লিটন বাংলাদেশে যেখানে এক ও অনন্য

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ফিফটিশামসুল হক

‘মোনালিসা’ আঁকলেন লিটন—কথাটা শুধু প্রশংসা নয়, ট্রল করেও বলা হয়। সিলেট টেস্টে পরের কাজটি করার সুযোগ নেই। কারণ, লিটন এক ম্যাচেই দুটি ‘মোনালিসা’ আঁকার বেশ কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষের ‘ছবি’টি পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি। তার আগেই ৬৯ রানে যে আউট হতে হলো!

অপেক্ষা ছিল সেঞ্চুরির। খেলার ধাঁচও তেমনই ছিল—পাথুরে বাধা অতিক্রম করে নদীর টলটলে পানি যেভাবে এগিয়ে চলে, সেভাবেই ব্যাট করছিলেন। কিন্তু হাসান আলীর বলে ডিপ থার্ডম্যান দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে বল আর পার করতে পারেননি। ক্যাচ আউট হয়ে ফিরতে হয়।

লিটন এই ইনিংসেও সেঞ্চুরি পেলে মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেনের পর বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়তেন। সেটি না হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি জায়গায় আর কেউই লিটনের সঙ্গী হতে পারেননি।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটির ঘটনা আছে তিনবার। সব কটিই লিটনের। একটি তো আজই করলেন। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০২১ সালে করেছিলেন আরেকটি। অন্যটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২২ সালে।

১২৩ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিক–লিটন
শামসুল হক

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে স্কোর ৪ উইকেটে ১০৬ থাকতে ব্যাট করতে নামেন লিটন। পরের ১০ রানের মধ্যে আরও ২ উইকেট পড়লেও এক প্রান্ত আগলে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম সেরা (১২৬) ইনিংস খেলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসেও পরিস্থিতি খুব একটা আলাদা ছিল না। ৪ উইকেটে স্কোর ১১৫, তখন ব্যাটিংয়ে আসেন লিটন। পঞ্চম উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটি গড়ার পথে আউট হন ৬৯ রান করে।

২০২১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম টেস্টে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১১৪ রান করেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৫৯ রান। পাকিস্তান সেই টেস্ট ৮ উইকেটে জিতেছিল। পরের বছর এই মে মাসেই মিরপুর টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১৪১ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৫২ রান। সেই টেস্ট ১০ উইকেটে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।

আরও পড়ুন

অর্থাৎ পরিসংখ্যান বলছে, উইকেটকিপার হিসেবে লিটন যে টেস্টে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ফিফটি পেয়েছেন, বাংলাদেশ তাতে হেরেছে। তবে সিলেট টেস্টের গতিপ্রকৃতি কিন্তু তেমন নয়। পাকিস্তানই বেশ চাপে আছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় সেশনের খেলা চলাকালীন ২৯৩ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। হাতে ৫ উইকেট।

উইকেটকিপার হিসেবে খেলে টেস্টে লিটন ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউ এক ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ফিফটি পাননি। মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি আছে, কিন্তু অন্য ইনিংসে ফিফটি নেই। আবার এক ইনিংসে সেঞ্চুরি থাকলেও অন্য ইনিংসে ফিফটি নেই।