ইংল্যান্ড টেস্ট দলের দায়িত্ব হারালেন ম্যাককালাম
ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে বরখাস্ত করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তবে তিনি ইংল্যান্ডের সাদা বলের দুই সংস্করণের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকছেন। এই সিদ্ধান্তে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়ক ও প্রধান কোচ—দুটি পদই শূন্য হয়ে গেল। অথচ গত অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারের পরও প্রকাশ্যে ম্যাককালামের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছিল ইসিবি।
দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ায় হতাশ নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ম্যাককালাম বলেছেন, এই দায়িত্ব তিনি ‘ভীষণ উপভোগ’ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি প্রচণ্ড হতাশ যে দায়িত্বটা চালিয়ে যেতে পারছি না। তবে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। এখন আমার পুরো মনোযোগ থাকবে সাদা বলের দল দুটির দিকে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। টেস্ট দলের জন্যও আমার শুভকামনা রইল।’
গত মার্চে ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া সফরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ম্যাককালাম নিজেকে আরও পরিণত করতে পারবেন। কিন্তু এরপর মাত্র তিনটি টেস্ট ম্যাচের মধ্যেই অবস্থান বদলেছে ইসিবি। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর ম্যাককালামকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। আগামী গ্রীষ্মের অ্যাশেজ শুরু হতে এক বছরের কম সময় বাকি থাকায় গোল্ডের ভাষায়, ‘এখনই পরিবর্তনের উপযুক্ত সময়’।
গোল্ড বলেছেন, ‘ব্রেন্ডন ইংল্যান্ড পুরুষ দলের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। তাঁর সময়েই দলটি অনেক স্মরণীয় জয় পেয়েছে। এই দায়িত্বে তিনি যা দিয়েছেন, তার জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে আগামী গ্রীষ্মের অ্যাশেজ জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের মনে হয়েছে, টেস্ট দলে এখন পরিবর্তন আনার সঠিক সময়।’
২০২২ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যাককালাম। অধিনায়ক বেন স্টোকসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দলের খেলার ধরনই বদলে দেন। আগ্রাসী ও নির্ভীক ‘বাজবল’ ক্রিকেট খেলে তাঁর অধীনে প্রথম ১১ টেস্টের ১০টিতেই জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এরপর দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকভাবে ভাটা পড়ে। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে না পেরেই দায়িত্ব ছাড়তে হলো তাঁকে।
টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে ম্যাককালামের সামগ্রিক রেকর্ড ২৭ জয়, ২ ড্র ও ২০ হার। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ ৯টি টেস্টের ৭টিতেই হারতে হয়েছে তাঁর দলকে। তাঁর কোচিং অধ্যায়ের শুরু এবং শেষ দুটিই হয়েছে নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ দিয়ে। ২০২২ সালে শুরুটা হয়েছিল ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে। আর শেষটা হয়েছে গত মাসে নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারে, যে সিরিজের পরই হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দেন বেন স্টোকস।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্টব্রিজে সিরিজ হারের পর ম্যাককালাম বলেছিলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ‘কখনোই টলে যায়নি’। টেস্ট দলের কোচ হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা আগের মতোই এগিয়ে যাব।’ কিন্তু সেই মন্তব্যের দুই সপ্তাহ পেরোনোর আগেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
দুই বছর আগে ম্যাককালামের চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর সময় তাঁকে সাদা বলের দলেরও দায়িত্ব দিয়েছিলেন ইসিবির ক্রিকেট–বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি। সেই চুক্তির এখনো এক বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়তে হচ্ছে তাঁকে। তবে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ম্যাককালাম।
ইসিবি জানিয়েছে, ম্যাককালামের উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ড আবারও আলাদা কোচের মডেলে ফিরছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এমন ব্যবস্থাই ছিল। তখন সাদা বলের দলের দায়িত্বে ছিলেন ম্যাথিউ মট। নতুন টেস্ট কোচের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, রিচার্ড ডসন, রায়ান ক্যাম্পবেল ও জাস্টিন ল্যাঙ্গার।
২০০৯, ২০১০-১১ ও ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডকে তিনটি অ্যাশেজ জেতানো সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও ইসিবির বিবেচনায় থাকতে পারেন। তবে বর্তমানে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে সফল সময় কাটানো ফ্লাওয়ারকে আবার পূর্ণকালীন আন্তর্জাতিক কোচিংয়ে ফেরাতে হলে মোটা অঙ্কের চুক্তির প্রস্তাব দিতে হতে পারে।