বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পছন্দের স্ট্রাইকার কে—মার্তিনেজ নাকি আলভারেজ
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা দল নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—লিওনেল স্কালোনি কাকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে প্রথম একাদশে খেলাবেন? হুলিয়ান আলভারেজ নাকি লাওতারো মার্তিনেজ? দুই তারকাই এখন কোচিং স্টাফের জন্য মধুর সমস্যা। দুজনেই নিজ নিজ ক্লাবে দারুণ ছন্দে আছেন এবং স্ট্রাইকার হিসেবেও বিশ্বমানের।
আগামী শনিবার হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোটের কারণে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা আলভারেজকে পাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। ফলে শুরুর একাদশে ইন্টার মিলান তারকা মার্তিনেজের থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপ থেকে অবশ্য আর্জেন্টিনার মূল স্ট্রাইকার হিসেবে বেশির ভাগ ম্যাচে একাদশে জায়গা পেয়েছেন আলভারেজ। এবারের বিশ্বকাপেও কি তাঁর ওপরই ভরসা রাখবেন স্কালোনি?
কাতার বিশ্বকাপে দলের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে গিয়েছিলেন মার্তিনেজ। কিন্তু গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন জয়ের পর মার্তিনেজের জায়গাটা কেড়ে নেন আলভারেজ। মার্তিনেজের তুলনায় ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড় আলভারেজ। গতি বেশি এবং প্রেসিংয়েও তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর। এ দুটি বিষয় তাঁকে দলে নিয়মিত জায়গা পেতেও সাহায্য করেছে। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগে আলভারজের বোঝাপড়া এককথায় দুর্দান্ত ছিল।
বিশ্বকাপে দলের আস্থার প্রতিদানও মাঠে দারুণভাবে দিয়েছিলেন আলভারেজ। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে দলকে জেতান। শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও গোল পান। এরপর সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ২৬ বছর বয়সী এ তরুণ।
সেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মার্তিনেজকেও ভালোই সুযোগ দিয়েছেন স্কালোনি। কিছু ম্যাচে অবশ্য দুজনকে একসঙ্গে আক্রমণভাগে ব্যবহার করা হয়েছে, বিশেষ করে যখন মেসি দলে ছিলেন না। ২০২৪ কোপা আমেরিকার পরিসংখ্যান আবার অন্য রকম। এই টুর্নামেন্টে ৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন মার্তিনেজ। কিন্তু আর্জেন্টিনার ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে প্রথম একাদশে ছিলেন।
প্রথম ম্যাচটি ছিল পেরুর বিপক্ষে, যেখানে স্কালোনি মূলত দ্বিতীয় সারির দল খেলান। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচেও মার্তিনেজকে একাদশে রাখেন স্কালোনি। অন্যদিকে আলভারেজ তুলনামূলক বেশি মিনিট খেলেন এবং কানাডার বিপক্ষে দুটি গোল করেন।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ধাপে লিওনেল মেসি চোটের কারণে বারবার অনুপস্থিত থাকায় মিডফিল্ডারদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সময়ে লিয়ান্দ্রো পারেদেস আবারও মাঝমাঠে নিজের জায়গা ফিরে পান আর থিয়াগো আলমাদা ২০২৫ সালে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমারদের একজন হিসেবে উঠে আসেন। ফলে আক্রমণভাগে সাধারণত একজন স্ট্রাইকারের জন্যই জায়গা থাকত, আর সেই ভূমিকায় বেশির ভাগ সময় খেলেছেন আলভারেজ।
এর মধ্যে মার্তিনেজ আবার পেশির চোটেও পড়েন। যে কারণে বাছাইয়ে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে খেলতে পারেননি। চিলি ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দলে ডাক পেলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি ২৮ বছর বয়সী মার্তিনেজ।
চোটের কারণে এ বছরও আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ দুটিতে খেলতে পারেননি মার্তিনেজ। সেই চোটেই ইন্টার মিলানের মৌসুমের শেষ অংশে উল্লেখযোগ্য সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। তবে শারীরিক সমস্যার মধ্যেও মার্তিনেজ দারুণ কার্যকর ছিলেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে ২২ গোল করেন এবং ৬ গোলে সহায়তা করেন।
‘দ্য স্পাইডার’ খ্যাত আলভারেজও গোলের হিসেবে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়েছেন। তাঁর দল আতলেতিকো বড় কোনো শিরোপা না জিতলেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে আলভারেজ করেন ২০ গোল—এর অর্ধেক গোলই এসেছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৯টি গোল।
গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লিগে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পরও আলভারেজের এই পরিসংখ্যান বেশ উল্লেখযোগ্য। সেই কঠিন সময় কাটিয়ে আলভারেজ মৌসুমের বাকি অংশে আবারও নিজের গোল করার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোট পান আলভারেজ। সেই চোট নিয়েই ব্যথানাশক ওষুধের সহায়তায় ফিরতি লেগ খেলতে হয় তাঁকে। পরে লা লিগা মৌসুমের বাকি অংশটা তাঁকে গ্যালারি থেকেই দেখতে হয়েছে।
তবে বিশ্বকাপে আলভারেজের খেলা নিয়ে শঙ্কা নেই। ইতিমধ্যে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন। তবু শারীরিকভাবে তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকায় আগামী শনিবার টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইল ফিল্ডে হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার সম্ভাবনা বেশি মার্তিনেজের।
শেষ পর্যন্ত দুজনই পুরোপুরি ফিট থাকলে স্কালোনির দলে হয়তো প্রথম পছন্দ হতে যাচ্ছেন নয় নম্বর জার্সি পরে খেলা আলভারেজ। এ পরিস্থিতি অনেকটা কাতার বিশ্বকাপের আগে ২২ নম্বর জার্সি পরে খেলা মার্তিনেজকে ঘিরে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক তেমনই। সেবারও আলভারেজ মার্তিনেজের জায়গা দখল করেন। এবার কি তবে মার্তিনেজের দখল নেওয়ার পালা? উত্তরটা সময়ই দেবে।