default-image

নেপাল মানেই তাই বাংলাদেশের জন্য হারের আতঙ্ক। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও তারাই এগিয়ে। তার ওপর নেপালের মেয়েরা খেলছেন নিজেদের মাঠে। এবারের টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই তাই বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল অন্তত ফাইনালের আগে যেন নেপালের মুখোমুখি হতে না হয়। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেটা করেছেও বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে ভুটানকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নেপালকে তারা পাচ্ছে ফাইনালে এসে।

গত পাঁচ আসরের তুলনায় এবারের সাফে বাংলাদেশ খেলছে মনভরানো ফুটবল। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে বাংলাদেশের জালে গোল দিতে পারেনি কোনো দলই। অন্যদিকে বাংলাদেশ দিয়েছে ২০ গোল। রক্ষণে আঁখি খাতুন, মাসুরা পারভীন, শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহার চীনের প্রাচীর তুলে রাখেন প্রতি ম্যাচেই। মাঝমাঠে আস্থার নাম মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমা। ‘পারফেক্ট নাম্বার টেন’ হয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন স্ট্রাইকার সিরাত জাহান।

ডান পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগায় অবশ্য সেমিফাইনালে মাত্র ১৩ মিনিট খেলেই মাঠ ছাড়তে হয় সিরাতকে। কোচ গোলাম রব্বানী তবু আজ ম্যাচ শুরুর আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান তাঁর জন্য। বাংলাদেশের রিজার্ভ বেঞ্চও যথেষ্ট শক্তিশালী। ঋতুপর্ণা, তহুরা খাতুনেরা বদলি নেমেও গোল পাচ্ছেন।

default-image

বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি—নেপালের মূল অস্ত্র সাবিত্রা ভান্ডারি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। এই ক্ষিপ্র গতির ফরোয়ার্ডের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৪০টি আন্তর্জাতিক গোল। যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সাবিত্রা একাই যথেষ্ট। কিন্তু জ্বরে তিনি এতটাই কাবু যে আজ তাঁর মাঠে নামা নিয়েই সংশয়। অবশ্য সাবিত্রার অনুপস্থিতিতে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন রাশমি কুমারী ঘিসিংও।

গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেপালের ২-১ গোলের জয়ে গোল করেছিলেন সাবিত্রা ও প্রীতি। এবারও সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে প্রীতির গোলেই জিতেছে স্বাগতিকেরা। ভারতের সেতু এফসিতে ও মালদ্বীপের লিগে খেলা অনিতা ভুটানের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল। তবে বাংলাদেশের মেয়েরাও টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলছেন। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আজ শেষটাও শিরোপা উৎসব দিয়েই করতে পারেন তাঁরা।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গত পাঁচ আসরের সব কটিতেই চ্যাম্পিয়ন ভারত। এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে সাফ। সাবিনার দৃষ্টিটা যেমন ট্রফিতে, নেপালের কোচ কুমার থাপা চান তাঁর অধিনায়ক আনজিলা তুমবাপো সুব্বার হাতেই উঠুক সেটি, ‘আমরা সুযোগটা নষ্ট করতে চাই না। তিন বছর ধরে এটার অপেক্ষায় ছিলাম। আশা করি আমরাই জিতব।’

default-image

নেপাল এমনিতেই ফুটবলপ্রেমী জাতি। মেয়েরা ফাইনালে ওঠায় দেশটির ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা যেন বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। সেমিফাইনালে গ্যালারিতে ছিলেন হাজার দশেক দর্শক। আজও দশরথ স্টেডিয়ামের গ্যালারি উপচে পড়বে, সন্দেহ নেই। টিকিটের জন্য তো এরই মধ্যে হাহাকার লেগে গেছে।

কাঠমান্ডুর ট্যাক্সি ড্রাইভার সুরেন্দ্র মহারজন থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর কর্মচারী সামিন তামাং—ফাইনাল দেখতে কাজ থেকে ছুটি নিতে চান সবাই। স্থানীয় একটি হোটেলের ম্যানেজার বুদ্ধলাল বলছিলেন, ‘ব্ল্যাকে হলেও টিকিট কিনব। স্মরণীয় ম্যাচটা মাঠে বসে দেখতে চাই।’

নেপালের দ্য সোলটি কাঠমান্ডু হোটেলের পেছন দিকটা পাহাড়ঘেরা। দিনের প্রথম আলোয় কীভাবে সোনারঙা আগুন জ্বলে পাহাড়চূড়ায়, তা হোটেলের জানালা দিয়েই স্পষ্ট দেখতে পান সাবিনা খাতুনেরা। কৃষ্ণা, মারিয়ারাও এখন সে রকমই এক চূড়ায় ওঠার অপেক্ষায়। নেপালেই যখন গেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের হিমালয়চূড়াটাতে কেন উঠবেন না তাঁরা!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন