দুবাইয়ে স্টুডিওকে বাংকার বানিয়ে পরিবার নিয়ে আছেন রিও ফার্ডিনান্ড

পরিবার নিয়ে বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাস করছে রিও ফার্ডিনান্ডইনস্টাগ্রাম/ফার্ডিনান্ড

সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড ও তাঁর স্ত্রী কেট ফার্ডিনান্ড গত আগস্টে নতুন করে জীবন শুরুর আশায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। ৪৭ বছর বয়সী ফার্ডিনান্ড তাঁর সন্তান শায়ে, ক্রি ও টিয়াকে নিয়ে দুবাইয়ে বসবাস শুরু করেন। ধনী তারকাদের নিরাপদ আবাস হিসেবে পরিচিত এই দেশকে বসবাসের জন্য বেছে নেওয়া তারকাদের তালিকায় এর আগে ছিলেন সাবেক বক্সার আমির খান ও হলিউড অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহানও।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান সংঘাত পরিস্থিতি কার্যত সেখানকার বিলাসবহুল বাসভবনগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করেছে। দুবাইয়ে জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের বদলে এখন ফার্ডিনান্ড পরিবারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে নজিরবিহীন এক লকডাউন পরিস্থিতি। এতে নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে তাঁদের।

নিজের পডকাস্ট ‘রিও ফার্ডিনান্ড প্রেজেন্টস’-এ বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ইউনাইটেড কিংবদন্তি। ফার্ডিনান্ড জানান, ভয়াবহ মিসাইল হামলার মানসিক চাপ কীভাবে তাঁদের পরিবারকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

ইংল্যান্ডের সাবেক এই ডিফেন্ডারের ভাষায়, চলমান পরিস্থিতি তাঁদের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে, ‘সত্যি বলতে, সপ্তাহটা একেবারেই ভিন্ন ছিল। আজ (গতকাল) সকালে অবশ্য ভালো আছি; কারণ, পুরো পরিবার মিলে শরীরচর্চা করেছি। কোভিড সময়ের মতো—যেসব কাজ আমরা সাধারণত একসঙ্গে করি না, এখন সেগুলোই করছি।’

এ অনিশ্চয়তা ফার্ডিনান্ডের ওপর বড় মানসিক চাপ তৈরি করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘মিসাইল, যুদ্ধবিমান আর বড় বড় বোমার শব্দ যখন শুনছি, সেটা সত্যিই আতঙ্কজনক।’

পরিবারের প্রধান হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন ফার্ডিনান্ড, ‘বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলা, কী হচ্ছে তা বোঝানো এবং এই সময়টা পার হতে সাহায্য করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে একজন বাবা হিসেবে। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হয়।’

আরও পড়ুন

ক্রমাগত হুমকির মাত্রা বাড়তে থাকায় ফার্ডিনান্ড পরিবারকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা প্রটোকলের পরামর্শে তারা বাড়ির বেজমেন্টে (আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে মাটির স্তরের নিচের কক্ষ) আশ্রয় নেয়।

ফার্ডিনান্ড এ নিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে, পরিস্থিতিটা কিছুটা ভয়ংকর ছিল। তবে অদ্ভুতভাবে একই সঙ্গে নিজেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিতও মনে হয়েছে। আমার স্টুডিওটাই এখন বাংকারে পরিণত হয়েছে। আমাদের বেজমেন্টে যেতে বলা হয়েছিল, আমরা সেখানেই কম্বল-লেপ নিয়ে ঘুমিয়েছি।’

রিও ফার্ডিনান্ডের স্ত্রী কেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির একটি আবেগঘন আপডেট দেন। কেট জানান, হামলার তীব্রতায় শুরুতে তিনি বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সাবেক এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ভক্তদের আশ্বস্ত করে লেখেন, ‘সবাইকে বার্তার জন্য ধন্যবাদ, নীরব থাকার জন্য দুঃখিত...আমরা নিরাপদে আছি। সরকার আমাদের নিরাপদ রাখতে অসাধারণ কাজ করছে। স্নায়ুচাপ থাকলেও মনে হচ্ছে আমরা খুব নিরাপদ আছি।’