আপনি কি আমার খেলা দেখেননি? সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন রোনালদোর
ছন্দ না থাকলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এখন যেমন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে উঠছে। বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ দুই ম্যাচে চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোলের কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছেন রোনালদো।
প্রশ্ন উঠছে, রোনালদো এই পর্তুগালের জন্য অপরিহার্য কি না? সামর্থ্যের দিক থেকে প্রশ্ন ছিল না কখনোই। কিন্তু ফিটনেসের দিক থেকে কি তিনি প্রস্তুত?
পর্তুগাল দল বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেওয়ার আগে লিসবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে সরাসরি রোনালদোর দিকেই ধেয়ে গেছে ফিটনেসের প্রশ্নটি। ৪১ বছর পর্তুগিজ তারকা জবাবটা দিয়েছেন পাল্টা প্রশ্নে, ‘শারীরিক অবস্থা? আমি ভালো আছি। আপনি কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি?’
পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি। বিশ্বমঞ্চে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৬৬ সালে তৃতীয় হওয়া। এবার সেটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা পর্তুজিদদের। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড তাদের।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের (২১টি) রেকর্ড গড়া ব্রুনো ফার্নান্দেজ আছেন, যিনি এবার লিগের মৌসুমসেরার পুরস্কারও জিতেছেন। এ ছাড়া নিজেদের জায়গায় বর্তমানের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, বের্নার্দো সিলভা ও গনসালো রামোসরাও আছেন পর্তুগাল দলে।
এমন দারুণ একটা দল নিয়ে কি অধরা বিশ্বকাপ ট্রফিটা কি ছুঁতে পারবেন রোনালদো? পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বলছেন, ‘টুর্নামেন্ট শেষেই দেখা যাবে। আমরা খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বিশ্বকাপও বিশেষ টুর্নামেন্ট, আমরা অনেক আশা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। আমাদের এই ফুটবল প্রজন্মটা দারুণ। তবে ম্যাচের কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। জয় বা পরাজয়ই এখানে আসল বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রজন্মের ফুটবলাররা পর্তুগালের মানুষদের অনেক আনন্দ দেবে।’
দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও রোনালদো খুশি, ‘প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে, তবে কিছুটা ক্লান্তিকরও। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোতে দাপটের সঙ্গে খেলেছি। ১৭ তারিখ প্রথম ম্যাচে যখন বল গড়াবে এবং চাপ বাড়তে শুরু করবে, তখনই আসল চ্যাম্পিয়নদের চেনা যাবে।’
চলতি মৌসুমে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগ জেতা রোনালদো ভালো শুরুর ওপর জোর দিয়েছেন, ‘মূল বিষয় হলো ভালো শুরু এবং গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করা। এরপর প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে ধাপে ধাপে এগোতে হবে, শান্ত থেকে আত্মবিশ্বাস ও নিজেদের ছন্দ খুঁজে নিতে হবে। এতে অনেক বিষয় জড়িত, তবে আমি খুব আশাবাদী যে সবকিছু ভালোভাবেই কাটবে।’
গ্রুপ ‘কে’–তে ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।