিলেন। আজ নিজাম উদ্দিন তাঁদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘আশা করছি, বেশির ভাগই থাকবে। যেহেতু হুট করে এ পরিকল্পনা, সবার নিজেদের প্রস্তুতির আরও কিছু ব্যাপার ছিল। তখন নিউজিল্যান্ডে কয়েকজনের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এখন আশা করছি, দুবাইয়ে কোচিং স্টাফের সদস্যরা যোগ দেবেন।’

আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশ হওয়ার পরও কেন অনুশীলন–সুবিধার জন্য এখনো দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য আবহাওয়ার ব্যাপারটিই সামনে আনলেন নিজাম উদ্দিন, ‘শুধু ফ্যাসিলিটিসের জন্যই যাচ্ছি, তা নয়। আমাদের ফোকাস থাকবে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে দলকে পুরো প্রস্তুত করা। টিম ম্যানেজমেন্ট ভাবছে, আবহাওয়া বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর আগেও দেশের মাটিতে অনুশীলন করেই পুরো প্রস্তুতি নিয়েছি।’