আজকের চার ম্যাচের বাকি দুটিতে নামছে এশিয়ার দুই প্রতিনিধি কাতার ও ইরান। আমার ধারণা, কাতার-সেনেগাল ম্যাচে লড়াই হবে। এ ম্যাচে আমি কাতারের খেলায় উন্নতি দেখতে চাই। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক হিসেবে কোনো দাগই কাটতে পারেনি কাতার। অথচ এত সুন্দর বিশ্বকাপ আয়োজন, দুর্দান্ত সব স্টেডিয়াম। সব আয়োজনে জল ঢেলে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ফুটবলাররা হতাশ করেছে। কাতার আসলে শক্তিতেই অনেক পিছিয়ে। আজ দলটিকে সামর্থ্যের চেয়েও বেশি কিছু করতে হবে মাঠে।

তুল্যমূল্য বিচারে ইরানের বিপক্ষে ওয়েলস একটু এগিয়ে। ইরান বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক দল। নতুন তারকা আসেনি। ফলে দলটির খেলায় সেই গতি নেই। ফুটবল খেলতে হবে মনের আনন্দে আর নিতে হবে কিছু কৌশল। ওয়েলস ফুটবলারদের বক্সের আশপাশে জায়গা দেওয়া যাবে না, সেই জায়গাটা পেলে গ্যারেথ বেলরা কিন্তু গোল করে দেবে। ওয়েলসের আক্রমণে ব্রেনান জনসন ছেলেটা বেশ সুযোগসন্ধানী।

ইরান ও কাতার প্রেরণা নিতে পারে সৌদি আরব-জাপানের কাছ থেকে। সৌদিরা আর্জেন্টিনাকে এবং জাপান জার্মানিকে হারিয়ে সাড়া ফেলেছে। ফুটবল উন্নতিতে জাপান কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালছে। জাপানের মাঠে বসে জাপান-উরুগুয়ে প্রীতি ম্যাচ দেখেছি। সে ম্যাচে জাপান ৩ গোলে হারলেও কোনো হাহুতাশ দেখিনি তাদের মধ্যে।

৩০ বছর আগে জাপানে পেশাদার লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছিলাম। তখন দেখেছি, সারা টোকিও শহর ওরা আলোকসজ্জা করেছিল। মনে হয়েছিল বড়দিনের উৎসব চলছে। আলোকসজ্জার জন্য যে টাকা তখন খরচ করেছিল জাপান, সেই টাকায় আমাদের জাতীয় ফুটবল টিম ১০ বছর চলতে পারে। কাতারও এখন কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালছে। কিন্তু সেভাবে উঠে আসতে পারছে না। তবে প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ছুড়ে আজ চাইছি, এশিয়ার অন্যতম দুই প্রতিনিধি কাতার ও ইরান ঘুরে দাঁড়াক।