লেবাননের সঙ্গে আছে সুখস্মৃতিও 

লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ টুর্নামেন্ট শুরু বাংলাদেশের। যে লেবাননকে ১২ বছর আগে ঢাকার মাঠে হারিয়েছিলেন এমিলিরা।

সাফে আজ লেবাননের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাতে কী, জামাল ভূঁইয়া-সুমন রেজারা অনুশীলন করলেন ফুরফুরে মেজাজেই। কাল বেঙ্গালুরুতেছবি: বাফুফে

‘এমিলি-মিঠুনে হাসল বাংলাদেশ।’

২৯ জুলাই ২০১১। প্রথম আলোর খেলার পাতায় বাংলাদেশ-লেবাননের ম্যাচ রিপোর্ট। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সেবার লেবাননকে ঢাকায় ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

গোল ২টি করেছিলেন জাহিদ হাসান এমিলি ও মিঠুন চৌধুরী। এখন শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কারণ, লেবাননের ফিফা র‍্যাঙ্কিং এখন ৯৯, বাংলাদেশের ১৯২। ৯৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ আজ লেবাননকে হারিয়ে দেবে, এমনটা ভাবা বাড়াবাড়িই।

কিন্তু ১২ বছর আগে সেটা সম্ভব হয়েছিল। তা–ও আবার লেবাননের মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচে ৪-০ গোলে উড়ে যাওয়ার ৫ দিন পর। বাংলাদেশের ফুটবলের সেই দিন আর নেই। সেই আশাও আর জাগে না। জাগে না কারণ, ২০০৯ সাল থেকে সাফের গ্রুপ পর্ব আর পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। এবারও গ্রুপের গেরো খোলা কঠিন। বাস্তবতা মেনে বেঙ্গালুরু সাফে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশও জয়ের চিন্তা মাথায় আনছে না। ড্র-টাকেই পাখির চোখ করেছে। ড্র করতে পারলেও সেমিফাইনালে ওঠার দিকে এক পা এগোনো যাবে। সাফে এই প্রথম অতিথি দল হিসেবে খেলা লেবাননের কাছে হারলেও সুযোগ থাকবে। তবে শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ ১টি পয়েন্ট চায় বাংলাদেশ।

২০১১ সালে ঢাকায় লেবাননকে হারানোর সেই ম্যাচ
ফাইল ছবি, এএফপি
আরও পড়ুন

বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার কথায় সেটাই স্পষ্ট, ‘শতভাগ দিয়ে আমরা লড়াই করব, সেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। লেবানন খুব শক্তিশালী দল। ওরা চাইবে ৩ পয়েন্ট পেতে। তবে আমরা অন্তত ১টি পয়েন্টের জন্য লড়ব।’ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার চোখও ১ পয়েন্টে, ‘আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। ভালো অনুশীলন করেছি। ভালো খাওয়াদাওয়া করেছি। কাল তো ফাইনাল পরীক্ষা। আমরা তাতে পাস করতে চাই।’

কেমন পাস? ‘আমরা তো অবশ্যই জিততে চাই। কিন্তু ১ পয়েন্ট নিতে পারলেও খুশি থাকব’—বলছেন ২০১৩ থেকে টানা জাতীয় দলে খেলা জামাল ভূঁইয়া।

আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। ভালো অনুশীলন করেছি। ভালো খাওয়াদাওয়া করেছি। কাল তো ফাইনাল পরীক্ষা। আমরা তাতে পাস করতে চাই
জামাল ভূঁইয়া, অধিনায়ক, বাংলাদেশ 

লেবানন গত ১২ দিনে ভারতের মাটিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে ৪টি ম্যাচ খেলেছে। লিগ পর্বে ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ফাইনালে ভারতের কাছেই হেরেছে ২-০ গোলে। কাজেই তারা একটু ক্লান্ত থাকবে মনে করছে বাংলাদেশ। তারপরও লেবানন ট্যাকটিক্যালি বেশ ভালো দল। ফুটবলাররা শারীরিকভাবে শক্তিশালী, উচ্চতায় এগিয়ে। শক্তি আর গতিতে তাদের সঙ্গে টক্কর দেওয়া কঠিনই বাংলাদেশের জন্য। লেবাননের ফরোয়ার্ডরা দ্রুতগতির, উইং দিয়ে আক্রমণ করেন বেশি। তাঁদের রুখতে ব্লক তৈরি করবে বাংলাদেশ। তবে সেটা লো ব্লক নয়, মিডিয়াম লো ব্লক, যাতে বাংলাদেশ দ্রুত প্রতি–আক্রমণও করতে পারে।

লেবাননের আক্রমণ বনাম বাংলাদেশের রক্ষণ। এমনটা ধরে নিয়ে গত কদিন রক্ষণ নিয়েই বেশ কাজ করেছে বাংলাদেশ। আজ ডিফেন্ডারদের দিতে হবে বড় পরীক্ষা। চোট কাটিয়ে ফিট হয়ে উঠেছেন সেন্টারব্যাক তপু বর্মণ। তাঁর একাদশে থাকার কথা।

গত কদিন রক্ষণ নিয়েই বেশ কাজ করেছে বাংলাদেশ
ছবি: বাফুফে

কম্বোডিয়া ম্যাচে পাওয়া তারিক কাজীর লাল কার্ড এই টুর্নামেন্টে প্রযোজ্য নয়। ফলে তিনি থাকছেনই। পুরো শক্তির দলই পাওয়া যাবে সাফের ব্যর্থতা মোছার এ অভিযানের শুরুতে। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আমের খানের বিশ্বাস, সেনেগাল যদি ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন লেবাননের সঙ্গে পারবে না! তুলনাটা অযৌক্তিক যদিও।

আরও পড়ুন

১২ বছর আগে লেবাননকে ঢাকার মাঠে হারানোর অন্যতম নায়ক এমিলি মনে করেন, সম্প্রতি সেশেলস বা কম্বোডিয়ার সঙ্গে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, সেভাবে খেললে লেবাননের সঙ্গে জেতা দূরের কথা, ড্র–ও সম্ভব নয়।

‘বাংলাদেশ দলকে অনেক ভালো খেলতে হবে। প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে ভালো কিছু করার। যেটা আমাদের তখন ছিল। লেবানন তখন বেশ শক্তিশালী ছিল। এখন তারা আরও এগিয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে দিতে হবে সামর্থ্যের চেয়েও বেশি’—এমিলির এই কথাই সব কথার শেষ কথা।

আরও পড়ুন