হামজাকে নতুন করে শেখাবেন না ডুলি
হামজা চৌধুরীর মতো পেশাদার খেলোয়াড়দের নতুন করে কিছু শেখানোর প্রয়োজন নেই—জানা এ কথাটাই আজ বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। জাতীয় দলে ফিরেই হামজা নিজের সেরাটা দেবেন বলেও বিশ্বাস কোচের। তাঁর চোখে, হামজা শুধু দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই নন, একজন নেতাও।
আসিয়ান কাপ সামনে রেখে গত ২৮ আগস্ট শুরু হয়েছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। আজ দশম দিনে কিংস অ্যারেনায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ডুলি। সেখানেই হামজা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়েরা জানে এই পর্যায়ের ফুটবলে তাদের ভূমিকা কী। তাদের নতুন করে কিছু শেখাতে হয় না। সে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সেরাটা দেবে, কারণ সে একজন নেতা।’
২৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া এবং হংকংয়ে শুরু হবে ফিফা আসিয়ান কাপ। বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় যাবে ১৯ সেপ্টেম্বর। হামজা–শমিতদের জন্য সেখানে কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে। গ্রুপে তিন প্রতিপক্ষই র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। সিঙ্গাপুর এগিয়ে ৩৩ ধাপ, মালয়েশিয়া ৪৫ ধাপ।
স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়াও বেশ শক্তিশালী। অবশ্য প্রতিপক্ষের শক্তির কথা ভেবে ডুলিও বাস্তববাদী। তবে একই সঙ্গে র্যাংকিংয়ের ব্যবধানকে পাত্তা না দিয়ে টুর্নামেন্টটিকে সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হিসেবেই দেখতে চান কোচ, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যে দলগুলোর বিপক্ষে খেলব, তারা র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে। নিশ্চিতভাবেই এটি অত্যন্ত কঠিন প্রতিযোগিতা। আমাদের ইতিবাচক থেকে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা নিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে আমরা এই আঞ্চলিক ফুটবলের যোগ্য।’
কিংস অ্যারেনার ক্যাম্পে এখন চলছে প্রস্তুতির শেষ ধাপ। দীর্ঘ বিরতির পর খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিট করে তোলা, চোট এড়িয়ে সবাইকে প্রস্তুত রাখা এবং কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করাই ডুলির ক্যাম্পের লক্ষ্য। তবে সেটি করতে গিয়ে মাঝের দুই মাস বিরতির কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে তাঁকে, ‘জাতীয় দলের মতো পর্যায়ে খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে সময় দিতে হয়। এতে খেলোয়াড়েরা ধীরে ধীরে অনুশীলনের চাপ নিতে পারে এবং চোটের ঝুঁকিও কমে।’
অনুশীলনে থাকা ৩০ ফুটবলারের মধ্যে সোহেল রানা ও তপু বর্মণ সামান্য চোটে ভুগছেন। কুঁচকির চোটে ভুগছেন জামাল ভূঁইয়াও। অধিনায়ক জামালকে নিয়ে ডুলিও খানিকটা চিন্তিত, ‘জামালের কুঁচকি ছোট একটা টিয়ার আছে। তাকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এটি বাড়লে সে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাবে। আমরা অবশ্যই তাকে দলে চাই।’
র্যাংকিংয়ের ব্যবধান যতই থাকুক, মাঠে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েই আসিয়ান কাপে লড়তে চায় বাংলাদেশ।