ডেভিড ভিয়া, ২০১৩

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ডেভিড ভিয়ার বয়স তত দিনে ৩১ হয়ে গেছে। আক্রমণভাগে তারুণ্যের উপস্থিতি বাড়াতে সান্তোস থেকে নেইমারকে নিয়ে আসছে বার্সেলোনা। আগে থেকেই ছিলেন লিওনেল মেসি, আলেক্সিস সানচেজ, পেদ্রোরা।

ওদিকে মোনাকোতে চলে যাওয়া রাদামেল ফ্যালকাওয়ের জন্য বিকল্প খুঁজছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। দুই ক্লাবের প্রয়োজনের সূত্রে ঘটে ভিয়ার দলবদল। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে তাঁকে ৫১ লাখ ইউরোয় আতলেতিকোর কাছে বিক্রি করে দেয় বার্সা।

তবে ভিয়াকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত পরের মৌসুমেই বার্সেলোনাকে ‘ব্যাকফায়ার’ করে। মৌসুমের শেষ ম্যাচে বার্সেলোনা সঙ্গে ১–১ ড্র করে লা লিগা জেতে আতলেতিকো। ভিয়া করেন ১৩ গোল।

আতলেতিকোকে চ্যাম্পিয়নস লিগ তোলার পথেও অবদান রাখেন ভিয়া। যার মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সাকে হারায় আতলেতিকো। এমনকি ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেও গোল করেন ভিয়া। যদিও শেষ পর্যন্ত ৪–১ ব্যবধানে হেরে যায় আতলেতিকো। যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসে যাওয়ার আগে এটিই ছিল ভিয়ার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতম বছর।

আর্দা তুরান, ২০১৬

২০১৩ সালে আতলেতিকোর লা লিগা জয় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ রানার্সআপ হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল আর্দা তুরানের। টার্কিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের দিকে তখন থেকেই দৃষ্টি ছিল বার্সেলোনার। নানা জটিলতা পার করে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ক্যাম্প ন্যুতে যোগ দেন তিনি। কিন্তু এসেই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেন।

২০১৫–১৬ মৌসুমের বাকি অংশে খেলেন ১৮ ম্যাচ, এর অর্ধেকই নামেন বদলি হিসেবে। আতলেতিকোর ছন্দ বার্সায় টেনে আনতে তো পারেনইনি, উল্টো চোটে পড়ে মাঠ থেকেই ছিটকে যান। ২০১৬–১৭ মৌসুমেও খেলতে পারেন মোটে ১৮ ম্যাচ। সব মিলিয়ে ২০১৭–১৮ মৌসুমে বেসিকতাসে চলে যাওয়ার আগে তাঁর অবদান ৫৫ ম্যাচে ১৫ গোল। ৩ কোটি ৪০ লাখ ইউরোয় কেনা তুরানকে বার্সা ইতিহাসের অন্যতম ফ্লপ ক্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লুইস সুয়ারেজ ২০২০

চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮–২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর খোলনলচে বদলে ফেলার চেষ্টা করেছিল বার্সেলোনার। সেই চেষ্টায় বড় ‘বলি’ ছিলেন লুইস সুয়ারেজ। মেসি, নেইমারদের সঙ্গে দুর্দান্ত এক আক্রমণভাগের সঙ্গী হয়ে ওঠা সুয়ারেজ বাধ্য হয়ে চোখের জলে ক্যাম্প ন্যু ছাড়েন।

বার্সেলোনা ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোল করা সুয়ারেজকে দলে ভেড়ায় আতলেতিকো। এবারও ঘটে ডেভিড ভিয়ার মতো ঘটনা। সুয়ারেজকে নিয়ে ২০২০–২১ মৌসুমের লা লিগা জেতে আতলেতিকো, উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার করেন ২১ গোল। সুয়ারেজকে বের করে দেওয়া বার্সেলোনা সেবার লিগে হয় তৃতীয়।

আঁতোয়ান গ্রিজমান, ২০১৯

১২ কোটি রিলিজ ক্লজ দিয়ে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে গ্রিজমানকে দলভুক্ত করে বার্সেলোনা। আতলেতিকোর হয়ে তিন বছরের মধ্যে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ রানার্সআপ ও ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করা এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ছিল বার্সা। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে এসে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ২০১৯–২০ মৌসুমে লা লিগায় মাত্র ৯ গোল করেন গ্রিজমান, যা ছিল শেষ আট মৌসুমের মধ্যে তাঁর সর্বনিম্ন।

পরের বছর অবশ্য একটু ভালো করেন, গোল করেন ১৩টি। তবে গ্রিজমানের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। একপর্যায়ে নিজেও হতাশ হয়ে পড়েন গ্রিজমান। যে দুই বছর বার্সায় কাটিয়েছেন, ওই দুই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকোর কাছে পিছিয়ে লা লিগা শেষ করে বার্সা, চ্যাম্পিয়নস লিগে হেরে যায় বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজির কাছে।

গ্রিজমান, ২০২১

দুই মৌসুম প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়ার পর ২০২১ সালের আগস্টে গ্রিজমানকে ধারে আতলেতিকোয় পাঠিয়ে দেয় বার্সেলোনা। শেষ পর্যন্ত গত বছরের অক্টোবরে স্থায়ীভাবে আতলেতিকোর হয়ে যান গ্রিজমান। ১২ কোটি দিয়ে কেনা গ্রিজমানের জন্য মাত্র ২০ লাখ ইউরো পায় বার্সা।