ম্যারাডোনার সংকটাপন্ন জীবনকে উপেক্ষা করেছিলেন চিকিৎসকেরা, আদালতে বললেন সাক্ষী

প্রয়াত আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাএএফপি

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা ২০২০ সালে মৃত্যুর আগে বুয়েনস এইরেসে একটি ভাড়া বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তখন তাঁর জীবন যে সংকটাপন্ন ছিল, সেই উপসর্গ দেখা গেলেও চিকিৎসকেরা উপেক্ষা করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার আদালতের বিচারকাজে শুনানিতে এ কথা বলেছেন এক সাক্ষী।

’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তির মৃত্যুর ঘটনায় সম্ভাব্য অবহেলার অভিযোগে সাত স্বাস্থ্যকর্মী গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আর্জেন্টিনায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর হৃদ্‌রোগ এবং ‘অ্যাকিউট পালমোনারি ইডিমা’ (ফুসফুসে তরল জমে যাওয়া) কারণে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা।

ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি আদালতকে জানান, তিনি ম্যারাডোনার হাত-পায়ের আঙুলে ফোলা ভাব, পায়ের নিচের অংশে ইডিমা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃৎস্পন্দনের মতো কিছু ‘সতর্কসংকেত’ লক্ষ করেছিলেন।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ডিয়েগো ম্যারাডোনা
এএফপি

বুয়েনস এইরেসের উত্তরে অবস্থিত সান ইসিদ্রো আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে কাসিনেল্লি বলেন, ‘ওই ফোলা ভাব কী কারণে হয়েছিল, তা দেখতে কেউ যায়নি’ অথচ এটি ‘জীবন নিয়ে ঝুঁকির’ কারণ ছিল। ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা নির্ধারণ করতে বিভিন্ন নথি ও জবানবন্দি বিশ্লেষণ করা মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য কাসিনেল্লি।

আদালতকে কাসিনেল্লি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, চিকিৎসকেরা এই সতর্কসংকেতগুলো আমলে নেননি; কারণ, তাঁদের চিকিৎসাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়নি।’

আরও পড়ুন

কাসিনেল্লির মতে, ম্যারাডোনাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। কাসিনেল্লির ভাষায়, ‘তাঁর অবস্থার অবনতি ধীরে ধীরে ঘটছিল...চাইলে সতর্কবার্তা জারি করা যেতে পারত।’

ইতালিয়ান ফুটবলে নাপোলিকে শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাতারে তুলে এনেছিলেন ম্যারাডোনা
রয়টার্স

ম্যারাডোনা মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা তীব্র যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যান বলে আদালতকে জানিয়েছেন কাসিনেল্লি। তবে মামলার বিবাদীপক্ষের ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বছরের পর বছর কোকেন ও অ্যালকোহলে আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা ম্যারাডোনার মৃত্যু স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো দায় নেই। আগস্ট মাসের পরও এই বিচারকাজ চলতে পারে।

আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতানো ম্যারাডোনা সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিকে দুবার লিগ জিতিয়ে বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোর কাতারে তুলে এনেছিলেন কিংবদন্তি।

আরও পড়ুন