ইস্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে কারা কোন গ্রুপে
চট্টগ্রাম অঞ্চলের খেলা দিয়ে তৃতীয় ইস্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে ২০ নভেম্বর। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এই ফুটবল প্রতিযোগিতার ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সুরমা হলে।
টুর্নামেন্টের এবারের আসরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১০টি দল খেলবে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে। খুলনা ও রাজশাহী থেকে খেলছে ৪টি করে দল। ঢাকার ২৮টি দল ৪টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। খেলা হবে নকআউটভিত্তিক। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দল উঠে আসবে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে।
২০২৩ সালে ইস্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলের প্রথম আসরে অংশ নেয় ৩২টি দল। গত বছর দল বেড়ে দাঁড়ায় ৪২টি, এবার আরও বেড়ে ৪৬টি। যদিও এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে ৭১টি বিশ্ববিদ্যালয়। সব দলকে সুযোগ দিতে না পারায় টুর্নামেন্ট কমিটি দুঃখ প্রকাশ করেছে।
গতবারের মতো এবারও খেলা হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায়। চট্টগ্রামে শুরু হয়ে রাজশাহী ও খুলনা ঘুরে টুর্নামেন্ট আসবে ঢাকায়। ২৮ নভেম্বর ঢাকায় শুরু আঞ্চলিক পর্ব। ঢাকার গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হবে ৫ ডিসেম্বর। কোয়ার্টার ফাইনাল ৭ ও ৮ ডিসেম্বর।
এবারের টুর্নামেন্টের প্রচার সহযোগী এটিএন বাংলা।
ড্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ড্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাবেক ফিফা রেফারি ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের হেড অব রেফারিজ আজাদ রহমান।
ড্রয়ের কুপন তোলেন ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক জাহিদা ইস্পাহানি, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ইস্পাহানি টি লিমিটেডের বিপণন মহাব্যবস্থাপক ওমর হান্নান, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও ইস্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির প্রধান আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও টুর্নামেন্টের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ইমতিয়াজ সুলতান জনি, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম মানিক, টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য ও সাবেক তারকা ফুটবলার আলফাজ আহমেদ, বিপ্লব ভট্টাচার্য, জাহিদ হাসান এমিলি, মামুনুল ইসলাম, পাক্ষিক ক্রীড়াজগত সম্পাদক দুলাল মাহমুদ ও ক্রীড়া লেখক ইকরামউজ্জমান।
আগামী দিনে টুর্নামেন্টটি আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আগ্রহ বেড়েছে, এটিকে আমরা দেশের খেলাধুলা প্রসারে একটা আন্দোলনও মনে করি। সেদিক থেকে এমন উদ্যোগ আমরা অব্যাহত রাখতে চাই।’
এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জাহিদা ইস্পাহানি বলেন, ‘গত দুটি টুর্নামেন্ট আয়োজনে সবার সহযোগিতা পেয়েছি। টুর্নামেন্টের সফলতা দেখে আমরা সামনে এগোচ্ছি। আশা করি, টুর্নামেন্টের খেলার মান ও পরিধি আগামী দিনে আরও বাড়বে।’
ওমর হান্নান বলেন, ‘টুর্নামেন্টে প্রতিবারই দল বাড়ছে। এবার দলের সংখ্যা ৪৬। আগামী দিনে আরও বেশি দলকে সুযোগ দিতে পারব বলে আমরা আশা করি।’
এই টুর্নামেন্ট দেশের ফুটবলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে মনে করেন অন্য বক্তারা। গত দুটি টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল যেভাবে সহযোগিতা করেছে, তা অব্যাহত থাকবে—এমনই আশাবাদ আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুর। তাঁর কথা, ‘এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা যেন জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে পারি, সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আশা করি, এবারের টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আরও ভালো ভালো খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে।’
ইম্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টের মতো আয়োজন তরুণদের জন্য খুবই জরুরি মনে করেন আশির দশকে মোহামেডান-আবাহনীতে খেলা সাবেক ফুটবলার ইমতিয়াজ সুলতান জনি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই টুর্নামেন্ট বড় এক সুযোগও। যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নৈপুণ্য তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।’
ড্র অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার ড. মো. মঞ্জুর ই খোদা তরফদার; ইস্পাহানি গ্রুপের মার্কেটিং বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এইচ এম ফজলে রাব্বি; প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, যুব কার্যক্রম ও ইভেন্টসের প্রধান সমন্বয়ক মুনির হাসান; প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদ।
ইস্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫
গ্রুপ ‘এ’
এ-১: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
এ-২: ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম
এ-৩: বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
এ-৪: সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
এ-৫: চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি
গ্রুপ ‘বি’
বি-১: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম
বি-২: চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি
বি-৩: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বি-৪: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
বি-৫: পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
গ্রুপ ‘সি’
সি-১: বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
সি-২: আহ্ছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সি-৩: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সি-৪: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
গ্রুপ ‘ডি’
ডি-১: খুলনা খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ডি-২: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ডি-৩: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ডি-৪: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
গ্রুপ ‘ই’
ই-১: ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
ই-২: গণ বিশ্ববিদ্যালয়
ই-৩: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-৪: নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
ই-৫: গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
ই-৬: স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
ই-৭: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
গ্রুপ ‘এফ’
এফ-১: আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ
এফ-২: ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক
এফ-৩: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
এফ-৪: উত্তরা ইউনিভার্সিটি
এফ-৫: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
এফ-৬: আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
এফ-৭: শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি
গ্রুপ ‘জি’
জি-১: ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ
জি-২: ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি
জি-৩: অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
জি-৪: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
জি-৫: ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
জি-৬: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি
জি-৭: ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ
গ্রুপ ‘এইচ’
এইচ-১: গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
এইচ-২: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি
এইচ-৩: সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়
এইচ-৪: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
এইচ-৫: ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স
এইচ-৬: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
এইচ-৭: ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি