কাতারে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন ফিরমিনো। ক্লাবের পারফরম্যান্সও কথা বলছিল তাঁর পক্ষে। তবে স্বপ্নপূরণের কোনো সুযোগ যে ফিরমিনো পাচ্ছেন না, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে তিতের দল ঘোষণার পর। ব্রাজিলের তারকাবহুল আক্রমণভাগে জায়গা হলো না ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের।

তিতের ঘোষিত দলে যে তারকা পতন হতে যাচ্ছে, সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আগেই। তারকায় ভরপুর আক্রমণভাগে সবাইকে রাখার উপায় ছিল না তিতের। বড় নামের মধ্যে কেউ একজনকে বাদ পড়তেই হতো। যেখানে জায়গা পেতে লড়াইটা চলছিল গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও ফিরমিনোর।

শেষ পর্যন্ত আর্সেনালের হয়ে আলো ছড়াতে থাকা জেসুসের ওপরই ভরসা রেখেছেন তিতে। নেইমারের নেতৃত্বে গড়া আক্রমণভাগে জেসুস ছাড়াও জায়গা পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া ও রিচার্লিসন। তবে এই তালিকা থেকে চার খেলোয়াড় বাছাই করে একাদশ সাজাতে মধুর সমস্যায় পড়তে হতে পারে তিতেকে।

দল ঘোষণার পর যাঁরা জায়গা পেয়েছেন, তাঁরা আনন্দে ভাসলেও, হতাশায় ভাসছেন ফিরমিনো। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় লিভারপুল ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘যাঁরা আমাকে ভালোবাসার বার্তা পাঠিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ। বিশ্বকাপ সব খেলোয়াড়ের জন্য স্বপ্নের ব্যাপার। আমার জন্যও তা ব্যতিক্রম নয়। গতকাল (সোমবার) আমি যেভাবে ভেবেছিলাম বা জীবনের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেভাবে বিষয়গুলো ঘটেনি।’

দলে জায়গা না পেয়ে হতাশ হলেও ভেঙে পড়তে চান না ফিরমিনো। বলেন, ‘পেছনে ফিরে তাকিয়ে আমি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ, তিনি আমাকে ইতিমধ্যে সেই স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছেন।’

বয়স বলছে পড়ন্ত বেলায় আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হয়তো আসতে পারে ফিরমিনোর সামনে। তবে ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগে তারুণ্যের যে জোয়ার, তা ভিন্ন ইঙ্গিতই দিচ্ছে। হয়তো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নটা অপূর্ণ রেখেই বিদায় বলতে হতে পারে ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য সব শিরোপা জেতা ফিরমিনোর।