কদিন আগেই ১০৬ বছরের একটি রেকর্ড ভেঙেছেন এন্দরিক। পালমেইরাসের এই ১৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবটির হয়ে গোল করেছেন। ছেলেটিকে এই সময়ের ব্রাজিলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফুটবলার ভাবছেন অনেকেই।
এন্দরিক অবশ্য বিশ্ব ফুটবলের নজরে এসেছেন আরও আগে।

এ বছরের জানুয়ারিতে পালমেইরাস যুব দলের হয়ে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিকে গোল করে সাড়া ফেলে দেন তিনি। তাঁকে পেতে ৭ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দেয় বার্সেলোনা। আগ্রহ দেখায় রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুলের মতো পরাশক্তিধর ক্লাবগুলোও। কিন্তু ব্রাজিল সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিজে দেশেই থেকে যেতে হবে এন্দরিককে।

এমন এক প্রতিভাকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে দেখতে চেয়েছিলেন রোনালদো। নিজের নামের ‘রোনালদো টিভি’র একটি সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আমি যদি দল নির্বাচনের অংশ হতাম, এন্দরিককে রাখতাম। আমি মনে করি, সে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়। এ বয়সেই দারুণ পেশাদার। ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এটা (বিশ্বকাপ দলের অংশ হওয়া) ওর জন্য চমৎকার অভিজ্ঞতা হতো। ব্রাজিল দলের ভবিষ্যতের জন্যও।’

কিশোর খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপ দলে রাখার গুরুত্ব জানাতে গিয়ে নিজেকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন রোনালদো। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। কৈশোরেই তাঁকে দলে রেখেছিলেন সে সময়ের কোচ কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা। রোমারিও–বেবেতোর মতো কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডদের ভিড়ে ওই বিশ্বকাপে মাঠে নামা হয়নি রোনালদোর। তবে বিশ্বকাপজয়ী দলের গর্বিত সদস্য ছিলেন।

সেই অভিজ্ঞতা কাজে দিয়েছে পরের বিশ্বকাপগুলোতে। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল ফাইনালে হেরে গেলেও রোনালদো হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। ২০০২ বিশ্বকাপের গল্প তো সবারই জানা। ৮ গোল করে পেয়েছেন গোল্ডেন বুট। ব্রাজিলকে এনে দিয়েছেন রেকর্ড পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা।

এন্দরিকের মতো কিশোরকে ফুটবল মহাযজ্ঞে দেখতে চাওয়ার কারণ রোনালদোর চেয়ে আর কে ভালো অনুধাবন করবেন। সে প্রসঙ্গ টেনেই বলেছেন, ‘সব ব্রাজিলিয়ানের দাবির পরও দুঙ্গা ২০১০ বিশ্বকাপে নেইমারকে দলে রাখেননি। এবারও আমি সে রকম কিছুর ঘাটতি দেখছি। তবে ১৯৯৪ সালে পাহেইরা আমাকে নিয়েছিলেন, ২০০২ সালে ফেলিপাও (লুইজ ফেলিপে স্কলারি) কাকাকে দলে রেখেছিলেন। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতের কথা ভেবে এন্দরিককে এবারের দলে নেওয়া উচিত ছিল।’

২৪ নভেম্বর সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা–অভিযানে নামবে তিতের ব্রাজিল। ‘জি’ গ্রুপে নেইমার–ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড ও ক্যামেরুন।