এবারও বিশ্বকাপে ফেবারিট ব্রাজিল। নেইমারও সেটিই মনে করেন। তবে নিজ দেশের সঙ্গে পিএসজি সতীর্থ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকেও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম যোগ্য দল হিসেবে মানেন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার পাশাপাশি তাঁর দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ জেতায় দুটি যোগ্যতাসম্পন্ন দল হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন।

একই সঙ্গে তিনি এ-ও মনে করেন, বিশ্বকাপ এতটাই চমক নিয়ে অপেক্ষা করে যে এই আসরে প্রত্যাশার বাইরে থেকেও অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। আবার প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও কিছু দল দ্রুতই বিদায় নেয় শিরোপার লড়াই থেকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে চমকের কোনো অভাব নেই। এখানে এমন দল দেখা যায়, প্রত্যাশা তেমন না থাকার পরও অনেক দূর যায়। আবার অনেক ফেবারিট বিদায় নেয় দ্রুতই। আমি মনে করি, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সঙ্গে আর্জেন্টিনাও ফেবারিট। ফেবারিট ফ্রান্স ও স্পেনও।’

ইংল্যান্ডকে খুব ছোট করে দেখছেন না নেইমার। তিনি মনে করেন, হ্যারি কেইন ও জেডন সানচোর উপস্থিতি দলটার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, ‘আমি ইংল্যান্ডের কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। তাদের হ্যারি কেইন ও জেডন সানচোর মতো দুজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে। ইংল্যান্ডেরও ভালো করার সুযোগ আছে।’

১৯৯৪ সালে ব্রাজিল যখন বিশ্বকাপ জিতল, তখন নেইমারের বয়স মাত্র দুই। সেই উৎসবের কিছুই মনে নেই তাঁর। পরে যা দেখার ভিডিওতে দেখেছেন। রোমারিও, বেবেতো, ব্র্যাঙ্কো, তাফারেল, দুঙ্গাদের শিরোপা জয়ের সেই উৎসব তাঁকে নাড়া দেয়।

১৯৯৮ সালে রোনালদো নাজারিও, রবার্তো কার্লোস, কাফু, রিভালদোরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের আগে রোনালদোর অসুস্থ হওয়া, ফাইনালে জিনেদিন জিদানের জোড়া গোল আর ইমানুয়েল পেতিতের গোলে ৩-০ ব্যবধানে ব্রাজিলের উড়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো ছয় বছর বয়সী নেইমারের হয়তো পরিষ্কার মনে নেই।

তবে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের উৎসব করেছিলেন ১০ বছর বয়সে। এরপর তিনি খেলোয়াড় হয়েছেন, পেয়েছেন তারকাখ্যাতি। ব্রাজিলের জার্সিতে তিনটি বিশ্বকাপ খেলে ফেললেও দেশকে সেভাবে কিছুই দিতে পারেননি। এবার পারবেন কি না, সেটি ভবিষ্যৎই বলে দেবে।