ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট রঞ্জিতে গত তিন মৌসুমে ২৪৪১ রান করেছেন সরফরাজ। কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া ৪ টেস্টের সিরিজে সরফরাজকে রাখা হয়নি।

ভারতের নির্বাচকেরা তখন ২৫ বছর বয়সী এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ফিটনেসকে কারণ দেখিয়েছেন। ব্যাটে অবশ্য রান করেই যাচ্ছেন রঞ্জি ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলা সরফরাজ। আজ দিল্লির ৮ উইকেটে জয়ের ম্যাচে মুম্বাইয়ের প্রথম ইনিংসে ১২৫ রান করেছেন সরফরাজ। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান জানিয়েছেন, দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্যাম্পে তিনি ফিটনেস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, আগামী মৌসুমেও ঠিক একই কাজ করবেন।

গাভাস্কার অবশ্য ব্যাপারটিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে বলেছেন, ‘আনফিট হলে আপনি সেঞ্চুরি করতে পারবেন না। ক্রিকেট খেলার মতো ফিটনেস থাকাটা তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইয়ো ইয়ো টেস্ট কিংবা অন্য সব টেস্ট নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইয়ো ইয়ো টেস্টই (দলে সুযোগ পাওয়ার) একমাত্র শর্ত হতে পারে না। ক্রিকেট খেলার মতো ফিট থাকলে, সে যে-ই হোক না কেন, তখন ওটা (ইয়ো ইয়ো টেস্ট) আর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না।’

গাভাস্কার এরপর সরফরাজের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘সে তো মাঠের বাইরে থেকে সেঞ্চুরি করছে না। সে মাঠেই আছে। অর্থাৎ, সে ক্রিকেট খেলার মতো ফিট। তবে আপনারা (নির্বাচক) যদি শুধু ছিপছিপে ও একহারা গড়নের খেলোয়াড় নিতে চান তাহলে ফ্যাশন শো-তে যান। সেখানে কিছু মডেল বাছাই করে তাদের হাতে ব্যাট-বল তুলে দিয়ে দলে নিন। ক্রিকেটারদের শারীরিক গড়ন অনেক রকম হয়। শারীরিক গড়ন নয়, রান আর উইকেট দেখুন।’

সরফরাজ এর আগে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট দলে সুযোগ না পেয়ে তিনি কেঁদেছিলেন, ‘দল ঘোষণায় আমার নাম না দেখে সারা দিন খুব মন খারাপ ছিল। গুয়াহাটি থেকে দিল্লি যাওয়ার সময় খুব নিঃসঙ্গ লেগেছে। কেঁদেছি।’

সরফরাজের এ মন্তব্যের পর সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন মুম্বাইয়ের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক মিলিন্দ রেগে, ‘পারফর্ম করে যাও। এসব হাস্যকর কথায় কোনো কাজ হবে না। ভারত জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মন্তব্য পরিহার করা উচিত সরফরাজের। তার দায়িত্ব রান করা। তাই ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত। সে দুর্দান্ত ফর্মে আছে। কিন্তু (তার সুযোগ পেতে) ভারত দলে তো জায়গা থাকতে হবে! সুযোগ তৈরি হলেই সে ডাক পাবে বলে বিশ্বাস করি। কিন্তু এখন সেই সুযোগ কোথায়?’

মিলিন্দ রেগে অমল মজুমদারের উদাহরণ টেনেছেন। বর্তমানে কোচের দায়িত্ব পালন করা অমল মজুমদারকে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজারের বেশি রান করেও কখনো ভারতের জাতীয় ডাক পাননি অমল মজুমদার। কারণ, তাঁর সময়ে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও সৌরভ গাঙ্গুলী।

মিলিন্দ রেগের যুক্তি, ‘অমলের মতো ক্রিকেটার, যে প্রথম শ্রেণিতে ১১ হাজারের বেশি রান করেছে, সে কিন্তু মুম্বাইয়ের কোচ। সরফরাজেরও অমলকে দেখে নিজের খেলাটা খেলে যাওয়া উচিত। অমল প্রচুর রান করেছে। কিন্তু সে কখনো জাতীয় দলে ডাক পায়নি। কারণ, জায়গা ছিল না।’