বেঞ্চের শক্তিতেই কি এবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে আর্সেনাল
লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা ৭৪ মিনিট ছুঁই ছুঁই। আর্সেনাল সমর্থকদের চোখেমুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। এভারটনের রক্ষণে বারবার আছড়ে পড়ছে ‘গানার’দের আক্রমণ, কিন্তু গোলের দেখা নেই। উল্টো গোলপোস্ট আর ভাগ্য সহায় না হলে পিছিয়েই পড়তে হতো স্বাগতিকদের। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগটা বুঝি এবার ফসকে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা মিডফিল্ডার মার্তিন জুবিমেন্দিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামালেন ১৬ বছরের এক কিশোরকে—ম্যাক্স ডাউম্যান, যাঁর এখনো জিসিএসই পরীক্ষাই শেষ হয়নি!
আরতেতার সেই বাজিই শেষ পর্যন্ত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে দাঁড়াল। ডান দিক থেকে ডাউম্যানের এক নিরীহদর্শন ক্রস বিপক্ষ গোলরক্ষক এভারটন জর্ডান পিকফোর্ডকে ভুল লাইনে টেনে আনল। সেই সুযোগে ফাঁকা জালে বল ঠেলে আর্সেনালকে এগিয়ে দিলেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ডাউম্যান যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। এভারটনের এক কর্নার থেকে বল পেয়ে নিজের পায়ে ৬১.৩ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে করলেন দেখার মতো এক গোল। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডাউম্যান ভেঙে দিলেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড।
ডাউম্যানের ওই গোল হয়তো ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়নি, গোলটি না হলেও আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জিতত। কিন্তু ওই গোল এবং এই মৌসুমে ‘সুপার সাব’দের কাছ থেকে পাওয়া এমন অনেক গোলেই লুকিয়ে আছে আর্সেনালের সাফল্যের একটা রহস্যও।
এবারের মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট (গোলে সহযোগিতা) পেয়েছে গানাররা। এর মানে মোট ২১টি গোলে অবদান এবার আর্সেনালের সুপার সাবদের, যা প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অন্তত ৭টি বেশি।
চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু ১১ জনে আসলে হয় না, লাগে এক শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। আর্সেনাল এবার ঠিক সে পথেই হাঁটছে। মার্টিন ওডেগার্ড, ইয়োকেরেস কিংবা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি—যখনই কেউ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামছেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন। সিটির বিপক্ষে ম্যাচে মার্তিনেল্লির সমতাসূচক গোল কিংবা নিউক্যাসলের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোর গোল—সবই এসেছে বেঞ্চ থেকে।
এর ঠিক উল্টো চিত্র ম্যানচেস্টার সিটিতে। পেপ গার্দিওলার হাতে চেরকি, ডকু, ফোডেন বা রেইন্ডারসের মতো তারকা থাকলেও তাঁরা বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচ জেতাতে পারছেন না। এই মৌসুমে সিটির বদলি খেলোয়াড়েরা গোল করেছেন মাত্র একটি, সেটিও সেই উদ্বোধনী সপ্তাহে উলভসের বিপক্ষে। এরপর ২৯ ম্যাচে সিটির কোনো বদলি খেলোয়াড় জালের দেখা পাননি। অথচ গত শনিবার ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে ড্র ম্যাচেও ডকু-ফোডেনদের নামিয়েছিলেন পেপ, কিন্তু লাভ হয়নি।
আর্সেনাল এখন সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে। গার্দিওলার হাতে রত্নভান্ডার থাকলেও সেটা কাজে লাগছে না। অন্যদিকে আরতেতা তাঁর তুরুপের তাসগুলো ব্যবহার করছেন নিখুঁতভাবে। গত মৌসুমে ব্রাইটনের গড়া বদলিদের ২৫ গোলের অবদানের রেকর্ডটি এবার ভেঙে দিতে পারে আর্সেনাল।
কে জানে, আরতেতার এই সুপার সাবরাই হয়তো শেষ পর্যন্ত এমিরেটসে উৎসবের আবির ওড়াবেন!