আগের ম্যাচে বেনফিকার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের হারই চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাসের ভাগ্য লিখে দিয়েছিল। শেষ ম্যাচটি ছিল নিছকই আনুষ্ঠিকতার। তবে সেখানেও জুভদের জন্য লেখা ছিল না কোনো জয়। এমনকি ড্রও পায়নি ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দল।

এই ম্যাচটি অন্য কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইউরোপা লিগ খেলতে এই ম্যাচের ওপরই যে নির্ভর করতে হচ্ছিল জুভেন্টাসকে। সমীকরণটা ছিল যদি জুভেন্টাস পয়েন্ট হারায় এবং ম্যাকাবি হাইফা বেনফিকাকে হারিয়ে দেয় তবে জুভেন্টাস নেমে যাবে চারে। জুভেন্টাস হেরে গিয়ে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করলেও, এ যাত্রায় তাদের উদ্ধার করেছে বেনফিকা। ৬-১ গোলে তারা বিধ্বস্ত করেছে হাইফাকে।

আর এই জয় দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে গেল বেনফিকা। জয়, পরাজয়, গোল ব্যবধান সব সমান হওয়ায় অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে পিএসজির চেয়ে এগিয়ে থেকে গ্রুপ সেরা হলো পর্তুগিজ ক্লাবটি।

ঘরের মাঠে আক্রমণের শুরুটা করেছিল জুভেন্টাসই। পিএসজি রক্ষণকে কয়েকবার পরীক্ষাতেও ফেলে ‘তুরিনের বুড়ি’রা। তাতে অবশ্য পিএসজি ডিফেন্স ভাঙা দূরে থাক ফাটলও ধরেনি। উল্টো ১৩ মিনিটে জুভেন্টাসকে নাজেহাল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।

জুভ ডি-বক্সের বাইরে লিওনেল মেসির কাছ থেকে বল পান এই ফরাসি তারকা। এমবাপ্পেকে রুখতে রীতিমতো তাঁর জার্সি টেনে ধরেছিলেন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার ফেদেরিকো গাতি। রুখতে পারেনি। ঠেকাতে চেয়েছিলেন আরও একজন। তবে সবাইকে ছিটকে দারুণ এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপ্পে।

পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে জুভেন্টাস। একাধিকবার পিএসজি রক্ষণে হুমকিও তৈরি করেছিল তারা। গোল যেন সোনার হরিণ। হুমকি তৈরি করেও গোল পায়নি জুভেন্টাস। খুব বেশি সুবিধা করতে পারছিল না পিএসজিও।

এমবাপ্পের চোখ ধাঁধানো গোলটি ছাড়া প্রথম ২৫ মিনিটে বলার মতো কোনো সুযোগ কেউই সেভাবে সৃষ্টি করতে পারেনি। যে জায়গা থেকে গোল করেছিলেন সেখান থেকেই ৩০ মিনিটে আরেকটি শট নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। সেটি বার কাঁপিয়ে বাইরে চলে যায়। ২ মিনিট পর দারুণ একটি সুযোগ করে হাতছাড়া করে জুভেন্টাস।

আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে হঠাৎ করেই প্রাণ ফিরে আসে ম্যাচে। ৩৩ মিনিটে মেসি-এমবাপ্পের যুগলবন্দিতে শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। যদিও তা গোলের ঠিকানা খুঁজে নিতে ব্যর্থ হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেছিল দুই দল। তবে গোল মেলেনি। কুয়াদ্রাদোর দারুণ এক অ্যাসিস্টে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার লিওনার্দো বুনোচ্চির গোলে ম্যাচে ফিরে আসে স্বাগতিকেরা। সমতাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরও একই গতিতে চলছিল খেলা। জুভেন্টাস এ সময় কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল পিএসজিও। তবে দুই দলের আক্রমণগুলো শুধুই ডি-বক্সে এসেই আচড়ে পড়েছিল। তাতে আসেনি কাঙ্ক্ষিত গোলটি।

৬০ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ এসেছিল এমবাপ্পের সামনে। যদিও সেটি সাফল্যের দেখা পায়নি। তবে সেই এমবাপ্পের পাস থেকে ঠিকই দারুণ এক গোলে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন নুনো মেন্দেস।

এই হারে চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে কোনো জয় ছাড়াই প্রতিযোগিতা শেষ করল জুভেন্টাস। গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেনফিকা এবং রানার্সআপ হয়ে পরের পর্বে গেল পিএসজি।

ম্যান সিটির জয়

আর্লিং হলান্ডকে ছাড়া খেলতে নেমে গ্রুপ পর্বে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। ৩১ মিনিটে সেভিয়াকে এগিয়ে দেন রাফা মির। এই গোলেই বিরতিতে যায় দুদল। তবে বিরতির পর দারুণভাবে ফিরে আসে ইতিহাদের দলটি। রিকো লেউসের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় সিটি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকেই  গোল পেয়েছেন লেউস।  নিজের প্রথম গোলের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর ৩৪৬ দিন। এ যাত্রায় তিনি টপকেছেন করিম বেনজেমাকে। যার বয়স ছিল ১৭ বছর ৩৫২ দিন। এরপর সিটিকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলাভারেজ। আর ৮৩ মিনিটে সিটির হয়ে শেষ গোলটি করেন রিয়াদ মাহরজে।