বাবাদের কাছ থেকে ব্রাজিল-জয়ের যে গল্প জেনে নিতে পারেন হলান্ডরা
নরওয়ে দলের কারও ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। কীভাবে হবে! নরওয়ে সর্বশেষ ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছে ২০০৬ সালে। সে কারণে এবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ে–ব্রাজিল ম্যাচটি আর্লিং হলান্ডদের জন্য এক অন্য রকম অভিজ্ঞতাই।
নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এ ম্যাচ নিয়ে নরওয়ে কোচ স্তালে সলবাকেন নিশ্চয়ই বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতাও নিশ্চয়ই ভাগ করেছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিখ্যাত সেই জয়ে নরওয়ে দলে ছিলেন সলবাকেন। তবে নরওয়ে দলের কয়েকজন সদস্য চাইলে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা নিজেদের পরিবার থেকেই শুনে নিতে পারেন।
যেমন ধরুন আর্লিং হলান্ড। এবার বিশ্বকাপে হ্যারি কেইনের সঙ্গে হলান্ড যৌথভাবে দ্বিতীয় (৫) সর্বোচ্চ গোলদাতা। খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের আক্রমণভাগে হলান্ডই মূল ভরসা। হলান্ড দরকার হলে ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাটুকু তাঁর বাবা আলফি হলান্ডের কাছে শুনে নিতে পারেন।
নরওয়ের সাবেক রাইট ব্যাক আলফি হলান্ড ১৯৯৪ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে অসলোয় প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪–২ গোলের জয়ে নরওয়ে দলে খেলেন আলফি। তখন তিনি নটিংহাম ফরেস্টে খেলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবেই ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন আলফি। সেই সুবাদে ২০০০ সালে লিডসে জন্ম হয় তাঁর ছেলে আর্লিং হলান্ডের। এখন তিনি ম্যানচেস্টার সিটির বড় তারকা।
হলান্ডের মতো নরওয়ে দলের ফরোয়ার্ড আলেক্সান্দার সরলথও তাঁর পরিবারের দ্বারস্থ হতে পারেন। তাঁর বাবা গোরান সরলথ আশির দশকের শেষ দিকে ও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে নরওয়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ছিলেন। অসলোয় ১৯৮৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম মুখোমুখি দেখায় নরওয়ে দলে খেলেন গোরান। প্রীতি ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয় এবং গোরান গোল করতে পারেননি।
আরও একজন আছেন, তিনি নরওয়ে মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান থর্সটভেট। তাঁর বাবা সাবেক গোলকিপার এরিক থর্সটভেট ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলেছেন। ১৯৮৮ সালের প্রীতি ম্যাচে নরওয়ের পোস্ট সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন এরিক থর্সটভেট।
অবশ্য পরিসংখ্যানে তাকালে হলান্ডরা কিন্তু পরিবারের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তা নাও করতে পারেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে এই পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে নরওয়ে একবারও হারেনি। ১৯৮৮ ও ১৯৯৭ সালে প্রীতি ম্যাচের ফল তো বলাই হয়েছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। ২০০৬ সালে সর্বশেষ মুখোমুখি (প্রীতি ম্যাচ) ম্যাচ ড্র হয় ১–১ গোলে।