ষষ্ঠ শিরোপায় চোখ রেখে ২৪ নভেম্বর সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের আরেকটি বিশ্বকাপের অপেক্ষার ২০ বছর হতে চলল। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপিয়ানদের দাপটে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি সেলেসাওরা। ২০১৪ সালে নিজ দেশের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলায় ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের সর্বোচ্চ অর্জন।

সেই অচলায়তন ভাঙতে এবার তিতের অধীনে শক্তিশালী দল নিয়েই কাতার যাবে ব্রাজিল। লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপ। শিরোপা ছাড়া অন্য যেকোনো অর্জনই যে ব্রাজিলের জন্য ব্যর্থতা। সে লক্ষ্যে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজিয়েছেন তিতে। তারকাখ্যাতি থাকার পরও বিবেচনা করা হয়নি ফিরমিনোকে।

জায়গা হয়নি আর্সেনালের হয়ে ছন্দে থাকা ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগেলহায়েসেরও। গত সপ্তাহে ইউরোপ ভ্রমণ করে কাছ থেকে খেলোয়াড়দের খেলা পর্যবেক্ষণ করেছেন তিতে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই সাজিয়েছেন দলটি।

এবারের ব্রাজিল দলে তারকা ঘাটতি নেই মোটেই। গোলরক্ষকের পজিশনের জন্য লড়বেন প্রিমিয়ার লিগের দুই অন্যতম সেরা গোলরক্ষক আলিসন ও এদেরসন। এ ছাড়া অন্য গোলরক্ষক হিসেবে আছেন ওয়েভেরতন।

রক্ষণে দানিলো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, এদের মিলিতাও, থিয়াগো সিলভাদের থাকাটা অনুমেয়ই ছিল। তবে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানি আলভেস শেষ পর্যন্ত দলে থাকবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত আলভেসের অভিজ্ঞতায় ভরসা রেখেছেন তিতে। আলভেসকে দলে রাখা নিয়ে সমালোচনা হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিতে বলেছেন, ‘আমি এখানে যারা টুইটারে মত দেয় তাদের খুশি করতে আসিনি।’

তারকায় ভরপুর আক্রমণভাগ নিয়েই এবার বিশ্বকাপ মঞ্চে নামবে ব্রাজিল। নেইমারের সঙ্গে দারুণ ছন্দে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া, রিচার্লিসন এবং গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা। এই তালিকা থেকে চার খেলোয়াড় বাছাই করে একাদশ সাজাতে মধুর সমস্যায় পড়তে হতে পারে তিতেকে।

২৬ সদস্যের ব্রাজিল দল

গোলরক্ষক

আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ম্যান সিটি), ওয়েভেরতন (পালমেইরাস)।

ডিফেন্ডার

অ্যালেক্স সান্দ্রো (জুভেন্টাস), অ্যালেক্স তেলেস (সেভিয়া), দানি আলভেস (পুমাস), দানিলো (জুভেন্টাস), থিয়াগো সিলভা (চেলসি), মার্কিনিওস (পিএসজি), এদের মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ), ব্রেমের (জুভেন্টাস)।

মিডফিল্ডার

কাসেমিরো (ম্যান ইউনাইটেড), ফাবিনিও (লিভারপুল), ফ্রেদ (ম্যান ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), লুকাস পাকেতা (ওয়েস্ট হাম), এভারতন রিভেইরো (ফ্ল্যামেঙ্গো)।

ফরোয়ার্ড

নেইমার (পিএসজি), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), আন্তনি (ম্যান ইউনাইটেড), রদ্রিগো (রিয়াল মাদ্রিদ), গ্যাব্রিয়েল জেসুস (আর্সেনাল), রিচার্লিসন (টটেনহাম), পেদ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল)।