ম্যাককালাম-স্টোকসকে সতর্কবার্তা দিলেন গিলক্রিস্ট-ওয়াহ
অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, অধিনায়ক বেন স্টোকস ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কিকে তাঁদের পদে বহাল রেখেছে।
কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসিবি সেটা ব্যাখ্যা করার পর ইংল্যান্ডের কোচ ও অধিনায়ককে একটা সতর্কবার্তা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার দুই কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও মার্ক ওয়াহ।
গিলক্রিস্ট মনে করেন, ইংল্যান্ডের মাটিতে পরবর্তী অ্যাশেজ সিরিজ মাত্র ১৪-১৫ মাস দূরে, সময় স্বল্পতার কারণেই হয়তো ম্যাককালাম ও স্টোকসের পক্ষে কাজ করেছে। ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গিলক্রিস্ট বলেছেন, ‘পরের অ্যাশেজ শুরু হতে মাত্র ১৪-১৫ মাস বাকি। তাই হয়তো ভাবা হয়েছে, এত অল্প সময়ে সবকিছু ঝেড়ে-মুছে নতুন করে শুরু করাটা ঠিক হবে না।’ এ ছাড়া সম্প্রতি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারাটাও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে গিলক্রিস্টের সতর্কবার্তা স্পষ্ট। দলের ভেতরকার সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি অলরাউন্ডার লিয়াম লিভিংস্টোন অভিযোগ করেছেন, কোচিং স্টাফের সঙ্গে যোগাযোগের বড় ঘাটতি আছে, কোচদের কাছ থেকে তিনি তেমন কোনো ফিডব্যাক পাননি।
গিলক্রিস্ট বলেন, ‘কিছু একটা বদলাতেই হবে। পুরো সিরিজজুড়ে দলের ভেতরে যে শৃঙ্খলার অভাব ছিল, সেটা তাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে দেয়নি। আর বাইরে থেকে শুনছিলাম শুধু “আমরা ঠিকঠাক আছি, ড্রেসিং রুমে মধ্যে সব খুশি”—কিন্তু লিভিংস্টোনদের মন্তব্যে ভেতরের ফাটল বেরিয়ে পড়েছে। যাই হোক, তারা টিকে গেছেন। এখন দেখার পালা, তারা নিজেরা বদলান কি না।’
মার্ক ওয়াহ মনে করেন, সিদ্ধান্তটা ছিল ‘ফিফটি-ফিফটি’। ম্যাককালাম-স্টোকস জুটি দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুটা ভালোই ছিল, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খেলে বেশ কিছু ম্যাচ জিতেছেন। কিন্তু শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে বড় পরীক্ষায় বারবার পিছিয়ে পড়েছেন। ২০২৪ সালে ভারতে ও ২০২৫-২৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় তাঁদের বাজবল দর্শন মার খেয়েছে।
ওয়াহ বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, তাদের পথ বদলাতে হবে। ম্যাককালাম ও স্টোকস বোকা নন। অস্ট্রেলিয়া সফরে কোথায় ভুল হয়েছে, সেটা তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। সুযোগ আছে, ঘুরে দাঁড়ানোর।’
তবে একই খেলার ধরনে আটকে থাকার বিপদও তুলে ধরেন এই অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি, ‘ক্রিকেটের মৌলিক জায়গাগুলো মেনে জেতার চেষ্টা করা ভালো, কিন্তু শুধু একটা পরিকল্পনায় চললে, বিশেষ করে ভালো দলের বিপক্ষে, জেতা ম্যাচও হারতে হয়। তারা শিক্ষা নিতে পারলে ভালো, না পারলে আগামী ১২ মাসেও একই ফল পাবেন।’
শিক্ষাটা নেওয়া না নেওয়ার প্রমাণ মিলবে ইংল্যান্ডের মাঠেই—পরের অ্যাশেজে।